Kolkata Hospital Success Story: ৪ দিনের নবজাতকের বিরল অস্ত্রোপচার! ত্রিপুরার শিশুর প্রাণ বাঁচাল কলকাতার হাসপাতাল

Kolkata Hospital Success Story: চার দিনের লড়াই শেষে জয়: এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে কলকাতায় এনে নবজাতকের বিরল অস্ত্রোপচার সফল, বাঁচল প্রাণ। আর সেই কাজটা করল কলকাতার হাসপাতাল।

Published on: Sep 24, 2026, 19:02:28 IST
By
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Kolkata Hospital Success Story: বিরল অস্ত্রোপচার করে ত্রিপুরার সদ্যোজাতের প্রাণ বাঁচাল কলকাতার হাসপাতাল।আগরতলায় জন্ম নেওয়া এক শিশুর পেটের দেওয়ালের ত্রুটির কারণে অন্ত্রের একটি বড় অংশ বাইরে বেরিয়ে এসেছিল। চিকিৎসার পরিভাষায় এই জটিল ও বিরল জন্মগত ত্রুটিকে বলা হয় 'ওম্ফালোসিল' (Omphalocele)। জন্মের চতুর্থ দিনে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে শিশুটিকে নিয়ে আসা হয় কলকাতার হাসপাতালে। সেই শিশু সুস্থ হয়ে উঠেছে।

চারদিনের নবজাতকের বিরল অস্ত্রোপচার! ত্রিপুরার শিশুর প্রাণ বাঁচাল কলকাতার হাসপাতাল। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে জেমিনাই দিয়ে তৈরি করা)
চারদিনের নবজাতকের বিরল অস্ত্রোপচার! ত্রিপুরার শিশুর প্রাণ বাঁচাল কলকাতার হাসপাতাল। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে জেমিনাই দিয়ে তৈরি করা)

জীবন সংকটে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে যাত্রা

কলকাতার মুকুন্দপুরের মণিপাল হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, আগরতলায় শিশুটি যখন জন্মায়, তখনই চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন যে তার চিকিৎসার জন্য উন্নত পরিকাঠামো সমৃদ্ধ নিওনেটাল কেয়ার ইউনিট (NICU) এবং পেডিয়াট্রিক সার্জারি টিমের জরুরি সাহায্য প্রয়োজন। পেটের ভিতরে অন্ত্র ধরে রাখার জন্য যে প্রাচীর থাকে, তা ঠিকমতো তৈরি না হওয়ায় তা বাইরে উন্মুক্ত অবস্থায় ছিল। জন্মের পর চার দিন এই বিপজ্জনক অবস্থায় কেটে যাওয়ার পর শিশুটিকে দ্রুত কলকাতায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আকাশে উড়ে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে শিশুটিকে কলকাতায় আনা হয়।

দ্রুত স্থিতিশীল করা ও জরুরি মূল্যায়ন

হাসপাতালে NICU-তে ভর্তি করা হয় শিশুকে। হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, চিকিৎসকদের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল নবজাতককে স্থিতিশীল করা এবং বাইরে বেরিয়ে থাকা অন্ত্রের অংশগুলির শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করা। দীর্ঘ সময় ধরে অন্ত্র বাইরের পরিবেশের সংস্পর্শে থাকলে সেখানে জল জমে ফুলে যায়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ইডিমা’ (Edema) বলা হয়। অন্ত্র মারাত্মকভাবে ফুলে গেলে সেটিকে আবার নিরাপদে পেটের ভিতর ফিরিয়ে দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এই ধরনের জটিলতায় সাধারণত দুই দফায় বা ধাপে ধাপে অস্ত্রোপচার করতে হয়।

তবে আশ্চর্যজনকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা দেখেন, চার দিন পেরিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও শিশুটির বাইরে বেরিয়ে থাকা অন্ত্রের টিস্যু বা অংশগুলি যথেষ্ট তাজা, সুস্থ ও নমনীয় অবস্থায় রয়েছে। ফলে চিকিৎসকরা ঝুঁকি নিয়ে একটিমাত্র অস্ত্রোপচারের মাধ্যমেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেন।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে সফল অস্ত্রোপচার

হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, শিশুটি আসার পরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শুরু হয় অস্ত্রোপচার। শিশুটির চিকিৎসা সম্পন্ন হয় শুভাশিস সাহা (ক্লিনিক্যাল লিড – পেডিয়াট্রিক সার্জারি ও পেডিয়াট্রিক ইউরোলজি) এবং অতনু কুমার জানার (নিওনেটাল ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান, পেডিয়াট্রিশিয়ান ও নিওনেটোলজিস্ট) তত্ত্বাবধানে। পুরো অন্ত্রটিকে পেটের ভিতরে সঠিকভাবে স্থাপন করে এবং পেটের দেওয়াল সেলাই করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে। ফলস্বরূপ, শিশুটিকে দ্বিতীয়বার কঠিন অস্ত্রোপচারের ধকল সহ্য করতে হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতামত ও চ্যালেঞ্জ

চিকিৎসার এই সাফল্য সম্পর্কে শুভাশিস সাহা বলেন, 'ওম্ফালোসিলের চিকিৎসায় পেটের ত্রুটির মাত্রা, বাইরে থাকা অন্ত্রের অবস্থা এবং নবজাতকের সার্বিক স্বাস্থ্য বিচার করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আদর্শগতভাবে, এই শিশুদের দ্রুত বিশেষায়িত কেন্দ্রে আনা দরকার। এই শিশুটি চতুর্থ দিনে এলেও তার অন্ত্র ভালো অবস্থায় থাকায় আমরা একবারে একক অস্ত্রোপচারের (Primary Repair) মাধ্যমেই চিকিৎসা শেষ করতে পেরেছি। অস্ত্রোপচারের পর শিশুটি খুব সুন্দরভাবে সুস্থ হয়ে উঠছে, যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।'

অস্ত্রোপচার পরবর্তী সংকট ও পরিচর্যা সম্পর্কে অতনু কুমার জানা জানান, 'ওম্ফালোসিল আক্রান্ত শিশুদের পেটের ভেতরটা বেশ ছোট ও অপরিণত থাকে। ফলে অন্ত্র ভেতরে স্থানান্তরের পর পেটের ভেতরের চাপ বাড়ে, যা ফুসফুসে চাপ দিয়ে শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা তৈরি করতে পারে। এটিই ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অস্ত্রোপচারের পর ফুসফুসের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা বজায় রাখা, সংক্রমণ আটকানো এবং সঠিক পুষ্টি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছিল প্রধান লক্ষ্য। সৌভাগ্যবশত, শিশুটির অন্য কোনো জন্মগত জটিলতা ছিল না, তাই সে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছে।'