Kolkata ISI Sleeper Cell: কলকাতায় ISI-এর স্লিপার সেলের ছক? রানা রউফের পর এসটিএফের জালে ইমরান

সোমবার তপসিয়ার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে ইমরানকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক দাবি, রানা রউফ যে ভারতীয় পাসপোর্ট তৈরির চেষ্টা করছিল, তাতে সক্রিয়ভাবে সাহায্য করছিল ইমরান।

Published on: Aug 17, 2026, 12:21:11 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

কলকাতা শহরে বসেই আইএসআইয়ের নেটওয়ার্ক বিস্তারের অভিযোগ। পরিকল্পনা ছিল স্লিপার সেল তৈরি থেকে শুরু করে একাধিক নাশকতামূলক কার্যকলাপের। তবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফের হাতে গ্রেপ্তার হয় চক্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তথা সন্দেহভাজন আইএসআই এজেন্ট রানা রউফ। এবার তাঁর সূত্র ধরেই তপসিয়া থেকে গ্রেপ্তার হল আরও এক যুবক, ইমরান।

রানা রউফ যে ভারতীয় পাসপোর্ট তৈরির চেষ্টা করছিল, তাতে সক্রিয়ভাবে সাহায্য করছিল ইমরান।
রানা রউফ যে ভারতীয় পাসপোর্ট তৈরির চেষ্টা করছিল, তাতে সক্রিয়ভাবে সাহায্য করছিল ইমরান।

সোমবার তপসিয়ার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে ইমরানকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক দাবি, রানা রউফ যে ভারতীয় পাসপোর্ট তৈরির চেষ্টা করছিল, তাতে সক্রিয়ভাবে সাহায্য করছিল ইমরান। শুধু তাই নয়, ভুয়ো নথিপত্র ব্যবহার করে পাসপোর্ট তৈরির সঙ্গে ইমরানের সরাসরি যোগ রয়েছে বলেও জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা।

তদন্তে উঠে এসেছে, ইমরান একা কাজ করছিল না। তার সঙ্গে আরও দু’একজন যুক্ত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তদন্তকারীরা। তাদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ফলে রানা রউফকে কেন্দ্র করে গোটা চক্রের পরিধি আরও বড় হতে পারে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।

গত সপ্তাহে হাবড়া থেকে রানা রউফ নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক তদন্তে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, রানা আদতে পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের বাসিন্দা। অভিযোগ, বড় হওয়ার পর সে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়। এরপর ২০১২ সালে ভুয়ো নথিপত্রের সাহায্যে ভারতে প্রবেশের আগে কয়েক বছর নেপালেও অবস্থান করেছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

এসটিএফের দাবি, ভারতে আসার পর রানা ভারতীয় সেনা এবং রেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্য পাকিস্তানে সরবরাহ করত। তাঁর কাছ থেকে পাকিস্তানি পাসপোর্ট সংক্রান্ত তথ্যও পেয়েছেন তদন্তকারীরা। সেই পাসপোর্টের নম্বর ইতিমধ্যেই পুলিশের হাতে এসেছে বলে জানা গিয়েছে।

তদন্তকারীদের মতে, ঢাকার মাধ্যমে করাচি যাওয়ার পরিকল্পনাও ছিল রানার। বিমানের টিকিট কাটার জন্য সে আগেই নিজের পাকিস্তানি পাসপোর্ট ঢাকায় পাঠিয়ে দিয়েছিল বলে সূত্রের দাবি। সেই পাসপোর্ট নম্বরের সূত্র ধরে আরও তথ্য সংগ্রহ করছেন গোয়েন্দারা।

অন্যদিকে, রাজ্যে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই রানা ভারতীয় পাসপোর্ট তৈরির চেষ্টা করছিল বলে তদন্তে জানতে পেরেছে এসটিএফ। এই কাজে তপসিয়ার ইমরান এবং আরও কয়েকজন তাকে সাহায্য করছিল বলে অভিযোগ। ভারতীয় পরিচয় প্রতিষ্ঠার জন্য ভুয়ো নথিপত্র তৈরির এই চক্রই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

তদন্তকারীদের দাবি, ইমরান ভুয়ো নথি তৈরি করে পাসপোর্ট বানানোর কাজে যুক্ত ছিল। এই কাজে তার সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের সন্ধানেও তল্লাশি চালাচ্ছেন গোয়েন্দারা।

রানা রউফকে গ্রেপ্তারের পরই যে নেটওয়ার্কের খোঁজ মিলেছিল, ইমরানের গ্রেপ্তারির ফলে সেই তদন্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। কলকাতায় বসে কীভাবে ভুয়ো পরিচয় তৈরি, পাসপোর্ট জালিয়াতি এবং সম্ভাব্য আইএসআই নেটওয়ার্ক পরিচালনার চেষ্টা চলছিল, এখন সেটাই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, রানা ও ইমরানের সঙ্গে আর কারা যুক্ত? কলকাতায় তাদের নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত? এবং কোনও নাশকতার পরিকল্পনা সত্যিই ছিল কি না? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতেই এখন তদন্ত জোরদার করেছে এসটিএফ।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More