Kolkata-Japan Flight: কলকাতা থেকে জাপানের সরাসরি উড়ান? বিনিয়োগের পাশাপাশি বাড়ছে দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগের সম্ভাবনা

বর্তমানে কলকাতা থেকে জাপানে যেতে যাত্রীদের অনেক ক্ষেত্রেই অন্য কোনও শহরে ট্রানজিট নিতে হয়। ফলে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু হলে সময় ও যাতায়াতের জটিলতা কমবে। একইসঙ্গে কলকাতাকে পূর্ব ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে।

Published on: Sep 12, 2026, 11:03:03 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

কলকাতা থেকে জাপানের সরাসরি বিমান পরিষেবা চালুর সম্ভাবনা এবার আরও জোরালো হল। শুক্রবার কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের সঙ্গে জাপানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। সরাসরি উড়ান চালু হলে দুই দেশের মধ্যে যাত্রী যোগাযোগের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যও অনেকটাই বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বর্তমানে কলকাতা থেকে জাপানে যেতে যাত্রীদের অনেক ক্ষেত্রেই অন্য কোনও শহরে ট্রানজিট নিতে হয়।
বর্তমানে কলকাতা থেকে জাপানে যেতে যাত্রীদের অনেক ক্ষেত্রেই অন্য কোনও শহরে ট্রানজিট নিতে হয়।

বর্তমানে কলকাতা থেকে জাপানে যেতে যাত্রীদের অনেক ক্ষেত্রেই অন্য কোনও শহরে ট্রানজিট নিতে হয়। ফলে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু হলে সময় ও যাতায়াতের জটিলতা কমবে। একইসঙ্গে কলকাতাকে পূর্ব ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে।

দিল্লির সঙ্গে আলোচনা করবে রাজ্য

শুক্রবারের বৈঠকে কলকাতা থেকে সরাসরি জাপানের বিমান চালুর পাশাপাশি কলকাতাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনাও আলোচিত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য।

রাজ্য সরকারের বক্তব্য, কলকাতা ও জাপানের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ তৈরি হলে পর্যটন ও ব্যবসার পাশাপাশি আমদানি-রফতানির পরিমাণও বাড়তে পারে। জাপানের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও এই পরিষেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

নবীকরণযোগ্য শক্তিতে জাপানের আগ্রহ

বৈঠকের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল বিনিয়োগ। পশ্চিমবঙ্গের নবীকরণযোগ্য শক্তি বা রিনিউএবল এনার্জি ক্ষেত্রে জাপান বড় ধরনের বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।

জাপানি প্রতিনিধিদলের এক সদস্য ইয়াকোতো ফুমিনোরি জানান, পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের বিষয়ে তারা আশাবাদী। ইতিমধ্যেই কয়েকটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের বক্তব্য, জাপান নবীকরণযোগ্য শক্তি ক্ষেত্রে বড় প্রকল্প নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী। রাজ্যও এই বিনিয়োগকে স্বাগত জানাচ্ছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি সম্ভাব্য শিল্পক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।

সেমিকন্ডাক্টরেও আগ্রহ

জাপানের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প সম্পর্ক অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও রাজ্য সরকারের সঙ্গে জাপানের একাধিক বৈঠক হয়েছে। সেই আলোচনায় সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেছিল জাপান।

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স শিল্পে সেমিকন্ডাক্টরের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। তাই এই ক্ষেত্রে বিনিয়োগ এলে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প পরিকাঠামো এবং প্রযুক্তি নির্ভর কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

৭৫ বছরের সম্পর্ক, বাংলায় বিশেষ উৎসব

আগামী বছর ভারত ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি। সেই উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ খাদ্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে জাপানের সরাসরি অংশগ্রহণ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

এর ফলে শিল্প ও বিনিয়োগের পাশাপাশি দুই দেশের সাংস্কৃতিক যোগাযোগও আরও গভীর হতে পারে। জাপানি পর্যটক এবং ব্যবসায়ীদের কাছে কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গকে আরও পরিচিত করে তোলার ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

উড়ান চালু হলে লাভ একাধিক ক্ষেত্রে

সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু হলে এর প্রভাব শুধু বিমানযাত্রায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, পর্যটক এবং ছাত্রদের জন্য কলকাতার সঙ্গে জাপানের যোগাযোগ অনেক সহজ হয়ে যাবে। আমদানি-রফতানি বাড়লে বন্দর ও লজিস্টিক পরিষেবার ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে, কলকাতা-জাপান সরাসরি উড়ানের আলোচনা এবং নবীকরণযোগ্য শক্তি ও সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য বিনিয়োগ—দুই মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে জাপানের সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More