Kolkata Metro New Battery System: বিদ্যুৎ চলে গেলেও টানেলে ৫৫ কিমি বেগে ছুটবে কলকাতা মেট্রো! নয়া সিস্টেমের উদ্বোধন
বিদ্যুৎ চলে গেলেও টানেলে ৫৫ কিমি বেগে ছুটবে কলকাতা মেট্রো! নয়া সিস্টেমের উদ্বোধন করা হল কলকাতা মেট্রোয়।
কলকাতা মেট্রোয় ইতিহাসে নয়া যুগের সূচনা হল। হঠাৎ গ্রিড বিভ্রাট হলে বা বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটলেও এখন মাঝপথে সুড়ঙ্গে আটকে থাকবে না মেট্রো। আর যে সিস্টেমের হাত ধরে সেই অভাবনীয় কাজটা সম্ভবপর হয়ে উঠবে, বুধবার কলকাতার সেন্ট্রাল মেট্রো স্টেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হল সেই অত্যাধুনিক ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমের (BESS)। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্লু-লাইনে (দক্ষিণেশ্বর থেকে কবি সুভাষ) এই প্রযুক্তির সংযোজন কলকাতা মেট্রোকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল।

ভারতের প্রথম এই ধরনের উদ্যোগ
মেট্রো রেলের জেনারেল ম্যানেজার শুভ্রাংশু শেখর মিশ্রের উপস্থিতিতে আজ এই প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন হয়। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে মেট্রো রেলওয়ের সিনিয়র অফিসাররা উপস্থিত ছিলেন। ভারত সরকারের ২০২১ সালে অনুমোদিত ‘অ্যাডভান্সড কেমিস্ট্রি সেল’ (ACC) সংক্রান্ত জাতীয় কর্মসূচির ওপর ভিত্তি করেই এই চার মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন BESS প্রকল্প রূপায়ণ করা হয়েছে।
কী এই BESS? কেন এটি যুগান্তকারী?
সাধারণত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে মেট্রো সুড়ঙ্গের অন্ধকার পথে দাঁড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু এই নতুন ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হয়েছে ৬.৪ মেগাওয়াট আওয়ার (MWh) লিথিয়াম আয়রন ফসফেট (LFP) ব্যাটারি। এটি মূলত একটি শক্তিশালী ব্যাক-আপ সিস্টেম, যা গ্রিড বিকল হলেও মেট্রো রেককে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালিয়ে যেতে সক্ষম হবে। সেই সিস্টেমের বৈশিষ্ট্য কী কী?
১) উদ্ধারকাজ: বিদ্যুৎ না থাকলেও সুড়ঙ্গের মাঝে আটকে পড়া ট্রেনগুলো ঘণ্টায় ৫৫ কিমি বেগে চালিয়ে নিকটবর্তী স্টেশনে নিয়ে আসা যাবে।
২) অপরিহার্য পরিষেবা: ট্রেনের পাশাপাশি স্টেশনের টানেল ভেন্টিলেশন এবং পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ সিস্টেমকেও সচল রাখবে এই ব্যাটারি পাওয়ার।
৩) দীর্ঘস্থায়িত্ব: এই ‘গ্রিন ব্যাটারি’গুলির আয়ু প্রায় ১৪ বছর। অত্যন্ত কমপ্যাক্ট ডিজাইনের হওয়ায় এটি জায়গা কম নেয় এবং রক্ষণাবেক্ষণও সহজ।
পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তি
প্রথাগত ডিজেল জেনারেটরের তুলনায় এই ব্যাটারি সিস্টেম অনেক বেশি পরিবেশবান্ধব। এটি কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে মেট্রোকে আরও ‘সবুজ’ করে তুলবে। পাশাপাশি, বিকেলের দিকে বা ব্যস্ত সময়ে যখন বিদ্যুতের চাহিদা তুঙ্গে থাকে, তখন এই সঞ্চিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে মূল গ্রিডের উপর চাপ কমানো যাবে। এর ফলে বিদ্যুতের সাশ্রয় হবে এবং কলকাতা মেট্রোর বিদ্যুৎ খরচ বা বিলও অনেকটা হ্রাস পাবে।
যাত্রীদের সুরক্ষা ও স্বস্তি
সুড়ঙ্গের ভিতরে অন্ধকারে আটকে থাকা যাত্রীদের কাছে এক আতঙ্কের নাম। এই BESS প্রযুক্তি সেই ভয় দূর করবে। কলকাতা মেট্রো কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, এটি কেবল প্রযুক্তিগত উন্নতি নয়, বরং যাত্রীদের নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা নিশ্চিত করার এক বড় পদক্ষেপ। দেশের মধ্যে প্রথম ভারতীয় রেলে এরকম কোনও প্রযুক্তি ব্যবহার করা হল।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


