কলকাতা গর্ব ‘মাউন্টেড পুলিশ’-এর জন্য় হতাশার খবর! জাতীয় অশ্বারোহী চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে নাম প্রত্যাহার করা হল, কেন
কলকাতার রাজপথে ট্রাফিক সামলানো হোক বা ময়দানের ভিড়—কলকাতা মাউন্টেড পুলিশের রাজকীয় উপস্থিতি শহরবাসীর কাছে অত্যন্ত পরিচিত। কিন্তু কেবল ডিউটি নয়, খেলাধুলার জগতেও এই বাহিনীর ঘোড়া ও সওয়ারিদের খ্যাতি দেশজুড়ে।
খেলাধুলা ও প্রশাসনিক কর্তব্যের দ্বন্দ্বে কলকাতার গর্ব কলকাতা মাউন্টেড পুলিশ এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে। একদিকে আইপিএল-এর (IPL) নিরাপত্তা, অন্যদিকে আসন্ন নির্বাচনের ডিউটি—এই দুইয়ের চাপে পড়ে জাতীয় স্তরের এক মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হলেন কলকাতার অশ্বারোহী পুলিশ বাহিনী।

জাতীয় স্তরের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক দিকে ক্রিকেট, অন্যদিকে নির্বাচনের ডিউটির চাপ। দুইয়ের মাঝে পড়ে জাতীয় অশ্বারোহী চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে নাম প্রত্যাহার করল কলকাতা মাউন্টেড পুলিশ! এটি এই বিখ্যাত পুলিশ বাহিনীর জন্য মোটেই কাঙ্ক্ষিত নয়।
কলকাতার রাজপথে ট্রাফিক সামলানো হোক বা ময়দানের ভিড়—কলকাতা মাউন্টেড পুলিশের রাজকীয় উপস্থিতি শহরবাসীর কাছে অত্যন্ত পরিচিত। কিন্তু কেবল ডিউটি নয়, খেলাধুলার জগতেও এই বাহিনীর ঘোড়া ও সওয়ারিদের খ্যাতি দেশজুড়ে। তবে ২০২৬ সালের ক্রীড়া সূচিতে একটি বড় ধাক্কা খেল এই বাহিনী। প্রশাসনিক ব্যস্ততা ও ফোর্স সংকটের কারণে দিল্লি ও চণ্ডীগড়ে আয়োজিত ন্যাশনাল ইকুয়েস্ট্রিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ (NEC) থেকে শেষ মুহূর্তে নাম প্রত্যাহার করতে হয়েছে তাঁদের।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত দুটি কারণ কাজ করছে। প্রথমত, ইডেনে চলমান আইপিএল (IPL) ম্যাচগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের জন্য ফোর্সের প্রয়োজনীয়তা। মাউন্টেড পুলিশের সিংহভাগ আধিকারিক ও কর্মীদের এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে মোতায়েন করা হয়েছে। ফলে প্রতিযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং ঘোড়াগুলিকে নিয়ে দিল্লিতে যাতায়াত করার মতো পর্যাপ্ত সময় বা কর্মী বাহিনীর অভাব দেখা দিয়েছে।
চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্ব ও আক্ষেপ
জাতীয় অশ্বারোহী চ্যাম্পিয়নশিপ বা ন্যাশনাল ইকুয়েস্ট্রিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ হলো দেশের ঘোড়সওয়ারদের জন্য সবথেকে বড় মঞ্চ। কলকাতা মাউন্টেড পুলিশ প্রতি বছর এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে একাধিক পদক জয় করে কলকাতার মুখ উজ্জ্বল করে। এ বছরও ড্রেসেজ, শো-জাম্পিং এবং টেন্ট-পেগিং ইভেন্টে সাফল্যের প্রবল সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় বাহিনীর খেলোয়াড় ও আধিকারিকদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই হতাশা দেখা দিয়েছে।
এক পুলিশ আধিকারিক সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘খেলাধুলা আমাদের বাহিনীর শৃঙ্খলার একটি অংশ। কিন্তু আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হলো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা। আইপিএল এবং নির্বাচনের সময় অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হয়, তাই এই মুহূর্তে দিল্লি যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’
ঘোড়াদের প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতিতে প্রভাব
অশ্বারোহী প্রতিযোগিতার জন্য ঘোড়া ও সওয়ারি উভয়েরই দীর্ঘদিনের কঠোর প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়। কয়েক মাস ধরে প্রস্তুতি নেওয়ার পর প্রতিযোগিতায় যোগ দিতে না পারাটা এক ধরনের ক্ষতি। কারণ এই ধরণের ইভেন্টে অংশ না নিলে জাতীয় র্যাঙ্কিংয়ে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে কর্তৃপক্ষের মতে, ঘোড়াগুলিকে এখন ময়দান চত্বরে ভিড় সামলানো এবং পেট্রোলিংয়ের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা তাদের ফিটনেস বজায় রাখতে সাহায্য করছে।
কলকাতার এই হেরিটেজ বাহিনীর জন্য এটি একটি কঠিন সময়। একদিকে যখন ক্রিকেট শহরকে মাতিয়ে রেখেছে, অন্যদিকে গণতন্ত্রের উৎসব নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। এই দুইয়ের ভিড়ে ঘোড়দৌড়ের মাঠ কিছুটা হলেও পিছিয়ে পড়ল। ক্রীড়া প্রেমীদের আশা, আগামী মরসুমে সব বাধা কাটিয়ে কলকাতা মাউন্টেড পুলিশ ফের জাতীয় মঞ্চে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন করবে।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


