ককরোচদের মিছিলে সাংবাদিক হেনস্তার প্রতিবাদে পথে বিধায়করা, কালো ব্যাজ পরে বিধানসভা থেকে প্রেস ক্লাব পর্যন্ত মিছিল
শনিবার দুপুরে পথে নামছেন রাজ্যের বিধায়করা। ঠিক হয়েছে, দুপুর ১টা নাগাদ সমস্ত বিধায়ক কালো ব্যাজ পরে বিধানসভা থেকে কলকাতা প্রেস ক্লাব পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল করবেন। সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে এই প্রথম রাজ্যের বিধায়কদের এমন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে।
Kolkata Student Protest Vandalism Row: ধর্মতলায় আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চাপানউতোর অব্যাহত। এই ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে পথে নামছেন রাজ্যের বিধায়করা। ঠিক হয়েছে, দুপুর ১টা নাগাদ সমস্ত বিধায়ক কালো ব্যাজ পরে বিধানসভা থেকে কলকাতা প্রেস ক্লাব পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল করবেন। সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে এই প্রথম রাজ্যের বিধায়কদের এমন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদের নামে দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের সমর্থনে বাম ছাত্র সংগঠনের ডাকা মিছিল ধর্মতলায় পৌঁছনোর পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মিছিল শেষে অবস্থান বিক্ষোভ চলাকালীন ব্যাপক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, আন্দোলনের ভিড়ে মিশে থাকা কিছু দুষ্কৃতী পুলিশকে লক্ষ্য করে জুতো, জলের বোতল-সহ বিভিন্ন জিনিস ছুড়ে মারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়।
এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই আক্রান্ত হন আন্দোলনের খবর সংগ্রহ করতে যাওয়া একাধিক সাংবাদিক এবং চিত্রসাংবাদিক। তাঁদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। বেশ কয়েকজন গুরুতর জখম হন এবং তাঁদের এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে সাংবাদিক মহলেও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার রাতেই এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন তিনি। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, "ক'টা দিন অপেক্ষা করুন, ওদের কী করতে হয়, আমি জানি। এই 'শুক্রবারি'দের দেখিয়ে দেব।" হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর আহত সাংবাদিকদের দেখতে এসএসকেএমে যান 'আসল' তৃণমূলের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এই ঘটনাকে তীব্র ভাষায় নিন্দা করেন। তাঁর বক্তব্য, এটি কোনও ছাত্র আন্দোলনের চেহারা নয়, বরং চরম স্বৈরাচারের পরিচয়। তিনি বলেন, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও দেখে তিনি বিস্মিত। প্রতিবাদীদের আচরণ কোনওভাবেই ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে মেলে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিও এবং অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। হামলাকারীদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে শনিবারের বিধায়কদের প্রতিবাদ মিছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিধানসভা থেকে প্রেস ক্লাব পর্যন্ত কালো ব্যাজ পরে এই পদযাত্রার মাধ্যমে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তোলা হবে। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর হামলার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ বার্তাও দেওয়া হবে।
ধর্মতলার এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি উঠছে, অন্যদিকে আন্দোলনের নামে হিংসা ও সাংবাদিকদের উপর আক্রমণের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। এখন সকলের নজর পুলিশের তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়, তার দিকেই।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


