Kolkata Woman Trafficked to Bangladesh: চাকরির টোপে বাংলাদেশে পাচার! দীর্ঘ দুর্ভোগের পর বাড়ি ফিরলেন কলকাতার মধুমিতা

গত ১ জুলাই বাড়ি থেকে বেরনোর পর আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যান উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুরের বাসিন্দা মধুমিতা মিস্ত্রি মণ্ডল। ১৭ দিন পর বাংলাদেশ থেকে বাড়িতে ফোন করে নিজের অবস্থার কথা জানান তিনি। অবশেষে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বুধবার দেশে ফিরলেন মধুমিতা।

Published on: Sep 10, 2026, 08:26:32 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Kolkata Woman Trafficked to Bangladesh: সংসারে অভাবের জেরে কাজের সন্ধানে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন কলকাতার এক বধূ। কিন্তু কাজের বদলে তাঁর কপালে জোটে দুর্ভোগ। পাচার হয়ে যান তিনি। গত ১ জুলাই বাড়ি থেকে বেরনোর পর আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যান উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুরের বাসিন্দা মধুমিতা মিস্ত্রি মণ্ডল। ১৭ দিন পর বাংলাদেশ থেকে বাড়িতে ফোন করে নিজের অবস্থার কথা জানান তিনি। অবশেষে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বুধবার দেশে ফিরলেন মধুমিতা।

চাকরির টোপে বাংলাদেশে পাচার কলকাতার মধুমিতা
চাকরির টোপে বাংলাদেশে পাচার কলকাতার মধুমিতা

কাজের প্রস্তাব এসেছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়

মধুমিতা আদতে উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির বাসিন্দা। কয়েক বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়। পরে পারিবারিক অশান্তির কারণে তিনি ভাই দীপঙ্কর মিস্ত্রির কাছে চলে আসেন। মধুমিতা এবং তাঁর সন্তানকে নিয়ে পরিবারের সদস্যসংখ্যা বাড়ায় আর্থিক চাপও বেড়ে যায়।

পরিবারে দীপঙ্করই একমাত্র রোজগেরে। এই পরিস্থিতিতে সংসারে কিছুটা সাহায্য করতে কাজের সন্ধান শুরু করেন মধুমিতা। সেই সময় সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়। তামিলনাড়ুর একটি ওয়ার্কশপে মোটা বেতনের কাজের প্রস্তাব দেওয়া হয় তাঁকে। ভালো বেতনের কাজের আশায় সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান মধুমিতা। গত ১ জুলাই গালিফ স্ট্রিটের বাড়ি থেকে কাজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু তারপরই তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

বন্ধ মোবাইল, বাড়তে থাকে উদ্বেগ

বাড়ি থেকে বেরনোর পর মধুমিতার মোবাইল ফোনও বন্ধ হয়ে যায়। বার বার চেষ্টা করেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা। যত দিন যায়, উদ্বেগ তত বাড়তে থাকে। পরিবারের লোকজন আশঙ্কা করতে শুরু করেন, তাঁর সঙ্গে কোনও বিপদ ঘটেছে কি না। শেষ পর্যন্ত নিখোঁজের ১৭ দিন পর আচমকাই ভাই দীপঙ্করের কাছে ফোন করেন মধুমিতা। ফোনে তিনি জানান, তামিলনাড়ুতে কাজ দেওয়ার কথা বলে তাঁকে আসলে বাংলাদেশে পাচার করে দেওয়া হয়েছে। কোনও রকমে সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে তিনি গোপালগঞ্জের একটি হাসপাতালে আশ্রয় নিয়েছেন।

পুলিশের কাছে অভিযোগ পরিবারের

বোনের ফোন পাওয়ার পর আর দেরি করেননি দীপঙ্কর। তিনি শ্যামপুকুর থানায় গিয়ে নিখোঁজের বিষয়টি জানিয়ে ডায়েরি করেন। একই সঙ্গে গোটা বিষয়টি জানানো হয় রাজ্য পুলিশের ডিজি, সিআইডির অতিরিক্ত ডিজি, মানব পাচার দমন শাখা এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনারকে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছেও অভিযোগ জমা পড়ে। মধুমিতাকে কী ভাবে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া হল এবং এর পিছনে কারা রয়েছে, তা নিয়ে তদন্তের দাবি ওঠে। পরিবারের অভিযোগ, কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েই মধুমিতাকে ফাঁদে ফেলে পাচার করা হয়েছিল।

হাসপাতালে আশ্রয়, তারপর দেশে ফেরার প্রক্রিয়া

বাংলাদেশে পৌঁছে মধুমিতা কোনও রকমে সেখান থেকে বেরিয়ে গোপালগঞ্জের একটি হাসপাতালে আশ্রয় নেন বলে পরিবারকে জানান। তাঁর ফোন পাওয়ার পর তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনিক এবং কূটনৈতিক স্তরে প্রক্রিয়া শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। বুধবার ঘোজাডাঙা আউটপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফেরানো হয় মধুমিতাকে।

ভাইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হল মধুমিতাকে

ঘোজাডাঙা আউটপোস্টে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের আধিকারিক পবন কুমার এবং সেকেন্ড সেক্রেটারি (ভিসা) চন্দ্রজিৎ মুখোপাধ্যায় মধুমিতাকে তাঁর ভাই দীপঙ্কর মিস্ত্রির হাতে তুলে দেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএসএফের ঘোজাডাঙা আউটপোস্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট সুজিত কুমার, বসিরহাট থানার এএসআই গোপাল মণ্ডল এবং কলকাতা পুলিশের অ্যান্টি হিউম্যান ট্র্যাফিকিং ইউনিটের সদস্যরা। সেখান থেকে ভাইয়ের সঙ্গে কলকাতায় ফিরে যান মধুমিতা। দীর্ঘ ১৭ দিনের উৎকণ্ঠার পর তাঁকে ফিরে পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে পরিবারের মধ্যে।

তদন্তে উঠছে একাধিক প্রশ্ন

কাজের প্রলোভন দেখিয়ে মধুমিতাকে কী ভাবে বাংলাদেশে পাচার করা হল, এই ঘটনায় কারা জড়িত এবং এর পিছনে কোনও বড় পাচারচক্র কাজ করছে কি না—এখন সেই প্রশ্নগুলিরই উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।

এই ঘটনা ফের এক বার দেখিয়ে দিল, সোশাল মিডিয়ায় পাওয়া কাজের প্রস্তাব যাচাই না করে গ্রহণ করলে কতটা বড় বিপদ হতে পারে। ভাল বেতনের চাকরির টোপ দিয়ে কাউকে অন্য দেশে পাচার করার অভিযোগ উঠায় ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More