Indian sailor killed: সোমালি জলদস্যুদের হাতে খুন কলকাতার নাবিক, ক্ষতিপূরণের দাবি কংগ্রেসের

Indian sailor killed: সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবল থেকে তেলবাহী জাহাজের নাবিকদের উদ্ধারের সময় কলকাতার বাসিন্দা মহম্মদ তানবীর উজ্জামান নিহত হয়েছেন। জাহাজটিতে একমাত্র ভারতীয় নাগরিক হিসাবে তিনি রান্নাবান্নার দায়িত্বে ছিলেন।

Published on: Oct 1, 2026, 23:31:21 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Indian sailor killed: সোমালিয়ার উপকূলে একদল জলদস্যুদের হাতে বন্দি একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার উদ্ধার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযানের আগে জাহাজে থাকা নাবিকদের ওপর গুলি চালায় জলদস্যুরা। যার জেরে পাঁচ নাবিক নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সোমালিয়ার স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল পান্টল্যান্ডের তথ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। বিগত দশ বছরে এই প্রথমবার সোমালি জলদস্যুদের হাতে কোনও নাবিকের মৃত্যু হল।

সোমালি জলদস্যুদের হাতে খুন কলকাতার নাবিক Bloomberg News
সোমালি জলদস্যুদের হাতে খুন কলকাতার নাবিক Bloomberg News

জানা গেছে, সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবল থেকে তেলবাহী জাহাজের নাবিকদের উদ্ধারের সময় কলকাতার বাসিন্দা মহম্মদ তানবীর উজ্জামান নিহত হয়েছেন। জাহাজটিতে একমাত্র ভারতীয় নাগরিক হিসাবে তিনি রান্নাবান্নার দায়িত্বে ছিলেন। ওই জাহাজ উদ্ধারের ঘটনায় মোট পাঁচজন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তানবীর ছাড়াও তিন পাকিস্তানি ও মায়ানমারের এক নাগরিক রয়েছেন। আরও তিন পাকিস্তানি ও এক ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছেন। এদিকে, তানবীরের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার পর কলকাতায় তাঁর পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মে মাসে জলদস্যুদের হাতে বন্দি অবস্থায় তানভীর পরিবারের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেছিলেন বলে দাবি। সেই সময় জাহাজে খাদ্য, জল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতির কথাও তিনি জানিয়েছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পান্টল্যান্ডের তথ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান সফল হয়েছে। এ সময় ১৬ জলদস্যুকে আটক করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে তথ্য মন্ত্রক বলেছে, অভিযান শুরুর আগে জাহাজে থাকা জলদস্যুরা পাঁচ নাবিককে হত্যা করে। অভিযানে আরও চার নাবিক আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন পাকিস্তানি এবং একজন ভারতীয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যুদের তৎপরতা আবার বাড়ছে। এতে এডেন উপসাগর ও পশ্চিম ভারত মহাসাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পণ্যবাহী জাহাজে কর্মরত নাবিকদের প্রতিনিধিত্ব করে ফরওয়ার্ড সিমেনস ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া (এফএসইউআই)। সেই সংগঠনের মুখপাত্র মনোজ যাদব জানিয়েছেন, বুধবার তানভীরের মৃতদেহের ছবি তুলে দেওয়া হয়েছে তাঁর পরিবারের হাতে। এফএসইউআই আধিকারিকদের সঙ্গে মৃতের মায়ের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামনে এসেছে। সেই ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে, তিনি হাপুস নয়নে কান্নাকাটি করছেন এবং বলছেন, ‘দয়া করে ওকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুন। গত পাঁচ মাস যে আমাদের কী দুশ্চিন্তায় কেটেছে, তা বলে বোঝাতে পারব না। কিন্তু মৃত্যুর খবর পেয়ে একেবারেই ভেঙে পড়েছি।’ মনোজের বক্তব্য, সাধারণত এই ধরনের জাহাজ আটক করার ঘটনায় রাঁধুনিদের ছাড়া সবাইকে এক জায়গায় আটকে রাখে জলদস্যুরা। রাঁধুনিদের আটক করা হয় না, কারণ মাঝসমুদ্রে রান্নাবান্না করার জন্য তাঁদের প্রয়োজন। তাই ঠিক কী কারণে তানভীরকে হত্যা করা হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাঁর কথায়, ‘পুলিশের সঙ্গে জলদস্যুদের গুলির লড়াই চলাকালীনই তনভীরের গুলি লেগেছিল কি, প্রশ্ন উঠছে তা নিয়েও। যদিও ওঁরা বলছেন, পুলিশ দস্যুদের আক্রমণ করার আগেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল।’

তানবীরের মৃত্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস। দলের সভাপতি শুভঙ্কর সরকার দাবি করেছেন, প্রাথমিক ভাবে জাহাজটিতে কোনও ভারতীয় নাগরিক ছিলেন না বলে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল, তা সঠিক নয়। তানবীর যে ওই জাহাজের সদস্য ছিলেন, তার প্রমাণ হিসেবে ক্রু লিস্ট, নিয়োগপত্র এবং পরিবারের কাছে আসা ছবি-সহ বিভিন্ন নথি তাঁদের কাছে রয়েছে বলে জানিয়েছে কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেসের দাবি, তানবীরের মৃত্যুর ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে এবং জাহাজ সংস্থা তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন ব্যর্থ হল, তা খতিয়ে দেখতে হবে। পাশাপাশি, বিদেশ মন্ত্রককে দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে তানবীরের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস।

সোমালিয়া অঞ্চলে জলদস্যুদের পুনরুত্থানের মূল কারণ ইরান-ইজরায়েলের যুদ্ধ। এর আগে ২০০৮ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত জলদস্যুদের উৎপাতে সোমালিয়ার উপকূলবর্তী এলাকার জলপথে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছিল। কিন্তু সোমালিয়া সরকারের তৎপরতায় জলদস্যুদের দমন করা সম্ভব হয়েছিল। চলতি বছরে ফের সক্রিয় হয়ে ওঠে তারা। ২১ এপ্রিল পালাউ (পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের একটি স্বাধীন দ্বীপরাষ্ট্র) পতাকাবাহী পেট্রোলিয়াম ট্যাঙ্কার এম টি অনার ২৫-কে আটক করে একদল জলদস্যু। সেই জাহাজে ছিলেন তানভীর-সহ ১৭ জন। সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুতে ১৮ হাজার ৫০০ ব্যারেল তেল পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। মাঝপথেই জলদস্যুদের আক্রমণ। বিশেষজ্ঞরা সাম্প্রতিক জলদস্যুতা বাড়ার পেছনে আঞ্চলিক পরিস্থিতির পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন। এর মধ্যে ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবং তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিও রয়েছে। তাদের মতে, তেলের দাম বাড়ায় তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলো জলদস্যুদের কাছে আরও আকর্ষণীয় লক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে।