Koyel Mallick joins BJP: রাজনীতিতে নতুন ইনিংস, রাজ্যসভার টিকিট পাওয়ার পরে বিজেপিতে যোগ কোয়েল মল্লিকের
তৃণমূলের হয়ে রাজ্যসভায় যাওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই দল বদলে এবার বিজেপিতে যোগ দিলেন কোয়েল মল্লিক। সোমবার আনুষ্ঠানিক ভাবে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখালেন কোয়েল। তার ঠিক আগের দিনই রাজ্যসভা উপনির্বাচনের জন্য তাঁকে প্রার্থী করার কথা ঘোষণা করেছিল বিজেপি।
রাজনীতিতে নতুন মোড় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের। তৃণমূলের হয়ে রাজ্যসভায় যাওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই দল বদলে এবার বিজেপিতে যোগ দিলেন তিনি। সোমবার আনুষ্ঠানিক ভাবে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখালেন কোয়েল। তার ঠিক আগের দিনই রাজ্যসভা উপনির্বাচনের জন্য তাঁকে প্রার্থী করার কথা ঘোষণা করেছিল বিজেপি। ফলে এ বার সরাসরি পদ্ম শিবিরের হয়ে সংসদের উচ্চকক্ষে যাওয়ার দৌড়ে নামলেন টলিপাড়ার এই পরিচিত মুখ। এদিকে এর আগে তৃণমূলে যোগদানের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল কি না, এই প্রশ্নের জবাব কার্যত এড়িয়ে যান তিনি। তাঁর কথায়, তিনি কখনও কারও বিষয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেননি এবং ভবিষ্যতেও করবেন না।

তৃণমূলের সাংসদ থেকে বিজেপির নেত্রী
চলতি বছরেই সক্রিয় রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন কোয়েল। ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে রাজ্যসভার প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। মার্চে নির্বাচিত হওয়ার পর ৬ এপ্রিল রাজ্যসভায় শপথ নেন তিনি। শ্রম, বস্ত্র এবং দক্ষতা উন্নয়ন সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সদস্যও করা হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু সাংসদ হিসাবে সেই অধ্যায় দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মাত্র সাড়ে তিন মাসের মধ্যেই ১৬ জুলাই রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দেন কোয়েল।
তখন অবশ্য নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি অভিনেত্রী। ফলে তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনা চলছিলই। সেই জল্পনার মধ্যেই বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগের খবর সামনে আসে। ইস্তফার পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিজেপির প্রবীণ নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে কোয়েলের বৈঠকও হয়েছিল। তার পর থেকেই গেরুয়া শিবিরে তাঁর যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়।
নিজের ছেড়ে যাওয়া আসনেই বিজেপির প্রার্থী
রাজনীতির নতুন অধ্যায়ে সবচেয়ে বড় চমক হল, যে রাজ্যসভা আসন থেকে তৃণমূলের সাংসদ হিসাবে ইস্তফা দিয়েছিলেন কোয়েল, সেই আসনেই বিজেপি তাঁকে প্রার্থী করেছে। আগামী ১৬ অক্টোবর এই আসনে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। অর্থাৎ দলের প্রতীক বদলেছে, কিন্তু আসন বদলায়নি।
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর কোয়েলকে প্রশ্ন করা হয়, তৃণমূলে যোগ দেওয়া তাঁর ভুল সিদ্ধান্ত ছিল কি না। সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান অভিনেত্রী। তিনি শুধু জানান, কাউকে নিয়ে কখনও খারাপ মন্তব্য করেননি, ভবিষ্যতেও করবেন না। আগামী দিনে মানুষের জন্য কাজ করাই তাঁর লক্ষ্য বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তৃণমূলের কটাক্ষ, উঠছে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র অভিযোগ
কোয়েলের বিজেপিতে যোগদান ঘিরে তৃণমূলের তরফে ইতিমধ্যেই কটাক্ষ শুরু হয়েছে। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে কোয়েলকে রাজ্যসভায় পাঠানো হয়েছিল। সেই সুবিধা নেওয়ার পর এখন দলবদল রাজনৈতিক ভাবে হতাশাজনক বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, দল রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার বাইরে থাকা পরিচিত মুখদের সুযোগ দিলেও এমন ঘটনায় ভবিষ্যতে সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।
সিপিএমের তরফেও একই সুরে আক্রমণ এসেছে। নেতা সুজন চক্রবর্তী কটাক্ষ করে বলেছেন, তৃণমূলের প্রাক্তন হলেই এখন বিজেপিতে গুরুত্ব মিলছে। এর আগে তৃণমূলের আরও তিন রাজ্যসভা সদস্য দল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়ে সাংসদ হয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
বিজেপির নজরে কি টলিউডের জনপ্রিয় মুখ?
অন্য দিকে, বিরোধীদের আক্রমণকে গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, কোয়েলের মতো জনপ্রিয় মুখ দলের জনসংযোগে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারেন। একই সঙ্গে রাজ্যসভায় দলের শক্তিও বাড়বে।
বিধানসভা ভোটের পর পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিজেপির রাজ্যসভা সদস্য সংখ্যা বেড়ে ছয় হয়েছে। কোয়েল সাংসদ হলে সেই সংখ্যা সাত হবে। বিপরীতে তৃণমূলের রাজ্যসভা সদস্য সংখ্যা ভোটের আগে ১৩ থাকলেও এখন নেমে এসেছে ৯ এ। ফলে কোয়েলের দলবদল শুধু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, রাজ্যসভায় দুই দলের অঙ্কের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ।
একদিকে টলিপাড়ার জনপ্রিয় মুখ, অন্য দিকে সদ্য রাজনীতিতে পা রাখা এক নতুন মুখ। আর সেই কোয়েল মল্লিকই মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে। এখন ১৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের দিকে নজর। ভোটে জিতে সংসদের উচ্চকক্ষে আবার ফিরতে পারেন কি না কোয়েল, সেটাই দেখার।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


