Lakshmir Vs Annapurna: ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ এবং মমতার ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের মধ্যে পার্থক্য কোথায়?

অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, আগের সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প এবং বর্তমান সরকারের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র মূল দর্শনের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। তাঁর কথায়, নতুন সরকারের লক্ষ্য হল সরকারি অর্থ এমন মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া, যাঁদের সত্যিই আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন।

Published on: Jun 26, 2026, 09:09:36 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বিধানসভায় বাজেট নিয়ে আলোচনার সময় নতুন সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি দাবি করেন, আগের সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প এবং বর্তমান সরকারের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র মূল দর্শনের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। তাঁর কথায়, নতুন সরকারের লক্ষ্য হল সরকারি অর্থ এমন মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া, যাঁদের সত্যিই আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন।

বাজেটের জবাবি ভাষণে অর্থমন্ত্রী বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে আয় বা আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে কোনও কার্যকর বাছাই পদ্ধতি ছিল না।
বাজেটের জবাবি ভাষণে অর্থমন্ত্রী বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে আয় বা আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে কোনও কার্যকর বাছাই পদ্ধতি ছিল না।

বাজেটের জবাবি ভাষণে অর্থমন্ত্রী বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে আয় বা আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে কোনও কার্যকর বাছাই পদ্ধতি ছিল না। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই এমন মানুষও সরকারি অনুদান পেয়েছেন, যাঁদের সেই সহায়তার প্রয়োজন ছিল না। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকলেই এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, সরকারি অর্থ সীমিত, তাই তা সঠিকভাবে ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'সরকারের দায়িত্ব শুধু প্রকল্প চালু করা নয়, সেই প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।' তাঁর দাবি, অন্নপূর্ণা যোজনা সেই লক্ষ্য নিয়েই তৈরি হয়েছে। এই প্রকল্পে আর্থিকভাবে দুর্বল এবং প্রকৃত প্রাপকদের চিহ্নিত করে তাঁদেরই সহায়তা দেওয়া হবে। ফলে সরকারি অর্থের অপচয় কমবে এবং কল্যাণমূলক প্রকল্প আরও কার্যকর হবে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন সরকার জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারি তহবিলের প্রতিটি টাকা যেন সঠিকভাবে ব্যয় হয়, সেই লক্ষ্যেই বিভিন্ন প্রকল্পের নিয়ম ও প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তাঁর মতে, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করতে আধুনিক তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক যাচাই প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করা হবে।

তিনি জানান, সরকারের উদ্দেশ্য কোনও প্রকল্প বন্ধ করা নয়, বরং সরকারি সহায়তা আরও লক্ষ্যভিত্তিক করা। কারণ, যাঁদের প্রকৃত প্রয়োজন নেই, তাঁদের অনুদান দেওয়ার ফলে যাঁরা সত্যিই সাহায্যের অপেক্ষায় রয়েছেন, তাঁরা অনেক সময় বঞ্চিত হন। সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন করতেই অন্নপূর্ণা যোজনা চালু করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

বিধানসভায় অর্থমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়। বিরোধীদের একাংশ এই বক্তব্যের সমালোচনা করলেও সরকার নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য, নতুন সরকার জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিটি প্রকল্পের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে চায়। সেই কারণেই অন্নপূর্ণা যোজনায় ‘সকলের জন্য’ নয়, বরং ‘যাঁদের সত্যিই প্রয়োজন, তাঁদের জন্য’—এই নীতিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সরকারের দাবি, এই নীতি অনুসরণ করলে একদিকে যেমন সরকারি অর্থের সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এর ফলে সমাজের সবচেয়ে অসহায় ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির উদ্দেশ্যও আরও সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More