Lalbazar: বড় পদক্ষেপ লালবাজারের! ভোটের মুখে অমীমাংসিত পরোয়ানা নিয়ে থানাগুলিকে বিশেষ নির্দেশ
Lalbazar: নির্বাচন চলাকালীন পুলিশকর্মীদের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছে লালবাজার।
Lalbazar: আর কিছুদিন পরেই রাজ্যজুড়ে দুই দফায় শুরু হতে চলেছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন। তাই শেষ সময়ে কাজের ব্যস্ততা বেশ বেড়ে গিয়েছে নেতা-মন্ত্রী থেকে প্রশাসনের। প্রার্থীদের সমর্থনে রাজনৈতিক দলগুলির তরফে জোর কদমে চলছে ভোট প্রচার। এই আবহে কলকাতা পুলিশের অধীনস্থ থানাগুলিকে কড়া নির্দেশ দিল লালবাজার। এখনও অনেক গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করা হয়নি বলে খবর। এবার সে ব্যাপারে তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা নিতে বলল লালবাজার। স্পষ্ট বার্তা, হয় যাঁদের নামে পরোয়ানা আছে, তাঁদের ধরতে হবে, নয়তো কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা জানাতে হবে লালবাজারকে।

পরোয়ানা কার্যকরে বিশেষ জোর
নির্বাচন কমিশন আগেই জামিনঅযোগ্য পরোয়ানা কার্যকরের ব্যাপারে কড়া অবস্থান নিয়েছিল। এবার লালবাজারের নির্দেশিকায় শুধুমাত্র জামিনঅযোগ্য নয়, বরং জামিনযোগ্য পরোয়ানার ক্ষেত্রেও থানাগুলিকে সক্রিয় হতে বলা হয়েছে। প্রতিটি থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লালবাজার সূত্রে খবর, যে সব পরোয়ানা এখনও কার্যকর হয়নি, তা নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে থানাগুলিকে। কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তার তালিকাও দিতে বলা হয়েছে। কী ধরনের পরোয়ানা, নির্বাচনের সময় তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে লালবাজার। একই সঙ্গে পুলিশ কর্মীদেরও দায়িত্বপালনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। সূত্রের খবর, লক্ষ্য করা যাচ্ছে কয়েক জন সরকারি নিয়মবিধি মানছেন না। সকলে যেন বেঁধে দেওয়া বিধি মেনে চলেন, সেই সংক্রান্ত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে লালবাজার।
পুলিশকর্মীদের আচরণ ও নিয়মবিধি
নির্বাচন চলাকালীন পুলিশকর্মীদের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছে লালবাজার। লক্ষ্য করা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে সরকারি নিয়মবিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে লালবাজারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, প্রতিটি পুলিশকর্মীকে নির্ধারিত আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। সুপ্রতিম সরকার কলকাতার পুলিশ কমিশনার থাকাকালীন সোশ্যাল মিডিয়ায় পুলিশকর্মীদের আচরণের বিষয়ে যে ১৫ দফা নির্দেশিকা জারি করেছিলেন, নতুন পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দের আমলেও সেই বিধি বলবৎ থাকছে। পুলিশকর্মীরা যেন সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনওভাবেই পক্ষপাতমূলক বা বিতর্কিত আচরণ না করেন, সোমবারের নির্দেশিকায় তা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারি
রাজ্য পুলিশের শীর্ষ স্তর থেকে নীচুতলা পর্যন্ত কর্মীদের জন্য নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই একগুচ্ছ নির্দেশিকা পাঠিয়েছে। সেখানে জামিনঅযোগ্য পরোয়ানার কথা উল্লেখ ছিল আলাদা ভাবে। বলা হয়েছিল, যাঁদের বিরুদ্ধে জামিনঅযোগ্য পরোয়ানা রয়েছে, তাঁদের ১০ দিনের মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে। আগের নির্বাচনের সময় যে সব অপরাধমূলক মামলা হয়েছিল, সেগুলি দ্রুত শেষ করতেও বলা হয়েছিল। পাশাপাশি জানিয়ে দেওয়া হয়, ভোটের সময় রাজ্যের সকল সরকারি কর্মচারী আদতে কমিশনের অধীনেই কাজ করে। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে পারবে কমিশন।
কলকাতার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করাই এখন লালবাজারের প্রধান লক্ষ্য। থানাগুলির কর্মতৎপরতার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে।
E-Paper

