১০ হাজার জিলেটিন স্টিক-ডিটোনেটর! ভোটমুখী বঙ্গে বিস্ফোরক পাচারের ছক? আতঙ্ক বীরভূমে
তবে ওই বিস্ফোরক বোঝাই গাড়িটি রাতের অন্ধকারে কী উদ্দেশ্যে, কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তা এখনও অস্পষ্ট।
তিনদিন আগেই বিধানসভা নির্বাচিনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যের প্রান্তে প্রান্তে টহলদারি শুরু করেছে। এরমধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি এবং বামেদের পক্ষ থেকে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। রীতিমত এক চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে জেলায় জেলায়। এই অবস্থায় মঙ্গলবার রাতে বীরভূমে ট্রাক্টর বোঝাই বিস্ফোরক উদ্ধারে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোটের দিন ঘোষণা হতে না হতেই এলাকায় বিস্ফোরক উদ্ধার হচ্ছে তাহলে আগামী দিন কী অপেক্ষা করছে। ঘটনায় তদন্তে নেমেছে নলহাটি থানার পুলিশ।

ঠিক কী ঘটেছিল?
ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের নলহাটি থানার কাদাসির গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে খবর, নলহাটিতে একটি ট্রাক্টর থেকে প্রায় ১০ হাজার পিস জিলেটিন স্টিক ও ৩৬০ পিস ডিটোনেটর উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। অভিযোগ, গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার রাতেই কাদাসির গ্রামের রাস্তা দিয়ে অনেকগুলো বাক্স বোঝাই ট্রাক্টর দেখে স্থানীয়দের মনে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। আর সেই সন্দেহ থেকেই আচমকা ট্রাক্টর আটকায় বাসিন্দারা এবং সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় থানায়। এরপরই পুলিশ এসে বিস্ফোরক ও ট্রাক্টরটিকে বাজেয়াপ্ত করে। পুলিশ বাক্স খুলতেই দেখে বিস্ফোরক, এক এক করে সবকটাই উদ্ধার করা হয়। আর পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে এলাকা ছেড়ে পালান ট্রাক্টর চালক। খোঁজ চলছে তাঁর।
তবে ওই বিস্ফোরক বোঝাই গাড়িটি রাতের অন্ধকারে কী উদ্দেশ্যে, কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তা এখনও অস্পষ্ট। পাশাপাশি ওই বিস্ফোরক ব্যবহার করে কোন নাশকতা মূলক কাজ করার পরিকল্পনা ছিল কিনা, তাও খতিয়ে দেখছে নলহাটি থানার পুলিশ। ইতিমধ্যেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চড়তে শুরু করেছে রাজনৈতিক পারদ। বীরভূম জেলা তৃণমূল সহ সভাপতি মনয় মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগ, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে অশান্তি সৃষ্টি করার জন্য বিজেপি ঝাড়খণ্ড থেকে বিস্ফোরক মজুত করছে। পাশাপাশি বহিরাগত দুষ্কৃতি আনা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এদিকে, ভোটের আগে বীরভূমে বিস্ফোরক নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, গ্রামের রাস্তায় ট্রাক্টরটিকে যেতে দেখেই তাঁদের সন্দেহ হয়েছিল। কিন্তু, এত বিস্ফোরক যে বোঝাই রয়েছে, তা তাঁরাও ভাবতে পারেননি। ভোটের আগে এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দারা চাইছেন, পুলিশ সবদিক খতিয়ে দেখুক। ভোটের আগে কেন এবং কোথায় বিস্ফোরকগুলি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা নিয়ে তদন্ত করুক।
E-Paper

