জোট জট অব্যাহত! আরও ৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণা বামেদের, সন্দেশখালি থেকে লড়ছেন কে?
কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতায় না গিয়ে পৃথকভাবে এবার প্রার্থী ঘোষণা করেছে বামেরা।
রাজ্য রাজনীতির হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে নিজেদের ঘর গোছাতে শেষ মুহূর্তের চাল দিল বামফ্রন্ট। রবিবার পঞ্চম দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল আলিমুদ্দিন। এই দফায় রাজ্যের সাতটি বিধানসভা আসনে প্রার্থী দিয়েছে তারা। তালিকায় অনুযায়ী, পাঁচটি আসনে প্রার্থী দিয়েছে সিপিআই(এম)। দু'টি আসন ছাড়া হয়েছে আরএসপিকে।

পূর্ব সিদ্ধান্ত মতোই মুর্শিদাবাদের ভরতপুর ও পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুর আসনে প্রার্থী দিয়েছে বামফ্রন্ট। ওই দুই আসনে প্রার্থী হচ্ছেন যথাক্রমে আরএসপি-র জেলা সম্পাদক মহম্মদ নওফেল সফিউল্লা (আ্যালবার্ট) এবং প্রতিভা রানি কর শাসমল। দুই আসনে আইএসএফ প্রার্থী থাকলেও বাম শরিক আরএসপি-কেই বামফ্রন্ট সমর্থন করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাহাড়ের কার্শিয়াং আসন থেকে সিপিএমের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন উত্তম শর্মা। এছাড়াও, ইসলামপুর বিধানসভা কেন্দ্রে মহম্মদ শামি খানকে প্রার্থী করেছে সিপিআই(এম)। সন্দেশখালি আসনে প্রার্থী করা হয়েছে সিপিআই(এম)-এর রবীন্দ্রনাথ মাহাতোকে। নন্দকুমার থেকে চন্দন মাইতিকে প্রার্থী করেছে সিপিআই(এম)। মহিষাদল আসনে সিপিআই(এম)-এর হয়ে লড়বেন পরিতোষ পট্টনায়ক।
এর আগে চার দফায় প্রার্থী তালিকা প্ৰকাশ করেছে বামফ্রন্ট। প্রথম দফায় ১৯২টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল বামফ্রন্ট। দ্বিতীয় দফায় ৩২টি আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। তৃতীয় দফায় ১৫ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছিল বামেরা। চতুর্থ দফায় ৭টি এবং রবিবার পঞ্চম দফায় আরও ৭টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল বামফ্রন্ট। পঞ্চম দফায় মোট ২৫৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বামফ্রন্ট। কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতায় না গিয়ে পৃথকভাবে এবার প্রার্থী ঘোষণা করেছে বামেরা। উল্লেখ্য, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে নওশাদ সিদ্দিকির ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) সঙ্গে জোট নিয়ে আলোচনা চলছে বামফ্রন্টের। তবে আইএসএফের সঙ্গে আসন সমঝোতা হবে কিনা তা নিয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি দুই পক্ষই। বিশেষত, আইএসএফ ক্যানিং পূর্ব আসন আরাবুল ইসলামকে প্রার্থী করায় ক্ষুব্ধ বাম নেতৃত্ব। এর জেরে জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে, ভোটের আগেই বাম-আইএসএফ সম্পর্কের এই টানাপোড়েন বিরোধী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে । এখন দেখার, শেষ মুহূর্তে আসন সমঝোতা হয়, নাকি জোটই ভেঙে যায়।
E-Paper

