কর্মসংস্থান থেকে ১০০ ইউনিট ফ্রি বিদ্যুৎ, ৬০০০ টাকা ভাতা! 'বিকল্প ইস্তেহার' প্রকাশ বামফ্রন্টের, রইল এক নজরে

ইস্তেহার প্রকাশের পর ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিমান বসু।

Published on: Apr 5, 2026, 12:27:03 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে 'বিকল্প ইস্তেহার' প্রকাশ করল বামফ্রন্ট। আলিমুদ্দিন স্ট্রিট থেকে প্রকাশিত এই ইস্তেহারে কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এবং সামাজিক সুরক্ষাকেই মূল হাতিয়ার করেছে তারা। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নতিতেও একাধিক প্রতিশ্রুতি রয়েছে তাদের। তবে, এরমধ্যে ভাতা বাড়ানোর কথাও কিন্তু বলেছে তারা। রাজ্যের বর্তমান অস্থিরতা ও বিভাজনের রাজনীতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে ‘বাংলা বাঁচাতে’ বাম গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির এই ইস্তেহার ২২টি প্রধান প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরা হয়েছে।

'বিকল্প ইস্তেহার' প্রকাশ বামফ্রন্টের (সৌজন্যে টুইটার)
'বিকল্প ইস্তেহার' প্রকাশ বামফ্রন্টের (সৌজন্যে টুইটার)

বর্তমানে এ রাজ্যে সিপিএম শূন্য। গত পাঁচ বছর ধরে বামেদের কোনও প্রতিনিধিই নেই রাজ্য বিধানসভায়। বারবার শূন্যের খোঁচা শুনতে হয়েছে রাজ্যের এক সময়ের শাসক দলকে সিপিএম-কে। এবার ফের রয়েছে নির্বাচন। শূন্যের ক্ষরা কাটাতে মরিয়া লাল শিবির। একঝাঁক তরুণ মুখে সঙ্গে বর্ষীয়ান-অভিজ্ঞ নেতাদেরও প্রার্থী করা হয়েছে। জেলায় জেলায় বাংলা বাঁচাও যাত্রা করেছে তারা। আর এবার ভোটকে সামনে রেখে ইস্তাহার প্রকাশ করল সিপিএম। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর হাত ধরে এই ইস্তাহার প্রকাশিত হয়। সেই সঙ্গে শাসক দলকে নিশানা করে তিনি বলেন, ভাষা, ধর্ম ও বর্ণের নামে যে বিভাজনের রাজনীতি চলছে, তার একমাত্র বিকল্প বামপন্থীরাই।

এক নজরে বামফ্রন্টের ইস্তেহার

১. প্রতিটি পরিবার পাবে স্থায়ী কাজ

২. গরিব মানুষের জন্য বছরে ১২০ দিন (শহরে) গ্রামে ২০০ দিনের কাজ। দৈনিক ৬০০ মজুরি

৩. ৫ বছরের মধ্যে এসএসসি-পিএসসি-র মতো সরকারি চাকরির শূন্যপদ পূরণ

৪. শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি নূন্যতম ৭০০ টাকা। ৪টি শ্রমকোড রাজ্যে প্রয়োগ নয়

৫. ১৬ টি ফসলের নূন্যতম সহায়ক মূল্য করা হবে দেড় গুণ

৬. প্রিপেড স্মার্ট মিটার বন্ধ, ১০০ ইউনিট বিদ্যুৎ সম্পূর্ণ বিনা মাশুলে, ২০০ ইউনিট পর্যন্ত অর্ধেক দাম

৭. নদী ভাঙন রোধ। খাল-বিল-পুকুর বোজানোর বিরোধিতায় আইন

৮. ৫ বছরের মধ্যে ২০ লক্ষ স্বনির্ভর গোষ্ঠী। মহিলার ক্ষমতায়ন। প্রতিটি জেলায় পুলিশের নিজস্ব ‘স্বশাসিত অভয়া বাহিনী’, তামান্ন ও অভয়ার ন্যায় বিচার

৯. প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্য সেবা প্রকল্প। দরিদ্র প্রবীণদের জন্য ৬০০০ টাকা বার্ধক্য ভাতা।

১০. সংখ্যালঘু, আদিবাসীদের জন্য স্কুল-কলেজ-হাসপাতাল তৈরি।

ইস্তেহার প্রকাশের পর ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিমান বসু। তিনি অভিযোগ করেন, শুধু মুসলিম ভোটার নয়, অনেক হিন্দু ভোটারের নামও ষড়যন্ত্র করে বাদ দেওয়া হয়েছে। মোথাবাড়ি ও কালিয়াচকের সাম্প্রতিক ঘটনা প্রবাহ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যা করছে তা অন্যায়। রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন বিমান বসু। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গত ১৫ বছরে তৃণমূল সরকার রাজ্যের দেনা ৫ লক্ষ কোটি টাকার উপরে নিয়ে গিয়েছে, অথচ বামেদের দীর্ঘ ৩৪ বছরের শাসনে ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ১ লক্ষ ৯২ হাজার কোটি টাকা। এই বিপুল ঋণের বোঝা কেন বাড়ল, তা নিয়ে শাসক দলের কাছে জবাব চেয়েছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান। অন্ধকার সরিয়ে বাংলায় ‘আলো ফেরানোর লড়াই’ শুরুর ডাক দিয়েই বামেদের এই নির্বাচনী ইস্তেহার রাজ্যের মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।