'সিইও-র দেখা না পেলে নড়ব না!' ভোটার তালিকা বিতর্ক, রাতের পর দিন দখলে বামেরা

বুধবার খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানোর পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আন্দোলনের ঝাঁজ আরও বাড়িয়েছেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়-সহ একাধিক বাম শীর্ষ নেতৃত্ব।

Published on: Mar 5, 2026, 14:11:21 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

দীর্ঘ জল্পনার পর গত শনিবার প্রকাশিত হয়েছে এসআইআরের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে ৬৩ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাঁদের কেউ মৃত, কেউ স্থানান্তরিত, কেউ গরহাজির, কারও অন্য জায়গায় নাম রয়েছে। আরও ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ নাম ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বা ‘বিবেচনাধীন।’ ধাপে ধাপে সাপ্লিমেটারি ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা। তবে তার মাঝেই বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে যেতে পারে। আর তার বিরোধিতায় সরব হয়েছে সিপিএম। পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা প্রকাশের দাবিতে রাজ্যের সিইও দফতরের সামনে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বাম নেতা-কর্মীরা।

রাতের পর দিন দখলে বামেরা (সৌজন্যে টুইটার)
রাতের পর দিন দখলে বামেরা (সৌজন্যে টুইটার)

বুধবার খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানোর পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আন্দোলনের ঝাঁজ আরও বাড়িয়েছেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়-সহ একাধিক বাম শীর্ষ নেতৃত্ব। তাঁদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, সিইও মনোজ আগরওয়ালের দেখা না পাওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। এমনকী তিনটের সময় সমাবেশও রয়েছে বামেদের। নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া চলবে না। ভোটার লিস্টে ভোটাররা থাকবেন না, এদিকে কমিশনের আধিকারিকরা বহাল তবিয়তে থাকবেন তা চলবে না।' একই সঙ্গে বাম নেতৃত্বের হুঁশিয়ারি, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার মনোজ আগরওয়াল তাঁদের সঙ্গে দেখা না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এমনকি তাঁরা জানিয়েছেন, স্মারকলিপিও সিইও-র হাতেই তুলে দিতে চান। অন্য কোনও আধিকারিকের কাছে তা জমা দেওয়া হবে না।

উল্লেখ্য, বুধবারই টি বোর্ডের সামনে থেকে বামেদের একটি মিছিল শুরু হয়। সেই মিছিলে অংশ নেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং নেতা সুজন চক্রবর্তী। তাঁদের অভিযোগ, পরিকল্পিত ভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। মিছিল সিইও দফতরের সামনে পৌঁছলে মনোজ আগরওয়ালের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বাম নেতৃত্বের। কিন্তু তিনি দেখা না করায় অধস্তন আধিকারিকের কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে বলা হয়। সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেই আন্দোলনে বসার সিদ্ধান্ত নেয় বাম শিবির। বুধবার থেকে শুরু হওয়া সেই অবস্থান বিক্ষোভ বৃহস্পতিবার সকালেও অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বিকেল তিনটের সময় বড় সমাবেশ করারও ঘোষণা করেছেন বাম নেতৃত্ব। এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সিইও দফতরের সামনে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে কলকাতা পুলিশ। মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশকর্মী। উপস্থিত রয়েছেন লালবাজারের একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিকও।