ছিল না বিপর্যয় মোকাবিলার ট্রেনিং! আরজি কর-কাণ্ডে বিস্ফোরক ধৃত লিফটম্যানরা
ধৃত তিনজন লিফটম্যানই লালবাজারে জেরার মুখে গোয়েন্দা পুলিশকে জানিয়েছেন, ডিউটি শুরুর আগে তাদের শুধু শেখানো হয়, কীভাবে লিফট চালাতে হয়।
আবারও সেই আরজি কর। বিতর্কে যেন পিছু ছাড়ছে না এই হাসপাতালের। কয়েকদিন আগে এই হাসপাতালেই লিফট বিপর্যয়ে এক ব্যক্তি বেঘোরে প্রাণ হারান। এবার লিফট আর দেওয়ালে পিষে গিয়ে নাগেরবাজারের অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ঘটনায় ধৃত তিন লিফটম্যানকে জেরা করে বিস্ফোরক তথ্য জানতে পারলেন লালবাজারের গোয়েন্দারা।

সূত্রের খবর, গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, আরজি কর হাসপাতালে মাত্র এক মাস আগে নিয়োগ করা হয়েছিল লিফটম্যানদের। কিন্তু কোনও বিপর্যয় হলে কীভাবে তার মোকাবিলা করতে হবে, তার জন্য কোনও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, আরজি করে পিডব্লুডি একটি সংস্থাকে লিফট দেখভালের বরাত দেয়। অন্য একটি সংস্থাকে বরাত দেওয়া হয় লিফটম্যানের কাজের জন্য। লিফটম্যানদের জন্য যে সংস্থাটি আগে ছিল, গত ফেব্রুয়ারিতে তার মেয়াদ শেষ হয়। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝির সময় থেকে একটি নতুন সংস্থাকে বরাত দেয় পিডব্লুডি। ওই সংস্থাটির লিফটম্যানদের নতুনভাবে নিয়োগ করা হয়। নতুন লিফটম্যানদের এক সুপারভাইজারও রয়েছেন, যিনি রাতে বাড়ি চলে যান। ধৃত লিফটম্যানরা জেরার মুখে পুলিশকে জানিয়েছেন, যেহেতু রাতে সুপারভাইজার থাকতেন না, তাই তাঁদের প্রায় কেউই নাইট ডিউটির সময় লিফটে থাকতেন না। তাঁদের কেউ ঘুমোন, কেউ বা গান শোনেন, কেউ বা ব্যস্ত থাকেন আড্ডায়। সেই কারণে ঘটনার দিনও লিফটের ধারেকাছে কোনও লিফটম্যান উপস্থিত ছিলেন না।
ধৃত তিনজন লিফটম্যানই লালবাজারে জেরার মুখে গোয়েন্দা পুলিশকে জানিয়েছেন, ডিউটি শুরুর আগে তাদের শুধু শেখানো হয়, কীভাবে লিফট চালাতে হয়। যদি লিফট মাঝপথে থেমে যায়, তবে তাদের উপরের তলায় গিয়ে কীভাবে লিভার টেনে লিফটটি উপরে টানতে হবে, তা শেখানো হয়। কিন্তু কোনও বিপর্যয় হলে মোকাবিলার জন্য কী কী করতে হবে, সেই ব্যাপারে যে তাদের শেখানো হয়নি। তাঁদের দাবি, কোনও প্রশিক্ষণ না দিয়েই হাসপাতালে নিয়োগ করা হয়। এই ব্যাপারে তাদের সংস্থার কর্তৃপক্ষকে জেরা করতে চলেছেন গোয়েন্দারা। ধৃত লিফটম্যানরা গোয়েন্দাদের জানিয়েছে, যখন চিৎকার চেঁচামেচি চলছে, তখন তারা তিনজনই অন্য একটি লিফটে করে বেসমেন্টে যায়। ওই লিফটের সামনেও গ্রিল তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল। বেসমেন্টে নেমে ওই লিফটম্যানরা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী সোনালির চিৎকার শোনেন।
অভিযুক্ত লিফটম্যানদের দাবি, তারা মনে করেছিল, অরূপের পরিবার লিফটের ভিতর আটকে রয়েছেন। অরূপরা যে লিফট ও গ্রিলের মধ্যে আটকে রয়েছে এবং লিফটের গর্তে দাঁড়িয়ে বাঁচার চেষ্টা করছে, তা লিফটম্যানরা বুঝতেই পারেনি। তাই তারা সেই লিফট করে ফের উপরে উঠে যায়। একেবারে উপরের তলায় গিয়ে ট্রমা কেয়ারের ২ নম্বর লিফটের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয় তারা। এরপর লিভার টেনে ওই লিফটটি কপিকল দিয়ে তুলতে থাকেন। তার ফলে ওই লিফটের দরজাটি একবার খুলে সঙ্গে সঙ্গে প্রচণ্ড জোরে বন্ধ হয়ে যায়। তখন লিফটের দরজায় আটকে ছিল অরূপের পা। দরজায় আটকে থাকা অরূপকে নিয়েই লিফটটি ধীরে ধীরে উঠতে থাকে। তখনও হাতে টেনেই লিফট তুলছিল অভিযুক্তরা। আর তাতেই অরূপ ওই অবস্থায় উপরে উঠতে শুরু করেন। লিফট ও দেওয়ালের মধ্যে পিষে যান।
E-Paper

