DRDO Project in Junput: জুনপুটে বড় DRDO প্রকল্প, বাংলায় প্রতিরক্ষা গবেষণায় নতুন দরজা খুলছে

জুনপুটে DRDO-র প্রকল্পের কথা নতুন নয়। এর আগে এই এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পরিকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় স্তরে বাধা এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সেই কাজ দীর্ঘ সময় থমকে ছিল। সাম্প্রতিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে ওই প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। 

Published on: Sep 12, 2026, 15:11:10 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলীয় এলাকা জুনপুটে বড় প্রতিরক্ষা প্রকল্প গড়ে উঠতে চলেছে। শুক্রবার এই ঘোষণা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন বা DRDO-র তরফে জুনপুটে একটি বড় প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় জমি দেওয়ার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। প্রকল্পের বিস্তারিত অবশ্য এখনই প্রকাশ করেননি মুখ্যমন্ত্রী।

জুনপুটে DRDO-র প্রকল্পের কথা নতুন নয়। (@DRDO_India)
জুনপুটে DRDO-র প্রকল্পের কথা নতুন নয়। (@DRDO_India)

ফের আলোচনায় জুনপুট

জুনপুটে DRDO-র প্রকল্পের কথা নতুন নয়। এর আগে এই এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পরিকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় স্তরে বাধা এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সেই কাজ দীর্ঘ সময় থমকে ছিল। সাম্প্রতিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে ওই প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এখন রাজ্য সরকারের ইতিবাচক অবস্থানের ফলে প্রকল্পটি ফের গতি পেতে পারে।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, DRDO আগে রাজ্য সরকারের কাছে প্রকল্পের বিষয়ে যোগাযোগ করেছিল। বর্তমান সরকার সেই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার পর জুনপুটে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও পরীক্ষার পরিকাঠামো তৈরির সম্ভাবনা নতুন করে জোরালো হয়েছে। তবে প্রকল্পে ঠিক কী ধরনের প্রযুক্তি বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কাজ হবে, তা এখনও সরকারি ভাবে জানানো হয়নি।

প্রতিরক্ষা শিল্পে বাংলার নতুন পরিচয়?

এই প্রকল্পকে শুধুমাত্র একটি সরকারি পরিকাঠামো তৈরির উদ্যোগ হিসেবে দেখছে না রাজ্য সরকার। এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গকে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও প্রযুক্তির মানচিত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিয়ে আসার চেষ্টা হতে পারে। DRDO-র মতো কেন্দ্রীয় সংস্থার প্রকল্প এলে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত কাজ, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় পূর্ব মেদিনীপুরে এমন প্রকল্প গড়ে উঠলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়তে পারে। তবে সেই প্রভাবের পরিমাণ নির্ভর করবে শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটির ধরন, বিনিয়োগ এবং বাস্তবায়নের গতির উপর।

একসঙ্গে একাধিক বিনিয়োগের বার্তা

শুক্রবার শুধু DRDO প্রকল্পের ঘোষণাই নয়, বাংলায় একাধিক বেসরকারি বিনিয়োগের কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পুজোর আগে ৩৩টি সংস্থাকে জমি দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। শিল্প ও বিনিয়োগ বাড়াতে রাজ্য সরকার দ্রুত জমি বরাদ্দ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের দিকে জোর দিচ্ছে।

এছাড়াও আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর শিল্পপতি গৌতম আদানির রাজ্য সফরের কথাও জানান তিনি। পোশাক শিল্পের একটি বড় গোষ্ঠী আগামী সময়ে পশ্চিমবঙ্গে বহু নতুন আউটলেট তৈরি এবং বিপুল বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

পুরুলিয়ায় সোলার প্রকল্প

শিল্প ও প্রতিরক্ষার পাশাপাশি নবীকরণযোগ্য শক্তি খাতেও বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট পোশাক বিপণি গোষ্ঠী পুরুলিয়ায় প্রায় ১,০০০ একর জমির উপর সোলার প্রকল্প করতে আগ্রহী। ইতিমধ্যেই সংস্থাটি ১০০ একর জমি সরাসরি কিনেছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। ফলে একইসঙ্গে প্রতিরক্ষা, শিল্প, বাণিজ্য এবং নবীকরণযোগ্য শক্তি—একাধিক ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিনিয়োগের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার।

নজরে BRICS-ও

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, দিল্লিতে আয়োজিত BRICS শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ কর্মসূচিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় স্তরের বড় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গেও বাংলাকে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করার বার্তা মিলেছে।

সব মিলিয়ে জুনপুটে DRDO-র বড় প্রকল্পের ঘোষণা পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন আটকে থাকা প্রকল্প যদি বাস্তবে দ্রুত এগোয়, তাহলে শুধু পূর্ব মেদিনীপুর নয়, গোটা রাজ্যের প্রতিরক্ষা-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়তে পারে। এখন অপেক্ষা, জুনপুটে ঠিক কী প্রকল্প তৈরি হচ্ছে এবং কবে থেকে তার কাজ পুরোদমে শুরু হয়।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More