Diwali 2026: দীপাবলির আগে বড় পদক্ষেপ লালবাজারের! অবৈধ শব্দবাজি পাচার রুখতে বিশেষ কিউআর কোড
Diwali 2026: যেহেতু বাজি বাজার ছাড়া অন্য সব জায়গায় বাজি বিক্রি নিষিদ্ধ, তাই কালীপুজোর সময় ‘গজিয়ে ওঠা’ বাজির দোকানের উপর নজর দিচ্ছে পুলিশ।
Diwali 2026: হাতেগোনা আর কদিন, তারপরেই কালীপুজো ও দীপাবলি। দীপাবলির আগেই কলকাতা শহরে শুরু হয়েছে বাজি বাজারের প্রস্তুতি। আর কালীপুজো ও দীপাবলির আগে নিষিদ্ধ শব্দবাজি পাচার রুখতে অভিনব উদ্যোগ কলকাতা পুলিশের। সবুজ বাজির মোড়কে অবৈধ শব্দবাজি বিক্রি ও পাচার ঠেকাতে এবার কিউআর কোডের সাহায্য নিচ্ছে লালবাজার। কলকাতা পুলিশের রিজার্ভ ফোর্সের তৈরি বিশেষ কিউআর কোড স্ক্যান করলেই স্ক্রিনে দেখা যাবে ১৭০০টি বৈধ সবুজ বাজির তালিকা। নকল সবুজ শব্দবাজি ধরার ক্ষেত্রে এই কিউআর কোড পুলিশকে অনেকটাই সাহায্য করতে পারে বলে ধারণা লালবাজারের। এ ছাড়াও শহরের বিভিন্ন বাজি বাজারেও লাগানো হচ্ছে এই একই কিউআর কোড।

ক্রেতারা বাজি বাজারে সবুজ বাজি কিনতে এসেও সহজে বুঝতে পারবেন কোনটা বৈধ। একইসঙ্গে শব্দবাজি ধরতে শহরের সীমান্তবর্তী এলাকায় পুলিশের টহলদারি ও নাকা চেকিং জোরদার করা হয়েছে। যেহেতু বাজি বাজার ছাড়া অন্য সব জায়গায় বাজি বিক্রি নিষিদ্ধ, তাই কালীপুজোর সময় ‘গজিয়ে ওঠা’ বাজির দোকানের উপর নজর দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে বাংলা, ইংরেজি ও হিন্দি ভাষায় প্রায় ৯০ হাজার পোস্টার ও লিফলেট প্রকাশ করা হয়েছে। এতে সবুজ শব্দবাজি ও সবুজ আলোর বাজি ছাড়া যাতে অন্য কোনও ধরনের বাজি ফাটানো না হয়, সেই ব্যাপারেও পুলিশ আলাদাভাবে সতর্ক করেছে। এই পোস্টার ও লিফলেট দশটি ডিভিশনেই পাঠানো হচ্ছে। পুলিশের নির্দেশিকা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শব্দসীমা মেনে শুধুমাত্র অনুমোদিত সবুজ বাজি ও আতসবাজি ব্যবহার করা যাবে। সবুজ বাজির আড়ালে নিষিদ্ধ শব্দবাজি বিক্রি হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতেই এই বিশেষ উদ্যোগ।
পুলিশের লিফলেট ও পোস্টারে স্পষ্টতই উল্লেখ করা রয়েছে যে, চার মিটার দূরত্বে সর্বাধিক ১২৫ ডেসিবেলে শব্দ উৎপাদনকারী সবুজ বাজি ফাটানো যাবে। আলো উৎপাদনকারী সবুজ আতসবাজি ফাটানো যাবে চার মিটার দূরত্বে সর্বাধিক ৯০ ডেসিবেলে। লালবাজারের সূত্র জানিয়েছে, কালীপুজো বা দীপাবলির আগে থেকেই শোনা যায় বাজির শব্দ। কিন্তু কিছুটা দূর থেকেও বোঝা সম্ভব নয় যে, ওই শব্দবাজি সবুজ বাজি না কি অবৈধ। সেই কারণে প্রাথমিকভাবে নজরদারি চালানোর সময় পুলিশকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। যদি কোনও চ্যালেঞ্জ পুলিশের সামনে আসে, তবে একমাত্র ওই কিউআর কোড তার সমাধান করতে পারে। তার জন্য টহলরত পুলিশকর্মী ও আধিকারিকদের হাতেও কিউ আর কোডের মাধ্যমে বৈধ সবুজ বাজির তালিকা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের মতে, বিভিন্ন ধরনের শেলই প্রচণ্ড শব্দ তৈরি করে। মাটিতে ফেটে ওই শেল উপরে উঠে গিয়ে ফুল বা বিভিন্ন ডিজাইন তৈরি করে। ‘নিরি’র যে সবুজ বাজির তালিকা রয়েছে, সেগুলি ঘেঁটে পুলিশ আধিকারিকরা দেখেছেন, এর মধ্যে ‘সাউন্ড অ্যান্ড ফ্লাওয়ার পট’-এর প্রচুর বাজি রয়েছে। এ ছাড়াও শুধু ‘সাউন্ড’ উল্লেখ করাও বাজি রয়েছে ভুরিভুরি। পুলিশের মতে, ওই বৈধ সবুজবাজির মোড়কেই নকল শেল ও শব্দবাজি বাইরে থেকে শহরে পাচার করা হতে পারে। সেই পাচার রুখতে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যে নজরদারি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
E-Paper

