TMC Bank Account: বড় ধাক্কা কালীঘাট তৃণমূলের! অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় এখনই মিলল না স্বস্তি, আদালতের কড়া নির্দেশ
TMC Bank Account: কলকাতার হরিশ মুখার্জি রোডের এক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে তৃণমূলের চারটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। সেই অ্যাকাউন্টগুলিতে ৮০৩ কোটি টাকা রয়েছে। অ্যাকাউন্টগুলি বন্ধ করেছে পুলিশ। বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ এই তদন্ত চালাচ্ছে।
TMC Bank Account: অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে ধাক্কা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের। হরিশ মুখার্জি রোডের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে ফ্রিজ হওয়া চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট (Trinamool bank account) পুনরায় চালু করার আর্জি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল (TMC)। তবে এই মামলায় এখনই কোনও অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিতে রাজি হলো না উচ্চ আদালত। চারটি ব্যাঙ্কে রক্ষিত মোট ৮০৩ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন শুরু করার যে আবেদন জানানো হয়েছিল, তাতে সায় দেননি বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।

কলকাতার হরিশ মুখার্জি রোডের এক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে তৃণমূলের চারটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। সেই অ্যাকাউন্টগুলিতে ৮০৩ কোটি টাকা রয়েছে। অ্যাকাউন্টগুলি বন্ধ করেছে পুলিশ। বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ এই তদন্ত চালাচ্ছে। তারপরেই পুলিশি পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় কালীঘাট তৃণমূল। মামলাটি ওঠে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে। বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিকালে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাড়াহুড়ো করে কোনও নির্দেশ দেওয়া সম্ভব নয়। এই বিষয়ে প্রথমে রাজ্যকে বিস্তারিত হলফনামা জমা দিতে হবে। এরপর তার পালটা জবাব দেবে আবেদনকারী পক্ষও। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখার পরেই অ্যাকাউন্টগুলো খোলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আদালত।
উচ্চ আদালতে তৃণমূলের মূল আবেদন ছিল, অবিলম্বে ওই অ্যাকাউন্টগুলি খুলে দেওয়া হোক। পাশাপাশি এ-ও দাবি করা হয় যে, দলীয় কার্যালয় ও সংগঠনের দৈনন্দিন কাজকর্মের জন্য ওই অ্যাকাউন্টগুলোর মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে সেখানে প্রায় ২১৫ জন কর্মী কর্মরত রয়েছেন। অ্যাকাউন্ট বন্ধ থাকায় ওই কর্মীদের বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই অবিলম্বে বেতনের টাকা তোলার অনুমতি দেওয়ার আর্জি জানানো হয়। সেই সঙ্গে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার চলমান তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর স্থগিতাদেশ জারিরও আবেদন করা হয়েছিল। তবে এদিন আদালতের তরফ থেকে কোনও আবেদনেই তাৎক্ষণিক সাড়া মেলেনি। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, এর আগে অন্য একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে ফ্রিজ থাকা অ্যাকাউন্টগুলি থেকে দৈনিক দলীয় কাজকর্মের খরচ মেটানোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে স্পেশাল অফিসার (Special Officer) নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। নিম্ন আদালতের সেই নির্দেশে পরবর্তীতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টও অনুমোদন বা সায় দেয়। ফলে দল বা সংগঠনের প্রকৃত মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই অ্যাকাউন্টগুলি চালু করার বিষয়ে নতুন করে কোনও ভিন্ন আদেশ দেওয়া সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট করে দেন বিচারপতি।
অন্যদিকে, আদালতের পর্যবেক্ষণে রাজ্য সরকারের পক্ষে পুলিশি পদক্ষেপের যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়। রাজ্যের পক্ষ থেকে যুক্তি দিয়ে জানানো হয় যে, বিধাননগর সাইবার থানার মামলার তদন্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। দেখা গিয়েছে এই চারটি অ্যাকাউন্টগুলিতে দেবরাজ চক্রবর্তী একাধিকবার ১০ কোটি করে দিয়েছেন। 'লিপস আন্ড বাউন্সের' (Leaps and Bounds) তরফ থেকে ৩০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। আরও দাবি, সুমিত রায় ৭ কোটি দিয়েছেন। বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিবর্গ ও সংস্থার মাধ্যমে এত বিপুল পরিমাণ টাকা জমা হওয়ার কারণেই অ্যাকাউন্টগুলির লেনদেন বন্ধ রাখা হয়েছে বলে আদালতে দাবি করেছে রাজ্য প্রশাসন।
E-Paper

