RG Kar case: আরজি কর-কাণ্ডে নয়া মোড়! তড়িঘড়ি দাহ'র নেপথ্যে লুকিয়ে কোন অধরা সূত্র? পানিহাটি শ্মশানে CBI

RG Kar case: ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট পানিহাটি শ্মশানে সৎকার করা হয় মৃত চিকিৎসকের দেহ। আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতার পরিবারের তরফ থেকে আগেই দাবি করা হয়েছিল চিকিৎসক তরুণীর দেহ তড়িঘড়ি নিয়ে গিয়ে পানিহাটি শ্মশানে শেষকৃত্য করে দেওয়ার।

Published on: Jun 17, 2026, 14:21:12 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

RG Kar case: আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই। ঘটনার এক বছর পরও এই বহুচর্চিত মামলার একাধিক প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। সেই কারণেই তদন্তকারী সংস্থা পুরনো তথ্য ও প্রমাণ খতিয়ে দেখে নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করেছে। এবার তদন্তের অংশ হিসেবে বুধবার পানিহাটি শ্মশানে পৌঁছয় সিবিআইয়ের একটি বিশেষ দল। ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন! কীভাবে সম্পূর্ণ দাহকার্য সম্পন্ন হয়েছিল, তার খুঁটিনাটি বিষয় সহ যাবতীয় তথ্য ও নথি জানতেই এদিন পৌঁছয় তদন্তকারী আধিকারিকারা।

আরজি কর-কাণ্ডে নয়া মোড়! (HT_PRINT)
আরজি কর-কাণ্ডে নয়া মোড়! (HT_PRINT)

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের মামলার তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই-এর এসআইটি। ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট পানিহাটি শ্মশানে সৎকার করা হয় মৃত চিকিৎসকের দেহ। তবে আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতার পরিবারের তরফ থেকে আগেই দাবি করা হয়েছিল চিকিৎসক তরুণীর দেহ তড়িঘড়ি নিয়ে গিয়ে পানিহাটি শ্মশানে শেষকৃত্য করে দেওয়ার। তাঁদের দাবি, মৃত্যুর পর প্রয়োজনীয় সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই দেহ সৎকারের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এই অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। তদন্তের স্বার্থে সেই অভিযোগগুলিকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে সিবিআই। বুধবার সকালে সিবিআইয়ের একটি দল পানিহাটি শ্মশানে গিয়ে বিভিন্ন নথি সংগ্রহ করে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীরা শ্মশান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং সেদিনের দাহ-সংক্রান্ত রেকর্ড, প্রবেশ ও নির্গমন সংক্রান্ত তথ্য, উপস্থিত কর্মীদের ভূমিকা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি খতিয়ে দেখেন। এছাড়াও, ওই সময় দায়িত্বে থাকা কয়েকজন কর্মচারীর বয়ানও রেকর্ড করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

তদন্তকারী সংস্থার মূল লক্ষ্য হল, নির্যাতিতার দেহ শ্মশানে পৌঁছনোর পর কী কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল এবং সেই প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের অনিয়ম হয়েছিল কিনা, তা যাচাই করা। বিশেষ করে দেহ হস্তান্তর, দাহের সময়, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং প্রশাসনিক অনুমোদনের বিষয়গুলি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, সমস্ত নিয়ম মেনে কাজ হয়েছিল কিনা এবং কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখা হয়েছিল কিনা।

সে দিন ঠিক কী ঘটেছিল?

সূত্রের খবর, মৃত চিকিৎসকের শেষকৃত্য করার কথা জানানো হয়েছিল পানিহাটি শ্মশানের ম্যানেজার ভোলানাথ পাত্রকে। তাঁকে জানানো হয়, স্থানীয় একটি মেয়ের দেহ আসবে। সেই মতো সব ব্যবস্থা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। তবে ভোলানাথেরা ততক্ষণে আরজি কর-কাণ্ডের কথা জেনে গিয়েছেন। শ্মশানে বাড়তে থাকে পুলিশি নিরাপত্তা। স্থানীয় বিধায়ক, কাউন্সিলর, নেতাদের ভিড়ও ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। সেই ভিড়ের কারণে যাতে বিশৃঙ্খলা তৈরি না-হয়, সেই কারণে কী আগেভাগে মৃত মহিলা চিকিৎসকের দেহ দাহ করা হয়েছিল? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সিবিআই আধিকারিকেরা ভোলানাথের সঙ্গে কথা বলেন। সেদিনের ঘটনার খুঁটিনাটি বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাছাড়া, নানান বিষয় সম্পর্কে খোঁজখবর নেয় সিবিআই। তদন্তের সূত্র ধরে সোমবার আরজি কর হাসপাতালেও গিয়েছিল তারা।

দু’বছর আগে, ২০২৪ সালের অগস্টে আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণ ও খুন করা হয় এক মহিলা চিকিৎসককে। ওই ঘটনায় আসামি সঞ্জয় রায়কে ইতিমধ্যে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। তবে আরজি করের ওই ঘটনার তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফের আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে নির্যাতিতার পরিবার। গত মাসেই কলকাতা হাইকোর্ট সিবিআই-কে জানায়, আরজি কর হাসপাতালের সেমিনার হল-সহ যে যে জায়গা সিল করার প্রয়োজন, সেগুলি সিল করে দিতে হবে। রাজ্যে পালাবদলের পর আবার আরজি কর তদন্তের ফাইল খোলার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।