Mamata Banerjee: সংঘর্ষের পর অভিষেকের বাড়িতে মমতা! 'সব জানি বলাইবাবু...,' কার প্রতি হুঁশিয়ারি দিদির কণ্ঠে?

Mamata Banerjee: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, তাঁর বাড়ির পুজোয় যাতে এ বছর কেউ যেতে না পারে, তাই সামনের রাস্তার মোড়ে নতুন পুজো করা হচ্ছে। বেআইনি ভাবে তার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

Published on: Nov 7, 2026, 15:36:01 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Mamata Banerjee: শুক্রবার রাতে কালীঘাটে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বাড়ির সামনে দফায় দফায় সংঘর্ষ এবং চরম উত্তেজনার পর, শনিবার সকালেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেখানে গিয়েই ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান তিনি। সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ক্ষমতা থাকলে তাঁর উপর দিয়ে বুলডোজার চালানো হোক। মমতার অভিযোগ, রাত ৩টেয় ‘লুম্পেন’ নিয়ে কেন হামলা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় পুজো কমিটির ভূমিকা নিয়েও একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (HT_PRINT)
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (HT_PRINT)

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার মধ্যরাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর বাড়ির সামনে অনুগামীরা জমায়েত হয়েছিলেন। সেই সময় ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের অনুগামীদের সঙ্গে স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বচসা, ধস্তাধস্তি, ইট ছোড়াছুড়ি এমনকি মুখোমুখি সংঘর্ষের জেরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, তাঁদের কার্যালয়ও ভাঙচুর করা হয়েছে। সেই নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের শাসকদল বিজেপির পাশাপাশি কালীঘাটর পুলিশের দিকেও আঙুল তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘কালীঘাট থানার ওসি-কে অভিষেক যখন বলে, তখন খারাপ ব্যবহার করেন। ওঁরা ভাবে ওঁরা ভগবান!’ সেখানেই থামেননি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমার কারও সঙ্গে সমস্যা নেই। কিন্তু নিরপেক্ষতা বজায় রাখুন! সরকারকে অবশ্যই সমর্থন করবেন। আমি জানি, সরকারের অধীনে পুলিশ কী ভাবে কাজ করে!’ তার পরেই কালীঘাট থানার আধিকারিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পুলিশ যদি সীমা অতিক্রম করে, তা হলে প্রয়োজনে তিনি নিজেই সুপ্রিম কোর্টে যাবেন।

কালীঘাটের ঘটনার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করান থানার ওসি বলাই বাগকে। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েকটি থানা যা করে বেড়াচ্ছে! এখানে (কালীঘাট থানা) নতুন এক জনকে আনা হয়েছে। সব জানি বলাইবাবু! আপনার কী ক্ষমতা, কত প্রোমোশন পাবেন!’ এর পরেই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আপনি পান। আপনার পরিবার ভাল থাকুক। আপনাকে শুভ দীপাবলি। মনে রাখবেন, জনরোষের যদি বিস্ফোরণ ঘটে!’ নিজের পাড়া থেকে গোটা রাজ্যেই মেয়েদের এগিয়ে আসার ডাক দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বঞ্চিত, লাঞ্ছিতদের জোট বাঁধতে বলেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, তাঁর বাড়ির পুজোয় যাতে এ বছর কেউ যেতে না পারে, তাই সামনের রাস্তার মোড়ে নতুন পুজো করা হচ্ছে। বেআইনি ভাবে তার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, 'আমার বাড়ির মোড়ে কোনও দিন কোনও পুজো হয় না। আমাদের পাড়ায় পাঁচ-ছটা পুজো হয় পরপর। আমার বাড়ির উল্টোদিকেও পুজো হয়। লোকজন ঢুকবে কী করে? পুলিশের দেখা উচিত, রাস্তা পরিষ্কার রাখা।' তাঁর অভিযোগ, পুজোর নামে রাস্তা আটকে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, 'যদি বেআইনিভাবে অনুমতি দিয়ে রাস্তা আটকানো হয়, তাহলে এত পুলিশ এখানে কী দরকার? কেন এত পুলিশ এখানে দাঁড়িয়ে আছে? এর উদ্দেশ্য কী?'

এর পরেই গর্জে উঠে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'তোমাদের কতগুলো বুলডোজার আছে? সব নিয়ে এসো। সাহস থাকলে আমার শরীরের উপর দিয়ে বুলডোজার চালিয়ে দাও। আমি এখানেই দাঁড়িয়ে আছি। দেখি, তোমরা কতদূর যেতে পারো। সাহস থাকলে আমার বুকের উপর দিয়ে বুলডোজার চালিয়ে দাও। মানুষ আর কত অত্যাচার, হেনস্থা ও অবিচার সহ্য করবে? বিজেপি অত্যাচারের সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। যারা এর জন্য দায়ী, তাদের আমি প্রকাশ্যে সামনে এসে আমার মুখোমুখি হওয়ার চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি।'

অন্যদিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ (Sajal Ghosh)। তিনি দাবি করেন, বিরোধী জোটে থাকার কারণে হামলা হওয়ার যুক্তি ভিত্তিহীন। পাশাপাশি, মাঝরাতে রাস্তায় জন্মদিন পালনের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।