CM Mamata Banerjee: 'স্লো কাউন্টিং করবে...,' ভোটগণনায় বড় কারচুপির শঙ্কা, কর্মীদের কী নিদান দিলেন মমতা?

CM Mamata Banerjee: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে বড় অভিযোগ ইভিএম এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে। কর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ইভিএমে চিপ ঢুকিয়ে কারচুপি করা হতে পারে।

Published on: Apr 18, 2026, 16:59:06 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

CM Mamata Banerjee: 'স্লো কাউন্টি হতে পারে। প্রথমেই ওরা রটিয়ে দেবে তৃণমূল হারছে।' হাওড়ার উলুবেড়িয়ার জনসভা থেকে এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের প্রচার যত এগোচ্ছে, ততই সুর চড়াচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে ভোটগণনার দিন এবং ইভিএমের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। একই সঙ্গে ভোটগণনা নিয়ে দলীয় কর্মীদের বিশেষ বার্তাও দিয়েছেন তিনি।

গণনা নিয়ে দলের কর্মীদের বিশেষ নির্দেশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (PTI)
গণনা নিয়ে দলের কর্মীদের বিশেষ নির্দেশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (PTI)

ভোটগণনায় কারচুপির আশঙ্কা

আগামী ৪ মে বাংলায় ভোটগণনা। এই আবহে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ইচ্ছে করে ‘স্লো পোলিং’ এবং ‘স্লো কাউন্টিং’ করার পরিকল্পনা করেছে। তাঁর দাবি, শুরুতেই রটিয়ে দেওয়া হতে পারে যে তৃণমূল হারছে, কিন্তু তাতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে তিনি বলেন, ‘ভোট থেকে গণনা, ওরা স্লো পোলিং করবে। স্লো কাউন্টিং করবে। প্রথমেই ওরা রটিয়ে দেবে তৃণমূল হারছে। কিন্তু সূর্যোদয় বিজেপি দিয়ে হলে সূর্যাস্ত করবে তৃণমূল। শেষে দেখবেন তৃণমূলই জিতেছে। আমরা আগের চেয়ে বেশি আসনে জিতব।’ পাশাপাশি, বাংলা থেকেই দিল্লি থেকে বিজেপিকে উৎখাতের ডাক দিয়েছেন নেত্রী।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে বড় অভিযোগ ইভিএম এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে। কর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ইভিএমে চিপ ঢুকিয়ে কারচুপি করা হতে পারে। ভোটগণনার দিন কী করতে হবে, দলের কর্মীদের তা নিয়ে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, ‘ইভিএম মেশিন ১ থেকে ১০০০ গুনতে হবে। মেশিনের প্রতিটি বোতাম টিপে দেখতে হবে সেই ভোট সেখানে পড়ছে কিনা। ভিভিপ্যাট ছাড়া ইভিএম মেশিন পরীক্ষা করা যাবে না। ভোটের দিন ওরা বদমায়েশি করে মেশিন খারাপ করে দেবে। যত ক্ষণ নতুন মেশিন না-আনা হচ্ছে, তাতে ভোট করতে দেবেন না। নয়তো মেশিনে চিপ ঢুকিয়ে দিতে পারে। নিজের ভোট নিজে দেবেন।’ এমনকী ভোটের দিন ইচ্ছা করে মেশিন খারাপ করে দেওয়ার চক্রান্ত হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

কেন্দ্রীয় সংস্থার তৎপরতা

পশ্চিমবঙ্গে ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর অতি-তৎপরতা নিয়ে সরব হয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, কেন কেবল তৃণমূল নেতাদের বাড়িতেই হানা দেওয়া হচ্ছে? তাঁর সাফ কথা, ‘বিজেপির বাড়িতে, কংগ্রেসের বাড়িতে, সিপিএমের বাড়িতে তো হানা দেওয়া হয় না। যত দোষ তৃণমূলের। আমি বিশ্বাস করি আমার দলের লোকেরা টাকার কাছে মাথা নত করে না। লড়াই করে। এটা আমাদের বদলার লড়াই। আমি যদি যোদ্ধা হই, মা-বোনেরা আমার সহযোদ্ধা।’ এই পরিস্থিতিকে ‘বদলার লড়াই’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘বিজেপির তাঁবেদারি করতে যারা এসেছে, তাদের বলে রাখছি, বিজেপি চিরকাল থাকবে না। মানুষ কিন্তু তখন বদলা নেবে। দিল্লি থেকে বিজেপিকে উৎখাতের সূচনা হোক বাংলার মাটি থেকে।’

বিজেপিকে কটাক্ষ

এদিন বিজেপিকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘দেশটাকে লুটেপুটে খাচ্ছ। সর্বনাশ করে দিয়েছে দেশটার। সৌদি আরবে গিয়ে সেখানকার নেতার সঙ্গে কোলাকুলি করার সময় তো হিন্দু-মুসলিম দেখো না! ওমানে এত গোমাংস রফতানি করা হয়। আর বাংলায় মাছ-মাংস বন্ধ করতে চাইছে।’ মহিলা বিল নিয়ে সংসদে কেন্দ্র যে ধাক্কা খেয়েছে, তাকে কটাক্ষ করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘লোকসভায় পরাস্ত হয়েছ। এবার (বাংলার) মাটিতে পরাস্ত হতে হবে। বাংলাই পথ দেখাবে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘বিজেপির পতন শুরু হয়ে গিয়েছে। বিজেপিকে আমরা হারিয়েছি। মুখে ঝামা ঘষে দেওয়া হয়েছে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা তো নেই। অন্যের সমর্থনে কুর্সিতে বসে আছে। সব যাবে।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ডিলিমিটেশন চেয়েছিল। দেশ ভাগ করতে চেয়েছিল। বিল এনে মহিলাদের আসন দিতে হয় না আমাদের। লোকসভায় নির্বাচিত মহিলা সাংসদদের সংখ্যা ৩৬ শতাংশ। রাজ্যসভায় ৪৬ শতাংশ। এমন আর কোথাও নেই। বিজেপির শিক্ষা নেওয়া উচিত। মহিলা সংরক্ষণের জন্য ৯৮ সাল থেকে আমি লড়ছি।’