WB By Election TMC-Congress: নন্দীগ্রাম-রেজিনগর উপনির্বাচনে জোটের প্রস্তাব মমতার, ‘না’ কংগ্রেসের

সূত্রের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম আসনটি কংগ্রেসকে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পাশাপাশি রেজিনগরে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থীকে সমর্থন করার জন্য কংগ্রেসের কাছে আবেদন জানান তিনি। নন্দীগ্রামে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থীকে সরিয়ে কংগ্রেসকে লড়ার সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।

Published on: Sep 15, 2026, 07:35:47 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

WB By Election TMC-Congress: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন ঘিরে বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছেন কালীঘাট তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সন্ধ্যায় এআইসিসির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক কেসি বেনুগোপালকে ফোন করে তিনি এই প্রস্তাব দেন বলে সূত্রের খবর। তবে কংগ্রেস নেতৃত্ব সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি বলেই জানা গিয়েছে।

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন ঘিরে বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। (Mamata Banerjee social media)
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন ঘিরে বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। (Mamata Banerjee social media)

সূত্রের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম আসনটি কংগ্রেসকে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পাশাপাশি রেজিনগরে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থীকে সমর্থন করার জন্য কংগ্রেসের কাছে আবেদন জানান তিনি। নন্দীগ্রামে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থীকে সরিয়ে কংগ্রেসকে লড়ার সুযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। মূল লক্ষ্য ছিল বিজেপিকে আটকাতে দুই দলকে একসঙ্গে লড়াই করানো।

এই প্রস্তাব ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছিল, তা হলে কি উপনির্বাচনে কংগ্রেস ও কালীঘাট তৃণমূলের মধ্যে নতুন করে জোট হতে চলেছে? কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনা আপাতত তৈরি হয়নি। কংগ্রেসের অন্দরের খবর, মমতার প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করেছে দলীয় হাইকমান্ড।

কংগ্রেসের যুক্তি, অতীতে তৃণমূলের সঙ্গে জোটের অভিজ্ঞতা তাদের জন্য সুখকর ছিল না। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্ট সরকারকে সরাতে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেছিল তৃণমূল। নির্বাচনে জোট সাফল্য পাওয়ার পর তৃণমূল সরকার গঠন করে। কিন্তু পরের বছরই কংগ্রেসের সঙ্গে সেই সম্পর্ক ভেঙে যায়। এরপর রাজ্যে তৃণমূলের শাসনকালে কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের উপর রাজনৈতিক আক্রমণ, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং খুনের অভিযোগও উঠেছে বলে কংগ্রেসের দাবি। ফলে আবার তৃণমূলের সঙ্গে জোট করার প্রস্তাব নিচুতলায় ভালোভাবে নেয়নি দলের কর্মীরা।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার স্পষ্ট জানিয়েছেন, তৃণমূল সত্যিই জোট চাইলে আগে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই আসনেই কংগ্রেসকে সমর্থন করুক। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল যদি এই সিদ্ধান্ত নেয়, তা হলে ভবিষ্যতে জোটের রাস্তা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। অর্থাৎ উপনির্বাচনে আসন ছাড়ার বদলে তৃণমূলকেই কংগ্রেসের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছে প্রদেশ নেতৃত্ব।

এদিকে দুই কেন্দ্রে ইতিমধ্যেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে কংগ্রেস ও কালীঘাট তৃণমূল। নন্দীগ্রামে কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধান এবং রেজিনগরে মহম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফি। অন্যদিকে কালীঘাট তৃণমূল নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরীকে প্রার্থী করেছে। সোমবারই রেজিনগরে কংগ্রেসের প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শুভঙ্কর সরকারও।

এর পাশাপাশি তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে দলের দুই শিবিরের মধ্যে টানাপোড়েনও চলছে। ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলও নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে প্রার্থী দিয়েছে। নন্দীগ্রামে তাদের প্রার্থী এহতাশামুল হক এবং রেজিনগরে সফিউজ্জমান শেখ। ফলে দুই কেন্দ্রে একদিকে কংগ্রেস বনাম তৃণমূলের লড়াই, অন্যদিকে তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যেও সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে চলেছে।

বিশেষ করে নন্দীগ্রামে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে-কে ঘিরে স্থানীয় স্তরে প্রশ্ন উঠেছে বলে খবর। ২০১৪ সালের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁর নাম জড়ানোর বিষয়টি সামনে এনে প্রার্থীর ভাবমূর্তি নিয়ে দলের একাংশে অসন্তোষ রয়েছে বলে সূত্রের দাবি। যদিও প্রকাশ্যে এখনও বড় ধরনের বিরোধিতা দেখা যায়নি।

এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, প্রার্থী বাছাই নিয়ে চাপের মুখেই কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেছিলেন? আপাতত সেই উদ্যোগ সফল হয়নি। ফলে আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে কংগ্রেস, কালীঘাট তৃণমূল এবং ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল—তিন পক্ষের লড়াই কতটা জমে ওঠে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More