Mamata Banerjee on Gyanesh: জ্ঞানেশ কুমারকে ইম্পিচমেন্টের প্রস্তাবের সুর মমতার কণ্ঠে! কোমর কষছে তৃণমূল?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক কী বলেছেন?
দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এবার সংসদে ইম্পিচমেন্টের প্রস্তাব আনতে কোমর কষছে তৃণমূল। এর আগে, সোমবার থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফরের সময় থেকেই সংঘাতের সুর সপ্তমে উঠতে থাকে। সোমবারই নির্বাচন সদনে এসআিআর-এ ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করেন। তবে খানিক পরই সেই বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে এসে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে অপমান করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। এরপর মঙ্গলবার বঙ্গভবনে সাংবাদিক বৈঠক করেন মমতা। সেখানেই তাঁর কণ্ঠে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইম্পিচমেন্টের প্রস্তাবের পক্ষে সায় দেওয়ার সুর শোনা যায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আজকের সাংবাদিক বৈঠকে এক সাংবাদিক, রাহুল গান্ধীর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার-সহ অন্য কমিশনারদের বিরুদ্ধে রেট্রোস্পেকটিভ আইন আনার দাবির প্রসঙ্গটি তুলে ধরেন। এই ইস্যুতে রাহুলকে কি মমতা সমর্থন করবেন? এই প্রশ্ন মমতার কাছে যেতেই তিনি বলেন,' কোনও কিছু যদি জেনুইন, প্র্যাকটিকাল হয় এবং জনতার ভালোর জন্য হয়, আমরাও চাইব ইম্পিচমেন্ট হোক। আমাদের নম্বর নেই। কিন্তু ইম্পিচমেন্ট হতেই পারে। ধারা রয়েছে। রেকর্ড তো হয়ে যাবে।' পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা,'উনি যদি এমন করেন, তবে আমরা আমাদের সাংসদদের সঙ্গে আলোচনা করে জনগণের স্বার্থে এককাট্টা হয়ে কাজ করব। এতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই।'
উল্লেখ্য, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদটি একটি সাংবিধানিক পদ। ফলত, সাংবিধানিক পদে কেউ থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনতে গেলে অন্তত ১০০ জন সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন। তবে, মৌসম নুরের ইস্তফার পর তৃণমূলের সাংসদ সদস্য সংখ্যা ৪১। সেই জায়গা থেকে যদি তৃণমূল এই লক্ষ্যে এগোয়, তাহললে সম্ভবত ইন্ডি ব্লকের অনেক দলকেই কাছে চাইবে তৃণমূল। এক্ষেত্রে অখিলেশের সমাজবাদী পার্টিকে ঘাসফুল শিবির পাশে পাবে বলে মনে করছে তৃণমূল। এই জায়গা থেকে রাজনৈতিক ঘূর্ণিতে দুটি দিক উঠে আসছে। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ইম্পিচমেন্টের জন্য তৃণমূলের উদ্যোগ নেওয়ার ব্যাপারটি,বিজেপি বিরোধী শিবির ইন্ডি ব্লকে তৃণমূলকে উজ্জ্বল জায়গায় রাখবে, আর তৃণমূলের প্রস্তাবে যারা সায় দিতে চাইবে না, সেই দলগুলির বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এমনই দাবি রিপোর্টের। ফলত, বাংলার নির্বাচনের আগে, দিদির এই বার্তা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। মমতার সাংবাদিক বৈঠকের পর সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন অভিষেকও। ‘আনন্দবাজার ডট কম’র খবর অনুসারে, ওই বৈঠকেই দলের সবচেয়ে উঁচু তলার নেতৃত্ব, দলের সাংসদদের নির্দেশ দিয়েছে, জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করতে।
E-Paper











