Mamata on Bangladesh Election: 'বাংলাদেশে কী শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হল', সার্টিফিকেট মমতার, ভারতের কমিশনকে নিশানা

ভারতের নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের নির্বাচনের উল্লেখ করলেন। তিনি দাবি করলেন, বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে ‘তুঘলকি’ কমিশন বলে নিশানা করেন।

Published on: Feb 17, 2026 4:34 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ভারতের নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করতে গিয়ে বাংলাদেশের ভোটকে সার্টিফিকেট দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করলেন যে বাংলাদেশের নির্বাচনে মারাত্মক হিংসা ছড়াবে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। কিন্তু শান্তিপূর্ণভাবেই বাংলাদেশে নির্বাচন হয়েছে। সেখানে ভারতের গণতন্ত্রকে নির্বাচন কমিশন ধ্বংস করছে বলে দাবি করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা বলেন, ‘ওদের দেখা উচিত। গত কয়েকদিন আগেই বাংলাদেশে নির্বাচন হল। সকলেই ভেবেছিলেন যে হিংসা হবে, এটা হবে, সেটা হবে। কিন্তু দেখুন, ওরা কীভাবে শান্তিপূর্ণ উপায়ে (নির্বাচন) করেছে। আর গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারতে (এরকম ঘটনা) লজ্জাজনক বিষয়। তুঘলকি কমিশন। গণতন্ত্রকে শেষ করে দিচ্ছে আপনাদের থ্রেট কালচার। আপনারা গণতন্ত্রকে গুঁড়িয়ে দিচ্ছেন। গণতন্ত্রকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। গণতন্ত্রকে খতম করার চক্রান্ত। রাজতন্ত্রও কোনওদিন এ জিনিস করেনি। তুঘলকি রাজেও এ জিনিস হয়নি। সুপার তুঘলকি রাজ চলছে। সুপার হিটলার হয়ে গিয়েছে।’

নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। (ফাইল ছবি, সৌজন্যে পিটিআই)
নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। (ফাইল ছবি, সৌজন্যে পিটিআই)

বাংলায় 'জোচ্চুরির চচ্চড়ি’ চলছে, অভিযোগ মমতার

মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগেই একটি দলের (পড়ুন বিজেপি) ভোট করিয়ে দিচ্ছে ‘মহম্মদ বিন তুঘলক’ কমিশন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স বা এআই) মাধ্যমে লাখ-লাখ ভোটারকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেক যোগ্য ভোটারও আছেন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকেও অনেকের নাম বাদ দেওয়া হতে পারে। বাংলায় কমিশন ‘পুরোপুরি দু'নম্বরি খেলা এবং জোচ্চুরির চচ্চড়ি’ চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

সাত AERO-কে সাসপেন্ড কমিশনের

সেই রেশ ধরে মুখ্যমন্ত্রী ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সমীক্ষায় (এসআইআর) যুক্ত থাকার রাজ্যের অফিসারদের পাশে থাকারও বার্তা দিয়েছেন। আর তিনি সেটা বলেছেন রাজ্যের সাত আধিকারিকের সাসপেনশনের পরে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় গরমিলের অভিযোগে ওই সাত অতিরিক্ত ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারকে (এইআরও) সাসপেন্ড করেছে কমিশন। সেইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে নির্দেশ দিয়ে কমিশনের তরফে বলা হয়েছে যে ওই সাত অফিসারের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে।

আপনার চাকরি কতদিন থাকবে? কমিশনকে হুংকার মমতার

আর সেই নির্দেশের পরদিনই উষ্মাপ্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিজেপির ছাতার তলায় থেকে এসআইআরের নামে অফিসার ও সাধারণ মানুষের উপরে অত্যাচার করছে কমিশন। ১৬০ জনের বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন। বুথ লেভেল অফিসাররা (বিএলও) আত্মঘাতী হয়েছেন সুইসাইড নোট লিখে। সেক্ষেত্রে কমিশনের বিরুদ্ধে কেন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না? বিজেপি অভিযোগ করেছে বলে তো এইআরওদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ডিএমদের (জেলাশাসক) বলছে যে আপনার চাকরি আমার হাতে। কীসের হাতে? আপনার চাকরি কতদিন থাকবে? ছাব্বিশের পরে এই কেন্দ্রীয় সরকারই তো থাকবে না। এখন থেকে আপনাদের বলছি। আপনারা খোঁজ রাখুন। অনেক ঘটনা গিয়েছে এর মধ্যে। মুখ খুলিনি আমরা।’