Mamata Banerjee: ক্ষমতার অলিন্দে পালাবদলে ফাঁকা কালীঘাট! উধাও চেনা ভিড়, বাড়ির কালীপুজোয় ‘একাকী’ মমতা

Mamata Banerjee: রাজনৈতিক সমীকরণ বদলালেও বাড়ির পুজো ঘিরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়মে কোনও বদল ঘটেনি। বছরের এই বিশেষ দিনটিতে তিনি বরাবরই রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে ঘরের মেয়ে। এবারও তাঁকে গৃহকর্ত্রীর ভূমিকাতেই পাওয়া গেল।

Published on: Nov 8, 2026, 23:22:19 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Mamata Banerjee: ক্ষমতার অলিন্দে পালাবদল ঘটলে চেনা বৃত্তের চরিত্রও যে কতটা দ্রুত বদলে যায়, তারই প্রতিচ্ছবি ধরা পড়ল কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে। এক বছর আগেও যে বাড়ির উঠোন অমাবস্যার রাতে রাজ্য রাজনীতির ভরকেন্দ্র হয়ে উঠত, ২০২৬ সালের কালীপুজোয় সেই চেনা আবহটাই উধাও। বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর এই প্রথম কালীপুজোয় একা বসে থাকতে দেখা গেল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

বাড়ির কালীপুজোয় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (AITC Media Cell)
বাড়ির কালীপুজোয় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (AITC Media Cell)

রবিবার হরিশ চ‌্যাটার্জি স্ট্রিটে কিছু পুলিশের গাড়ির জটলা ছাড়া বাকি রাস্তাটা ফাঁকা। নেই অনুগামীদের ভিড়। রয়েছেন শুধুই নিরাপত্তারক্ষীরা। অন‌্যান‌্যবার জনসমাগম যা হত সবই পাড়া প্রতিবেশী আর জেলা থেকে আসা কর্মী আর আম-জনতার। কালীপুজোর দিনটা কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির দরজা সকলের জন্য থাকত খোলা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু প্রত্যেকবার যে ভিভিআইপিরা সব সময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ঘিরে থাকত, তাঁরা উধাও এদিন। প্রতি বছর যাঁরা অতিথি আপ্যায়ন এবং পুজোর ব্যবস্থাপনার তদারকির গুরুদায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিতেন, সেই ফিরহাদ হাকিম বা অরূপ বিশ্বাসের মতো হেভিওয়েট মুখদের আর দেখা মেলেনি। নবান্নর শীর্ষ আমলা কিংবা আইপিএস কর্তাদের আনাগোনাও পুরোপুরি বন্ধ। নেই পরিচিত মুখ কিংবা টলিউডের ভিড়। অথচ অতীতে এই পুজোয় রাজ্যের রাজ্যপালকেও সস্ত্রীক উপস্থিত হতে দেখা গিয়েছে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এবারের চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। তবে এসবের মধ্যেই চেনা আটপৌরে শাড়ির বেশে যারা এদিন বাড়িতে আসছেন, তাঁদের নিজে আপ্যায়ন করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজনৈতিক সমীকরণ বদলালেও বাড়ির পুজো ঘিরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়মে কোনও বদল ঘটেনি। বছরের এই বিশেষ দিনটিতে তিনি বরাবরই রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে ঘরের মেয়ে। এবারও তাঁকে গৃহকর্ত্রীর ভূমিকাতেই পাওয়া গেল। পুজোর ভোগ রান্না করা থেকে শুরু করে উপস্থিত সাধারণ অতিথিদের আপ্যায়ন— সবই তিনি নিজের হাতে সামলান। যদিও আগের মতো গমগম করা ভিড়ের চেনা কোলাহল এদিন ছিল না। একা বসে পুজোর কাজ দেখতে দেখা যায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে। সন্ধ্যার দিকে তৃণমূল শিবিরের একাংশের বক্তব্য ছিল, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ছবিটা বদলাতে পারে। তাদের মনে হয়েছিল, পুজো সবে শুরু হয়েছে, হয়তো ভিড় আস্তে আস্তে বাড়বে। তবে রাতের দিকেও ছবিটা যে পুরোপুরি বদলে গিয়েছে তা নয়। লোক সমাগম কিছুটা বাড়লেও গত কয়েক বছরের সঙ্গে তার কোনও তুলনা চলে না। অবশ্য সন্ধ্যার পর থেকে একে একে উপস্থিত হন সাংসদ সৌগত রায়, দোলা সেন, বিধায়ক কুণাল ঘোষ-সহ ছাত্র-যুব নেতাদের অনেকেই। ঘুরে যান প্রাক্তন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ আরও কয়েকজন প্রাক্তন বিধায়ক ও নেতা। রাতের দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছান সস্ত্রীক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পুজোর আয়োজনের মাঝেমাঝেই এসে অতিথিদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

প্রত্যেকবার নবনীড়ের বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিকদের নিয়ে আসতেন ফিরহাদ হাকিম। এদিন কাউকেই দেখা যায়নি। ফলে পুজো দেখতে আসেননি বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিকরাও। এই বাড়ি ছাড়িয়ে এবার আরও দুটি বড় পুজো হচ্ছে, যার একটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই উদ্বোধন করেছেন। আরও একটি পুজো তরুণ যুবক সঙ্ঘের মণ্ডপ এদিন নিজের পুজো শুরুর এক ফাঁকে বেরিয়ে উদ্বোধন করে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সব দেখে শুনে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, রাজনৈতিক-প্রশাসনিক প্রভাব সরে গেলে মানুষের আসা-যাওয়ার সমীকরণও যে নিঃশব্দে বদলে যায়, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের শুনশান উঠোন এদিন যেন সেটাই নিঃশব্দে মনে করিয়ে দিল।