Mamata Banerjee rally: মাহেশে আটকে রইল মমতার কর্মসূচি! মামলা ফিরল ফের সিঙ্গল বেঞ্চে, জট কাটবে কী?
Mamata Banerjee rally: গত বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ কিছু শর্ত সাপেক্ষে কালীঘাট তৃণমূলকে সভার অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু একক বেঞ্চের এই রায়ের পরই তৎপর হয় রাজ্য প্রশাসন।
Mamata Banerjee rally: নজর ছিল শুক্রবারের দিকে। তবে শুক্রেও আইনি জট ও মাঠের মালিকপক্ষের আপত্তির জেরে আপাতত স্থগিত রইল রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) মাহেশের কর্মসূচি। কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ এই সংক্রান্ত মামলাটি পুনরায় একক (সিঙ্গল) বেঞ্চেই ফেরত পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত এই মামলার নিষ্পত্তির জন্য একক বেঞ্চকে অনুরোধ করেছেন প্রধান বিচারপতি। রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হওয়া এই কর্মসূচি ঘিরে জটিলতা কোথায় গিয়ে ঠেকে, এখন সেটাই দেখার।

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার শ্রীরামপুরের ঐতিহাসিক মাহেশে কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) একটি কর্মসূচি ও জনসভাকে কেন্দ্র করে। এই কর্মসূচিতে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে একটি মিছিল এবং পরবর্তীতে জনসভা করার কথা ছিল। কিন্তু পুলিশি অনুমতি না মেলায় জল গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত। গত বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ কিছু শর্ত সাপেক্ষে কালীঘাট তৃণমূলকে সভার অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু একক বেঞ্চের এই রায়ের পরই তৎপর হয় রাজ্য প্রশাসন।
একক বেঞ্চের রায়ের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ডিভিশন বেঞ্চে যায় রাজ্য। কালীঘাট তৃণমূলের সভার জন্য যে স্নানপিঁড়ি ময়দানটি নির্ধারণ করা হয়েছিল, তার ব্যবহার নিয়ে গভীর আপত্তি তোলে রাজ্য সরকার ও মাঠের মালিকপক্ষ। ডিভিশন বেঞ্চে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য জানান, ওই পবিত্র জমিটি মূলত ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক কাজের জন্যই বরাদ্দ। মাহেশের রথের মেলার সময় বা বিশেষ উৎসবেই এটি ব্যবহার করা হয়। কোনও রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির ওপর চাপ সৃষ্টি করে এই ধরনের মাঠে রাজনৈতিক কর্মসূচি করার অনুমতি পুলিশ দিতে পারে না। মাঠের মূল মালিকপক্ষও আদালতে সাফ জানিয়ে দেয় যে, তারা বর্তমান পরিস্থিতিতে এই জমিতে কোনো রাজনৈতিক সভা করতে দিতে ইচ্ছুক নন। এরপরই নড়েচড়ে বসে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের আগে সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা সবার আগে ভাবতে হবে। জনজীবন ব্যাহত হয় এমন জায়গা এড়িয়ে বিকল্প কোনো স্থানে সভা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। মামলার গুরুত্ব ও মাঠ কর্তৃপক্ষের আবেদন বিবেচনা করে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ শুক্রবার মামলাটি একক বেঞ্চেই ফিরিয়ে দেয়। আগামীদিনে একক বেঞ্চ এই জট কাটিয়ে কী রায় দেয় এবং মাহেশের ময়দানে আদৌ রাজনৈতিক সভা করা সম্ভব হয় কি না, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।
E-Paper

