কোচবিহারে নরখাদক! খুনের পর বাড়িতে মৃতদেহ পরিষ্কার, হাড়হিম-কাণ্ডে তোলপাড়...
তবে মৃতদেহের বিভিন্ন অংশ ক্ষতবিক্ষত করার ধরন দেখে পুলিশের অনুমান, শরীর থেকে মাংস কাটা হয়েছিল।
হাড়হিম থ্রিলার সিনেমার দৃশ্যকেও যেন হার মানাবে। কোচবিহারের দিনহাটা সাহেবগঞ্জ থানার কুর্শাহাটে এক ভবঘুরেকে নৃশংসভাবে খুন করার ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মানুষ মেরে খাওয়ার উদ্দেশ্যেই খুন করা হয়েছে ওই ব্যক্তিকে। ইতিমধ্যেই, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, জেরার মুখে ‘নরমাংস খাদক’ ফিরদৌস আলম স্বীকার করেছে যে মাংস খাওয়ার লোভেই খুন করেছে সে। আর এই বিরলতম ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র চাঞ্চল্য তথা আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এলাকায়।

সাংবাদিক বৈঠকে দিনহাটার মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ধীমান মিত্র জানিয়েছেন, কুর্শাহাট শ্মশানে গত প্রায় এক বছর ধরে একজন ভবঘুরে থাকছিলেন। মানসিক ভারসাম্যহীন ওই ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে খুন করে শ্মশান সংলগ্ন একটি ফাঁকা মাঠে ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। তাঁর শরীরে বিভিন্ন জায়গায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল। গত ১০ জানুয়ারি সেই ঘটনা সামনে আসার পরে তদন্ত নামে পুলিশ। সেই তদন্তে ফিরদৌস আলম নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। আর তাঁকে জেরা করতেই উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বক্তব্য শুনে শরীরে কাঁটা দিতে পারে বলে মনে করছেন অনেক পুলিশ কর্মীও।
কী কারণে এই খুন?
প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, খুনের পর নরমাংস খাবার উদ্দেশ্যে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধুয়ে সেই দেহ পরিষ্কার করেছিল অভিযুক্ত। পরবর্তীতে মৃতের মুণ্ডু কেটে দেহ ফেলে দেওয়া হয়। পুলিশ অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্তকে আদালতের অনুমতিক্রমে চার দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, গত ১০ জানুয়ারি একজন ব্যক্তির ক্ষতবিক্ষত মুণ্ডুহীন দেহ উদ্ধারের ঘটনা সামনে এসেছিল। তদন্ত করতে গিয়েই দেখা যায় ওই ব্যক্তি ভবঘুরে অবস্থায় স্থানীয় শ্মশানে বসবাস করছিল। ওই এলাকায় কোনও সিসি ক্যামেরা ছিল না। তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ফিরদৌস আলম নামে একজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই জানা যায়, সে নেশার ঘোরে থাকে। খুন করার উদ্দেশ্যেই সে ওই ভবঘুরাকে বেছে নিয়েছিল। নরমাংস খাবার উদ্দেশ্য ছিল তার। যদিও শেষ পর্যন্ত অভিযুক্ত সেটা করতে পেরেছে কিনা তা এখনও জানা যায়নি। তদন্তকারীরা সেই কথা জানার চেষ্টা করছে।
তবে মৃতদেহের বিভিন্ন অংশ ক্ষতবিক্ষত করার ধরন দেখে পুলিশের অনুমান, শরীর থেকে মাংস কাটা হয়েছিল। তবে অভিযুক্তর বয়ানে বিভিন্ন ধরনের অসঙ্গতি পুলিশ প্রাথমিকভাবে পেয়েছে। কখনও সে দাবি করছে, তাকে কেউ বলেছিল এটা করতে। কখনও আবার জানিয়েছে সে নিজেই এই কাজ করেছে। ঘটনা জানাজানি হতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। দিনহাটার এসডিপিও এ বিষয়ে বলেন, ঘটনাটি খুবই বিরল এবং গুরুতর। মানুষের মাংস খাওয়ার জন্যই খুন করে অভিযুক্ত। নরমাংস ভক্ষণের মতো বিরল ঘটনা হিসেবে একে বিবেচনা করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, স্থানীয় সূত্রে পুলিশ অভিযুক্ত সম্পর্কে তথ্য পেয়েছে। তারপরেই গ্রেফতার করা হয় তাকে। এ বিষয়ে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে। এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক জানান, অভিযুক্তকে এর আগেও একাধিকবার নেশামুক্তি কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, এই ঘটনা আবারও ফিরিয়ে দিয়েছে নয়ডার নিঠারি হত্যাকাণ্ড। সেটা ২০০৫-২০০৬ সালের ঘটনা। এলাকার মণিন্দর সিং এবং তাঁর পরিচারক সুরিন্দরের নাম জড়ায় পরপর শিশু এবং কিশোরী নিখোঁজের ঘটনায়। পরে নর্দমার পাড় থেকে তাদের দেহাবশেষ উদ্ধার হয়। যদিও এই মামলায় পরে বেকসুর খালাস পায় তাঁরা।
E-Paper











