Manas Bhunia Leaves TMC: তৃণমূলকে বিদায় মানস ভুঁইয়ার, রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে শুরু জল্পনা
দলত্যাগের কথা ঘোষণা করে মানস ভুঁইয়া জানিয়েছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলের অবস্থানের সঙ্গে তাঁর আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শনের মিল খুঁজে পাচ্ছেন না। সেই কারণেই তিনি তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের সুর ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। একের পর এক নেতা, বিধায়ক ও সাংসদের দলত্যাগের আবহে এবার তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদ ছাড়ার ঘোষণা করলেন দলের প্রবীণ নেতা তথা সবংয়ের প্রাক্তন বিধায়ক মানস ভুঁইয়া। তাঁর এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে ভোটে ফল প্রকাশের পর থেকেই তাঁর গলায় শোনা গিয়েছিল শুভেন্দু বন্দনা। আর এবার দলত্যাগের কথা ঘোষণা করে মানস ভুঁইয়া জানিয়েছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলের অবস্থানের সঙ্গে তাঁর আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শনের মিল খুঁজে পাচ্ছেন না। সেই কারণেই তিনি তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও জানান, নিজের ইস্তফাপত্র হোয়াটসঅ্যাপ মারফত দলনেত্রীর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
তবে দল ছাড়লেও সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার কোনও ইচ্ছা নেই বলেই স্পষ্ট করেছেন মানস ভুঁইয়া। তাঁর দাবি, জনসেবার কাজ তিনি চালিয়ে যাবেন এবং মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার থেকে সরে আসবেন না। ভবিষ্যতে তিনি কোন রাজনৈতিক পথে হাঁটবেন, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হলেও আপাতত বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন তিনি। একইভাবে কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নেও কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত দেননি প্রাক্তন মন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন মানস ভুঁইয়া। বিশেষ করে ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের সময় নিজের ভূমিকার যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি বলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসাও করতে শোনা গিয়েছিল তাঁকে, যা রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনার জন্ম দেয়।
মানস ভুঁইয়ার রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল। কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি থাকাকালীন ২০১১ সালে তিনি রাজ্যের সেচমন্ত্রী হন। পরে কংগ্রেসের সঙ্গে মতপার্থক্যের জেরে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেন। ২০১৬ সালে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে সবং বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হলেও একই বছরের সেপ্টেম্বরে তৃণমূলে যোগ দেন। পরবর্তীতে তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠানো হয় এবং ২০২১ সালে সবং থেকে জিতে রাজ্যের জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রীর দায়িত্বও সামলান।
তবে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে নিজের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঘাঁটি সবংয়ে পরাজয়ের মুখ দেখতে হয় তাঁকে। বিজেপি প্রার্থী অমল পান্ডার কাছে হারের পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা বাড়ছিল। অবশেষে তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণায় সেই জল্পনা আরও তীব্র হল। এখন প্রশ্ন, তৃণমূল ছাড়ার পর মানস ভুঁইয়ার পরবর্তী রাজনৈতিক গন্তব্য কোথায়? সেই উত্তর সময়ই দেবে। তবে তাঁর প্রস্থান যে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


