Mandarmani Drowning Update: মন্দারমণিতে উত্তাল সমুদ্রে বিপত্তি, নাবালক-সহ ২ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ আরও এক
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার দিঘা থেকে টোটো ভাড়া করে মোট আট জন মন্দারমণিতে বেড়াতে আসেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সুমন শীল, বৃষ্টি শীল এবং এক নাবালক, সোমনাথ হালদার। পরে তাঁরা মন্দারমণির ৩ নম্বর ঘাটের কাছে একটি রিসর্টের সামনে সমুদ্রে নামেন। সেই সময় সমুদ্রের পরিস্থিতি ছিল বেশ খারাপ।
মন্দারমণির সমুদ্রে ফের ভয়াবহ দুর্ঘটনা। সোমবার বিকেলে সমুদ্রে স্নান করতে নেমে তলিয়ে মৃত্যু হয়েছে দুই জনের। মৃতদের মধ্যে রয়েছে প্রায় ১০ বছরের এক নাবালক। একই ঘটনায় আরও এক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁর সন্ধানে মঙ্গলবারও জোরকদমে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে এই মুহূর্তে সমুদ্র বেশ উত্তাল থাকায় উদ্ধারকাজেও বাধা তৈরি হচ্ছে। তবু স্পিডবোট নামিয়ে নিখোঁজ ব্যক্তির খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার দিঘা থেকে টোটো ভাড়া করে মোট আট জন মন্দারমণিতে বেড়াতে আসেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সুমন শীল, বৃষ্টি শীল এবং এক নাবালক, সোমনাথ হালদার। পরে তাঁরা মন্দারমণির ৩ নম্বর ঘাটের কাছে একটি রিসর্টের সামনে সমুদ্রে নামেন। সেই সময় সমুদ্রের পরিস্থিতি ছিল বেশ খারাপ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আচমকাই জোয়ারের টানে কয়েক জন গভীর জলের দিকে চলে যান। মুহূর্তের মধ্যেই তিন জনকে আর দেখা যায়নি।
ঘটনার কিছুক্ষণ পর স্থানীয় বাসিন্দারা নাবালক সোমনাথকে উদ্ধার করেন। তখন তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল। তড়িঘড়ি তাকে বালিসাই বড় রাঙ্গুয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ছেলেকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েন তার বাবা সন্তু হালদার। তাঁর বক্তব্য, ছেলে সমুদ্রের একেবারে পাড়ের কাছেই ছিল। তিনি কিছুটা দূরে যাওয়ার পরই পরিস্থিতি বদলে যায়। ফিরে এসে তিনি আর ছেলেকে দেখতে পাননি। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর সোমনাথকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
অন্যদিকে, সন্ধ্যার পরে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা বৃষ্টি শীলের দেহ উদ্ধার করেন। রাতেই তাঁর দেহ উদ্ধার করার খবর নিশ্চিত হয়। তবে সুমন শীলের কোনও সন্ধান এখনও মেলেনি। তাঁকে খুঁজতে এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সমুদ্রের ঢেউ ও জলের স্রোত বেশি থাকায় উদ্ধারকারী দলকে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অনুসন্ধান অভিযানও কঠিন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনার পর মন্দারমণি উপকূলে নিরাপত্তা আরও বাড়িয়েছে পুলিশ-প্রশাসন। পর্যটকদের সমুদ্রের কাছাকাছি যেতে দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি মাইকে বারবার সতর্কবার্তা প্রচার করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, পর্যটকদের বিপজ্জনক জায়গায় নামতে নিষেধ করা হলেও অনেক সময় সেই নির্দেশ মানা হয় না। ফলে সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না।
পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় যুক্ত ব্যক্তিরা নদিয়া জেলার বাসিন্দা এবং দিঘা মোহনায় কাজ করেন। তাঁরা মন্দারমণিতে বেড়াতে এসেছিলেন। তাঁর বক্তব্য, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য নিয়মিত প্রচার চালানোর পাশাপাশি নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। সমুদ্র এলাকায় নুলিয়ার সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু পর্যটকেরা নিজেরাও সতর্ক না হলে দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন।
গভীর নিম্নচাপের কারণে মন্দারমণি-সহ উপকূলের সমুদ্র আপাতত উত্তাল। এই অবস্থায় প্রশাসনের সতর্কতা মেনে চলার উপরই বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। মন্দারমণিতে একসঙ্গে দুই জনের মৃত্যু এবং আরও একজনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ফের মনে করিয়ে দিল, উত্তাল সমুদ্রে সামান্য অসতর্কতাও কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


