রাষ্ট্রপতি শাসন অবসানেও অশান্তি! নাগা-কুকি সংঘর্ষে ফের অগ্নিগর্ভ মণিপুর, পুড়ল বাড়িঘর
এখনও পর্যন্ত কতগুলি বাড়ি ভস্মীভূত হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ কত, তার হিসাব কষছে জেলা প্রশাসন।
রাষ্ট্রপতির শাসন অবসানের পর নতুন সরকার গঠিত হয়েছে মণিপুরে। কিন্তু কিছুতেই যেন অশান্তি কমছে না উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে। রবিবার নতুন করে উখরুল জেলায় সংঘর্ষের পর মণিপুরের পার্বত্য জেলাগুলির কিছু অংশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর খবর অনুযায়ী, সন্ধ্যায় লিটান গ্রামে দুটি উপজাতি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। চলে পাথর ছোড়াছুড়ি। একাধিক বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন লিটান এলাকায় ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করে।

জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যায় নাগা ও কুকি জনগোষ্ঠীর মধ্যে নতুন সংঘর্ষে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে লিটান গ্রামে। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে শুধু পাথর ছোড়াছুড়ি নয়, সম্পত্তিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতোও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক রাউন্ড গুলিও চলেছে। এরপরেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। পাশাপাশি, সন্ধ্যায় রাস্তাঘাটে পথচারীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। অশান্তি কবলিত অঞ্চলে এলাকার বাইরে না-বেরোতে নির্দেশিকা জারি করা হয়। পরবর্তী নির্দেশিকা জারি না-হওয়া পর্যন্ত এই কড়াকড়ি কার্যকর থাকবে বলেও জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
পুলিশ সূত্রে খবর, লিটান গ্রামে সাত থেকে আট জন ব্যক্তি তাংখুল সম্প্রদায়ের এক সদস্যের উপর নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিকভাবে ভুক্তভোগী এবং স্থানীয় গ্রাম প্রধানের মধ্যে আলোচনা হয়, উভয় পক্ষই সমস্যাটি সমাধান করতে সম্মত হয়। কিন্তু পরে সিকিবুংয়ের একদল গ্রামবাসী লিটান প্রধানের বাড়িতে হামলা চালালে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে।রবিবার রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অভিযোগ, কুকি বিদ্রোহীরা নাগা জনগোষ্ঠীর বেশ কিছু বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পাল্টা হামলার শিকার হয় কুকি পরিবারগুলিও। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, সশস্ত্র ব্যক্তিরা বাড়ি ও গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। যদিও ভিডিওগুলির সত্যতা যাচাই করেনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা। দফায় দফায় অগ্নিসংযোগ, গুলিবর্ষণ এবং সশস্ত্র হামলার ঘটনায় সোমবার সকালেও থমথমে গোটা জেলা। এখনও পর্যন্ত কতগুলি বাড়ি ভস্মীভূত হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ কত, তার হিসাব কষছে জেলা প্রশাসন।
উখরুলের জেলা শাসক আশিস দাস জানিয়েছেন, অশান্ত পরিস্থিতিতে কাউকে বাড়ি থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। গোটা এলাকায় চলছে পেট্রলিং। কোনও রকম হিংসাত্মক কার্যকলাপ দেখলেই ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা শাসক নির্দেশিকা জারি করে জানায়, অশান্তি কবলিত অঞ্চলে কেউ নিজ নিজ এলাকার বাইরে বেরোতে পারবেন না। রবিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়। পরবর্তী নির্দেশিকা জারি না হওয়া পর্যন্ত যাতায়াতে এই কড়াকড়ি কার্যকর থাকবে বলেও জানায় জেলা প্রশাসন। অন্যদিকে প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখনও যথেষ্ট স্পর্শকাতর। ড্রোন ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে উপদ্রুত এলাকার ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। নতুন করে যাতে হিংসা না ছড়ায়, তার জন্য পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
E-Paper











