Maoist Hunt in WB Update: দু’দিনের চিরুনি তল্লাশিতেও অধরা মাওবাদী নেতা আকাশ,সীমান্তের জঙ্গলে বাড়ল নজরদারি
অভিযানের পাশাপাশি রোলাহাটু পাহাড় থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রশস্ত্রও তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ওই এলাকা থেকে দু’টি ইনসাস রাইফেল, ১০৩ রাউন্ড গুলি এবং ছ’টি ম্যাগাজিন উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সঙ্গে অতীতের কোনও নাশকতা বা হামলার যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দু’দিন ধরে জঙ্গলজুড়ে চিরুনি তল্লাশি চালিয়েও হদিশ মিলল না সিপিআই (মাওবাদী)-র শীর্ষনেতা অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশের। দলমা এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযানের পর এবার নজর ঘুরেছে বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমান্তের জঙ্গলপথে। আকাশ কোথায় আত্মগোপন করে রয়েছেন, তিনি জঙ্গল বদলেছেন কি না, নাকি ছোট দলে ভাগ হয়ে ফের গেরিলা কৌশলে লুকিয়ে রয়েছেন—এই প্রশ্নগুলিরই উত্তর খুঁজছেন গোয়েন্দারা।

অভিযানের পাশাপাশি রোলাহাটু পাহাড় থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রশস্ত্রও তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ওই এলাকা থেকে দু’টি ইনসাস রাইফেল, ১০৩ রাউন্ড গুলি এবং ছ’টি ম্যাগাজিন উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সঙ্গে অতীতের কোনও নাশকতা বা হামলার যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর জন্য ব্যালিস্টিক রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। রিপোর্ট হাতে এলে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র আগে কোনও অপরাধমূলক ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছিল কি না, সে সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
গোয়েন্দাদের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আকাশের নিরাপত্তা বলয়ের দুর্বল হয়ে পড়ার বিষয়টি। সম্প্রতি আত্মসমর্পণ করেছেন রামপ্রসাদ মার্ডি ওরফে শচীন, তাঁর স্ত্রী মিতা ওরফে নয়নতারা এবং বুলু মাহাতো ওরফে গৌরী। পুলিশি সূত্রের দাবি, তিনজনই দীর্ঘদিন আকাশের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। তাঁদের কাছ থেকে আকাশের গতিবিধি, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সংগঠনের কার্যকলাপ সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগেও আকাশের স্কোয়াডের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মদন মাহাতো ওরফে শঙ্কর, সাব-জোনাল কমান্ডার সাগর সিং ওরফে বিরেন এবং মীরা পাহাড়িয়া। ফলে গ্রেপ্তার ও আত্মসমর্পণ করা মাওবাদীদের জিজ্ঞাসাবাদ এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে।
একই সঙ্গে গোয়েন্দাদের নজরে রয়েছে আকাশের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল বলে চিহ্নিত মঙ্গল মাহাতো ওরফে পাণ্ডে এবং মালতি মুর্মু। তাঁদের গতিবিধি এবং সম্ভাব্য যোগাযোগের সূত্র ধরে আকাশের অবস্থান সম্পর্কে কোনও তথ্য পাওয়া যায় কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের আশঙ্কা, দলমা এলাকায় যৌথবাহিনীর চাপ বাড়ার পর আকাশ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্য জঙ্গলপথে সরে যেতে পারেন। বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমান্তের বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল, পাহাড়ি পথ এবং প্রত্যন্ত গ্রামগুলিকে ব্যবহার করে আত্মগোপনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। তাই শুধু নির্দিষ্ট একটি এলাকায় নয়, সীমান্তবর্তী একাধিক জঙ্গলপথে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে, আকাশ কি একা নন, তাঁর সঙ্গে এখনও সক্রিয় কোনও ছোট সশস্ত্র দল রয়েছে? একের পর এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর আত্মসমর্পণ বা গ্রেপ্তারের পর তাঁর যোগাযোগ-চক্র কতটা অক্ষত, সেটাও এখন তদন্তের বিষয়। গোয়েন্দাদের নজরে রয়েছে পুরনো অস্ত্রভাণ্ডার বা অস্ত্র-ডাম্পের সম্ভাব্য অবস্থানও।
রোলাহাটু থেকে উদ্ধার হওয়া ইনসাস এবং বিপুল গুলির মজুত এই তদন্তে তাই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ব্যালিস্টিক পরীক্ষায় যদি অতীতের কোনও নাশকতার সঙ্গে অস্ত্রগুলির যোগ পাওয়া যায়, তা হলে মাওবাদী সংগঠনের পুরনো কার্যকলাপ এবং বর্তমান নেটওয়ার্ক সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে।
সব মিলিয়ে আকাশকে ঘিরে অভিযান এখন শুধু তাঁকে খুঁজে বের করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তাঁর যোগাযোগ-চক্র, সম্ভাব্য সহযোগী, অস্ত্রভাণ্ডার এবং সীমান্তের জঙ্গলপথ—সবকিছুকেই একসঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দু’দিনের তল্লাশির পরও আকাশ অধরা। ফলে আগামী দিনে সীমান্তের জঙ্গলেই তদন্তকারীদের নজর আরও তীক্ষ্ণ থাকবে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


