Firhad on KMC Notice to Abhishek: অভিষেকের বাড়িতে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে নোটিস নিয়ে প্রশ্নের মুখে ফিরহাদ, কী বললেন মেয়র?
ফিরহাদ বলেন, 'কেএমসি আইন অনুযায়ী, আমরা শুধু পলিসি মেকার, কোন বাড়ি ভাঙবে বা নোটিস যাবে তা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ এবং কমিশনার ঠিক করেন। বিল্ডিং ডিপার্টমেন্টের কোনও নোটিসের বিষয়ে আমি জানি না।'
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পুরসভার নোটিস পাঠানোকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, কলকাতা পুরসভার তরফে তাঁর শান্তিনিকেতন ও কালীঘাটের বাড়িতে বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত নোটিস পাঠানো হয়েছে। সেই নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্মাণ বেআইনি প্রমাণিত হলে তা ভেঙে ফেলতে হবে, নাহলে পুরসভা নিজেই পদক্ষেপ করবে। এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। সূত্রের খবর, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সোমবার মেয়র এবং মেয়র পারিষদদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি জানতে চান, কীভাবে এবং কেন এই নোটিস পাঠানো হল। বৈঠকে ফিরহাদ হাকিম নাকি দাবি করেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না। তাঁর বক্তব্য, তাঁকে না জানিয়েই ওই নোটিস পাঠানো হয়েছে।

জানা গিয়েছে, কলকাতা পুর আইনের ৪০১ ধারায় এই নোটিস পাঠানো হয়েছে। ওই আইনে পুর কমিশনারের নিজস্ব ক্ষমতাবলে নোটিস জারি করার সুযোগ রয়েছে এবং সে ক্ষেত্রে মেয়রকে আলাদা করে জানানোর প্রয়োজন পড়ে না। সূত্রের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও সেই নিয়মেই পদক্ষেপ করা হয়েছে। পরে সাংবাদিকরা ফিরহাদকে এই নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, 'কেএমসি আইন অনুযায়ী, আমরা শুধু পলিসি মেকার, কোন বাড়ি ভাঙবে বা নোটিস যাবে তা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ এবং কমিশনার ঠিক করেন। বিল্ডিং ডিপার্টমেন্টের কোনও নোটিসের বিষয়ে আমি জানি না।' এদিকে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের কী পুরসভায় কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না? এই প্রশ্ন এড়িয়ে মেয়র শুধু বলেন, পরে বলব এই নিয়ে।
ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার অভিযানের মধ্যেই এবার শাসকদলের শীর্ষ নেতার বাড়িতে নোটিস পৌঁছনোয় নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, পুরসভার প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ কতটা রয়েছে। উল্লেখ্য, মেয়র হওয়ার পাশাপাশি বিল্ডিং দফতরের দায়িত্বও রয়েছে ফিরহাদের কাছে।
জানা গিয়েছে, হরিশ মুখার্জি রোডের একটি বাড়ি ছাড়াও কালীঘাট মোড়ের একটি বহুতল ভবন নিয়েও নোটিস পাঠানো হয়েছে অভিষেককে। এছাড়া আরও ১৫টি সম্পত্তিতে এই ধরনের নোটিস পাঠানো হয়েছে। তারই মধ্যে রয়েছে সেভেন ট্যাঙ্ক রোডের সেই ফ্ল্যাটটি। কী বলা হয়েছে পুরসভার সেই নোটিসে? সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিগুলি অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান মেনে তৈরি করা হয়েছে কি না, বা অতিরিক্ত কোনও নির্মাণের ক্ষেত্রে তা রেগুলারাইজ করানো হয়েছিল কি না, তা যাচাই করতে নোটিস পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ক্ষমতায় আসতেই বেআইনি নির্মাণ রোধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বিজেপি সরকার। তিলজলা কাণ্ডের পরে রাজ্যের বহু জায়গায় বেআইনি নির্মাণ ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। এদিকে কলকাতা পুরসভা আবার তৃণমূল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে। আর বিল্ডিং বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম নিজে। এই পরিস্থিতিতে অভিষেককে কলকাতা পুরসভার পাঠানো নোটিস ঘিরে গুঞ্জন শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
মঙ্গলবার কালীঘাটে দলের নবনির্বাচিত ও বিদায়ী বিধায়কদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলতার নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে এই বৈঠকেই নিজের বাড়ি ভাঙার নোটিস নিয়ে প্রথমবার সোচ্চার হন অভিষেক। রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ সাফ জানান, ‘ওরা যা খুশি করুক। আমার বাড়ি ভেঙে দিক, নোটিস পাঠাক। আমি এসবের কাছে কোনও অবস্থাতেই মাথা নত করব না।’
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


