Mini Firoz Arrested: আবার পুলিশের জালে ‘মিনি ফিরোজ’, সঙ্গে গ্রেফতার সহযোগী মহম্মদ সাজিদও
লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৩ জুন তপসিয়া থানায় ফিরোজ ও সাজিদের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ দায়ের হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ হাতে আসার পর তাঁদের গতিবিধির উপর নজরদারি চালানো হচ্ছিল।
কলকাতার অপরাধ জগতের পরিচিত মুখ ‘মিনি ফিরোজ’ ওরফে মহম্মদ ফিরোজ খান আবারও পুলিশের জালে। তাঁর সঙ্গে গ্রেফতার হয়েছেন সহযোগী মহম্মদ সাজিদ। অস্ত্র আইনে দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্তে শনিবার ডানকুনির টোলপ্লাজা থেকে তাঁদের গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশের গুন্ডা দমন শাখা। পুলিশ সূত্রে খবর, দু’জনই গাড়িতে করে অন্যত্র পালানোর চেষ্টা করছিলেন। সেই সময়ই অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।

লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৩ জুন তপসিয়া থানায় ফিরোজ ও সাজিদের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ দায়ের হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ হাতে আসার পর তাঁদের গতিবিধির উপর নজরদারি চালানো হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ডানকুনির টোলপ্লাজায় অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি, ফিরোজের বিরুদ্ধে শুধু অস্ত্র আইনের মামলাই নয়, খুনের চেষ্টা, হামলা, দাঙ্গা, তোলাবাজি-সহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ৩৭টি মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি পুলিশের নজরে ছিলেন।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে আনন্দপুর থানার গুলশন কলোনিতে ব্যাপক অশান্তির ঘটনায় প্রথমবার আলোচনায় আসেন ফিরোজ। অভিযোগ, ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কয়েকজন দুষ্কৃতী আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এলাকায় তাণ্ডব চালায়। সেই ঘটনায় ফিরোজের নাম উঠে আসে। যদিও ঘটনার পর কয়েকজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলেও ফিরোজ পুলিশের হাত এড়িয়ে পালিয়ে যান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এলাকা ছেড়ে পালিয়ে থাকলেও সমাজমাধ্যমে নিয়মিত সক্রিয় ছিলেন তিনি। মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন ভিডিও পোস্ট করতেন। তদন্তে জানা যায়, তিনি দিল্লিতে আত্মগোপন করে রয়েছেন। এরপর কলকাতা পুলিশের একটি বিশেষ দল দিল্লিতে অভিযান চালিয়ে ফিরোজ ও সাজিদকে গ্রেফতার করে। পরে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান দু’জনেই।
জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরও তাঁদের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ জমা পড়ে। সেই মামলার তদন্ত চলাকালীনই ফের গ্রেফতার হতে হল দুই অভিযুক্তকে। তদন্তকারীদের মতে, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সাম্প্রতিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং অপরাধচক্রের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। কলকাতার আনন্দপুর থানা এলাকার গুলশন কলোনি দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় অতীতে একাধিকবার প্রকাশ্যে গুলি, বোমাবাজি, খুন ও গ্যাং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। লালবাজারের কাছে এই এলাকা বরাবরই উদ্বেগের কারণ।
ফিরোজের নাম একাধিকবার বিভিন্ন অশান্তির ঘটনায় সামনে এসেছে। এমনকি ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছিল বলে অভিযোগ। যদিও সেই ঘটনায় সুশান্ত ঘোষ অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। ফের গ্রেফতারের পর ফিরোজ ও সাজিদকে আদালতে তোলা হবে। পুলিশ তাঁদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানাতে পারে। তদন্তকারীদের আশা, এই জেরায় কলকাতার অপরাধচক্রের আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


