Dilip Ghosh: 'আমাদের বহু নেতা মধুতে আসক্ত...,' দলের অন্দরেই দুর্নীতির গন্ধ? বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ
Dilip Ghosh: দলের একাংশের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগের কথা যে তাঁর নজর এড়ায়নি, এদিন তা বুঝিয়ে দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ।
Dilip Ghosh: রাজ্যে পালাবদলের থেকেই দুর্নীতিতে 'জিরো টলারেন্স'-এর বার্তা দিয়ে এসেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। তৃণমূল কংগ্রেস জমানার দুর্নীতির ফাইল খোলার সঙ্গে, দলীয় কর্মীদেরও বারবার সতর্ক করতে দেখা গিয়েছে নেতাদের। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর পার্টি অফিস ভাঙচুর থেকে ডিম থেরাপি। বিজেপি কর্মীদের এসব থেকে বিরত থাকতে বারবার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এবার তোলাবাজি প্রসঙ্গে বিস্ফোরক পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।

বিরোধী দলের নেতা হোক বা শাসকদলের মন্ত্রী। সর্বদায় 'দাবাং' মুডে ধরা দিয়েছেন প্রবীণ নেতা। তিনি মুখ খুললেই সঙ্গে এসেছে বিতর্ক। তবে এবার দলের কর্মীদের উদ্দেশেই বিস্ফোরক বক্তব্য শুনে তাজ্জব সকলে। দলের একাংশের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগের কথা যে তাঁর নজর এড়ায়নি, এদিন তা বুঝিয়ে দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তৃণমূল জমানার রেশ টেনে তিনি বলেন, ‘আমাদের বহু নেতা আছে যারা এই মধুতে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। পার্টি নজর রেখেছে চেষ্টা করছে। তোলাবাজির সংস্কৃতি এত তাড়াতাড়ি উঠে যাবে এটা ভাবার কোনও কারণ নেই। পুলিশকে বলা হয়েছে, অভিযোগ আসলেই ব্যবস্থা নিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, 'পার্টির মধ্যে আলোচনা হচ্ছে। এরা খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে গিয়েছে যারা মানুষকে কষ্ট দিয়েছিল তাদের সঙ্গে। মানুষ যে উদ্দেশ্য বদল করেছে সেটা যেন আমরা ভুলে না যাই।'
কিছুদিন আগেই জিতেন্দ্র তিওয়ারি দলের নেতা-কর্মীদের তোলাবাজির বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। কিন্তু তারপরও বিষয়টি থামেনি। এই তোলাবাজি সংস্কৃতি যে থামেনি সেটা নিজে মুখে স্বীকার করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। আগামী ৯ আগস্ট শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের তিনমাস পূর্ণ হতে চলেছে। কিন্তু তোলাবাজি চলছেই। শনিবার প্রকাশ্যেই একথা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্বয়ং। রাজারহাটে আইআইটি খড়্গপুর রিসার্চ পার্কে ‘উদ্যমী সমাগম’ অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘দু’মাস হয়েছে একটা সরকার তৈরি হয়েছে। সমস্ত কিছুর সমাধান করা যায়নি। আমি আমার দলের পক্ষ থেকে যদি বলি সব জায়গায় তোলাবাজি বন্ধ করে দিতে পেরেছি, তাহলে ভুল হবে। কিছু বিচ্যুতি আছে। একটা পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে মানুষ দীর্ঘদিন গিয়েছে। ইজি মানির মধ্যে দিয়ে একটা সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পরে সমস্ত কিছু বদল হয়ে গিয়েছে, এমনটা নয়। আমার দলেরই অনেকের মধ্যে সুপ্ত বাসনা, যা এতদিন অতৃপ্ত অবস্থায় ছিল, সেগুলি ফুটে বেরচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, 'রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমরা রাজনৈতিক সমাজের বাসিন্দা হয়ে গিয়েছি। এর থেকে মুক্তি চাই। প্রত্যকেটা পদক্ষেপে রাজনীতির অনুপ্রবেশ। এর বাইরে যতক্ষণ না পশ্চিমবঙ্গ বেরোতে পারছে, কোনও সরকার পরিবর্তন আনতে পারবে না। বিনিয়োগ আনতে পারবে না।'
শমীক ভট্টাচার্য যা বলেছেন সেটা যে সম্পূর্ণ ঠিক তা এদিন স্বীকার করে নিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী। আর এসব চললে যে দলের বদনাম হবে সেটা সকলেই জানেন। তাই বিজেপি নেতারা এখন থেকে সতর্ক করতে শুরু করেছেন।
E-Paper

