'অযৌক্তিক-হয়রানি!' SIR শুনানিতে তলব রাজ্যের মন্ত্রীকে, নোটিস পেলেন নওশাদও
মন্ত্রীর কাছে এই নোটিস আসার পর মালদহ জেলাজুড়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতুহল তৈরি হয়েছে।
রাজ্যে পুরোদমে চলছে এসআইআর-এর শুনানি পর্ব। ভোটার তালিকায় নাম, বাবার নাম-সহ বিভিন্ন ত্রুটি সংশোধনই হচ্ছে এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য। এসআইআর-এর কাজে বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্টজনকে শুনানির নোটিস দিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন। এবার খোদ রাজ্যের মন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের মালদহ জেলার বিধায়ক তাজমুল হোসেনকে এসআইআর-এর শুনানিতে নোটিস দিল নির্বাচন কমিশন। হরিশচন্দ্রপুর বিধানসভার এই বিধায়ক নোটিস পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, বিষয়টি একেবারেই অযৌক্তিক ও হয়রানির।

সূত্রের খবর, রাজ্যের সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী তাজমুল হোসেন পরিবারের সদস্যদের কাছেও নোটিস গিয়েছে। মন্ত্রীর অভিযোগ, বিজেপির চক্রান্তে কমিশন মানুষকে হয়রানি করছে। এসআইআর-এর নাম করে এনআরসির চক্রান্ত চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে এই অভিযোগ উড়িয়ে পাল্টা তৃণমূলকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। হরিশ্চন্দ্রপুরের তিনবারের বিধায়ক তাজমুল। জানা গিয়েছে, তাঁর নাম ও বাবার নামের মধ্যে অসঙ্গতি থাকার কারণেই তাঁকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি তিনি যথার্থ নথি দিয়েছেন, কিন্তু সন্তুষ্ট হয়নি কমিশন। সেই কারণেই তাঁকে নোটিস দেওয়া হয়েছে।তাজমুল হোসেন বলেন, 'আমি ২০০৬ সাল থেকে বিধায়ক ভোটে লড়েছি। এই নির্বাচন কমিশন আমার সমস্ত নথি খতিয়ে দেখে, তবেই আমাকে নমিনেশন দিয়েছে। তারপরও আমার নথি চেয়ে নোটিস দেওয়া হয়েছে।'
সোশ্যাল মিডিয়াতেও এদিন ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। মন্ত্রী লিখেছেন, 'যে ইলেকশন কমিশনের দ্বারা আমি তিনবারের নির্বাচিত বিধায়ক, বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একজন মন্ত্রী, এখন সেই ইলেকশন কমিশন এসআইআর-এর নামে আমি বৈধ ভোটার কিনা, তা যাচাই করবে? বাংলায় বিজেপিকে নির্বাচিত করার ইলেকশন কমিশনের সমস্ত চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের জবাব দেবে বাংলার মানুষ।' এদিকে, মন্ত্রীর কাছে এই নোটিস আসার পর মালদহ জেলাজুড়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতুহল তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, সোমবার সকালে জানা গেল, এসআইআর শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে, আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিকেও। জাঙ্গিপাড়া বিডিও অফিসে ২৭ জানুয়ারি শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে ভাঙড়ের বিধায়ককে। এখানেই শেষ নয়, মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বাপি হালদারকে এসআইআর-এর পক্ষ থেকে হিয়ারিংয়ের জন্য তলব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ ও তথ্য যাচাইয়ের উদ্দেশ্যেই এই শুনানির ডাক দেওয়া হয়েছে। আগামী নির্ধারিত দিনে শুনানি কেন্দ্রে হাজির হয়ে নিজের বক্তব্য পেশ করতে বলা হয়েছে সাংসদকে। ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ দেব এবং রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলামের পর এবার নোটিস গেল মথুরাপুরের তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদারের কাছে। এসআইআর নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সিইও দফতরে তৃণমূলের যে প্রতিনিধিদল বার কয়েক গিয়েছে, সেই দলে ছিলেন বাপি হালদার। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তৃণমূলের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিদের ডাকার মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে কমিশন। তারা বিজেপির কথা মতো কাজ করছে।
এসআইআরের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বাপি হালদার। তিনি বলেন, 'আমাদের অনেক সাংসদকে এ ভাবে ডাকা হচ্ছে। যেখানে মাউসের একটি ক্লিকে জনপ্রতিনিধিদের সমস্ত তথ্য জানা যায়, সেখানে এগুলো করা হচ্ছে কেন? শুধুমাত্র ভয় দেখাতে।' তাঁর অভিযোগ, নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে আতঙ্কিত করতে চাইছে কমিশন। তিনি তফসিলি জনজাতির প্রতিনিধি। তাঁদের হয়রানি করাই কমিশনের উদ্দেশ্য। বাপি হালাদার বলেন, কিন্তু তৃণমূলকে এ ভাবে হয়রান করতে পারবে না। চ্যালেঞ্জ নিতে আমরা প্রস্তুত। উল্লেখ্য, সম্প্রতি মথুরাপুর-সহ ডায়মন্ড হারবার, জয়নগর ও মগরাহাট এলাকায় এসআইআর সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে দেখা গেছে। একাধিক জায়গায় রাস্তা অবরোধ, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
E-Paper











