CM Suvendu Adhikari: ইলিশ-খাসি-দেশি মুরগি...! রান্নাঘরে ঠাকুরবাড়ির বধূ, এলাহি ভোজে আপ্লুত মুখ্যমন্ত্রী
CM Suvendu Adhikari: মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যাহ্নভোজের মেনুতে ছিল বাঙালি ঘরানার এলাহি আয়োজন। মৌরলা মাছ, ইলিশ ভাজা ও ভাপা, পমফ্রেট ভাজা, চিংড়ি দিয়ে মোচার ঘণ্ট, চিংড়ির মালাইকারি, খাসির মাংস, দেশি মুরগির মাংস থেকে শুরু করে চিংড়ি পিঠেও মেনুতে ছিল।
CM Suvendu Adhikari: মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যাহ্নভোজ বলে কথা! রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর প্রথমবার ঠাকুরনগরে মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাই তাঁর আপ্যায়নে যেন কোনও খামতি না থাকে, সে দিকে কড়া নজর ছিল বাগদার বিধায়ক তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী সোমা ঠাকুরের। তিনি গৃহকর্ত্রী। সেই কারণে ভোর থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নিজের হাতেই একের পর এক পদ রান্না করেছেন তিনি। মাছ, মাংস, মিষ্টি, দই— কী না ছিল খাদ্য তালিকায়। তবে শুভেন্দু অধিকারী মজলেন ঠাকুরবাড়ির ঐতিহ্যবাহী পদ চিংড়ি পিঠেতে!

রবিবার দুপুর একটা নাগাদ ঠাকুরনগরে মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে এসে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি হেলিকপ্টারে গাইঘাটার চাঁদপাড়া এলাকায় একটি মাঠে করা হেলিপ্যাডে নামেন। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুর, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শান্তুনু ঠাকুরের বাবা মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর-সহ মতুয়া মহাসঙ্ঘের প্রতিনিধিরা তাঁকে স্বাগত জানান। হেলিপ্যাড থেকে যশোর রোড এবং চাঁদপাড়া-ঠাকুরনগর সড়ক ধরে প্রায় আট কিলোমিটার পথ পেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঠাকুরবাড়িতে পৌঁছন। সকাল থেকে মতুয়া ভক্ত গোসাঁই আসতে শুরু করেছিলেন। ডঙ্কা-নিশান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো হয়। ঠাকুরবাড়িতেই তাঁর জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী দুপুরে খাবেন বলে সেই সকাল সাড়ে ৫টা থেকে রান্নাঘরে ঢুকে পড়েছিলেন সোমা ঠাকুর। একে একে রাঁধতে থাকেন নানা পদ। দুপুরে মুখ্যমন্ত্রীর পাতের সামনে সাজিয়ে দেন সব পদ।
মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যাহ্নভোজের মেনুতে ছিল বাঙালি ঘরানার এলাহি আয়োজন। মৌরলা মাছ, ইলিশ ভাজা ও ভাপা, পমফ্রেট ভাজা, চিংড়ি দিয়ে মোচার ঘণ্ট, চিংড়ির মালাইকারি, খাসির মাংস, দেশি মুরগির মাংস থেকে শুরু করে চিংড়ি পিঠেও মেনুতে ছিল। পাশাপাশি ছিল ভেজ ডাল, বেগুন ভাজা, উচ্ছে ভাজা, মিষ্টি, দই এবং ছানার পায়েস। সব মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য বিশেষ বাঙালি ভোজের ব্যবস্থা করেন বিধায়ক সোমা ঠাকুর। বলেন, ‘আমি প্রথমেই বলেছিলাম ঠাকুরবাড়ির স্পেশ্যাল রান্না চিংড়ি পিঠে। আমি ভাবতে পারিনি, উনি ওটাই বেশি করে নিয়েছেন। ওই খাবার খেয়ে আপ্লুত।’ চিংড়ির পিঠে ছা়ড়াও আর কী কী খেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী? সোমা ঠাকুরের কথায়, ‘ভাল লাগল যে, আমি যে মৌরলা মাছের রেসিপিটা করেছিলাম সেটা খেয়েছেন। ইলিশ মাছ ভাজা খেয়েছেন। ভেজ ডাল, উচ্ছে ভাজা, বেগুন ভাজাও খেয়েছেন।’ বাগদার বিধায়কের সংযোজন, সব পদই চেখে দেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘কী ভাবে চিংড়ি পিঠে বানিয়েছি, সেটা আমার থেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জেনেছেন।’
সোমা ঠাকুর জানান, রান্নার বেশির ভাগটাই তিনি নিজের হাতে করেছেন। ঠাকুরবাড়ির কর্মীরা বাজার করে আনলেও কোন কোন উপকরণ লাগবে, তার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি নিজেই। মুখ্যমন্ত্রীর জন্য এত আয়োজন করতে পেরে স্বাভাবিক ভাবেই খুশি বিধায়ক। সব মিলিয়ে ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি রবিবারের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল সোমা ঠাকুরের হাতের রান্না এবং ঠাকুরবাড়ির বিশেষ চিংড়ির পিঠে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সোমা ঠাকুর নিজে হাতে রান্না করেছেন। এটা পরম প্রাপ্তি।'
E-Paper

