West Bengal Police: পুলিশের হৃতগৌরব পুনরুদ্ধার! ঐতিহাসিক মউ স্বাক্ষরের পর নিয়োগ নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
West Bengal Police: মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন যে, ভারতীয় সেনা এবং বিভিন্ন আধাসামরিক (অসামরিক) বাহিনীতে এই রাজ্যের প্রচুর বাঙালি যুবক কর্মরত রয়েছেন এবং তাঁরা দক্ষতার সঙ্গে দেশসেবা করছেন। রাজ্যের পুলিশ দফতরে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের মধ্যেও দক্ষতার কোনও অভাব নেই।
West Bengal Police: পূর্বের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে পুলিশের বিরুদ্ধে বারবার শাসক শিবিরের দলদাসের মতো কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। আধিকারিকদের মেধাকে সেভাবে কাজে লাগানো হয়নি বলেই অভিযোগ। তবে বাংলায় পালাবদলের পর রাজ্যের পুলিশ ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে ফেলতে এবং বাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তিতে আরও দক্ষ করে তুলতে এক বড় পদক্ষেপ নিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। বুধবার নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে ‘রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়’-এর সঙ্গে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মউ স্বাক্ষর করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আর এই অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থেকে রাজ্যের পুলিশ ও কলকাতা পুলিশের আধুনিকীকরণ নিয়ে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে গত ২০২৫ সালের নভেম্বরে 'রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়' রাজ্য পুলিশের সঙ্গে মউ স্বাক্ষরের প্রস্তাব দেয়। যদিও সেই সময় প্রস্তাব নিয়ে তৎকালীন রাজ্য সরকার বিশেষ উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ। সরকারের পালাবদলের পর পুলিশের দক্ষতাকে আরও শান দিতে মউ স্বাক্ষর করা হয়। এই মউয়ের ফলে পুলিশের দক্ষতার প্রকৃত মূল্যায়ন করা যাবে বলেই আশা। উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, অসম, উত্তরাখণ্ড আগেই রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মউ স্বাক্ষর করেছে।
‘বিগত সরকার অবহেলা করেছে’
মউ স্বাক্ষরের পর নবান্ন সভাঘর থেকে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, '২০২৫ সালের নভেম্বর মাসেই রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এই বিশেষ প্রস্তাব রাজ্যের কাছে এসেছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বিগত সরকার এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনও ধরনের সিদ্ধান্তই নেয়নি, বরং বিষয়টিকে সম্পূর্ণ অবহেলা করে ফেলে রেখেছিল।' তিনি আরও বলেন, বলেন, 'পুলিশের দক্ষতা এক সময় উচ্চতায় ছিল। আন্তর্জাতিক স্তরের পুলিশের সঙ্গে তুলনা করা হত। উচ্চতা ও দক্ষতাকে আগের সরকার কাজে লাগায়নি। পুলিশের কর্মদক্ষতা, আধুনিক যে জিনিসপত্র দরকার, সেগুলির ব্যবস্থা করা হয়নি। নির্ভরতা কাটিয়ে পুলিশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।'
মুখ্যমন্ত্রী জানান, উত্তরপ্রদেশ, অসম, হরিয়ানা-সহ দেশের বেশিরভাগ রাজ্যই ইতিমধ্যে রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এই মউ স্বাক্ষর করে ফেলেছে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুলিশ প্রশাসনে অত্যাধুনিক ও উন্নতমানের বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণের যে বিপুল প্রয়োজন রয়েছে, এই মউ-এর মাধ্যমে তা এবার এ রাজ্যে অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব হবে। এই চুক্তির ফলে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশ - দুই বাহিনীই প্রভূতভাবে উপকৃত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
১৬ হাজার কনস্টেবলের নিয়োগ
মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন যে, ভারতীয় সেনা এবং বিভিন্ন আধাসামরিক (অসামরিক) বাহিনীতে এই রাজ্যের প্রচুর বাঙালি যুবক কর্মরত রয়েছেন এবং তাঁরা দক্ষতার সঙ্গে দেশসেবা করছেন। রাজ্যের পুলিশ দফতরে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের মধ্যেও দক্ষতার কোনও অভাব নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও, উপযুক্ত আত্মরক্ষার আধুনিক সামগ্রী না দেওয়ায় এবং বছরের পর বছর পুলিশ প্রশাসনের হাজার হাজার শূন্য পদ পূরণ না করায়, পুলিশ বাহিনী তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছে। পুলিশের পরিকাঠামো উন্নয়নে এদিন দুটি বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যে পুলিশের সমস্ত শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করা হবে। বর্তমানে প্রায় ১৬ হাজার কনস্টেবল রাজ্যজুড়ে ট্রেনিং বা প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে বসে আছেন, নতুন সরকার তাঁদের দ্রুত পুলিশ বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করে কাজে লাগানোর চূড়ান্ত চেষ্টা করছে। এছাড়া রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও আপদকালীন পরিস্থিতি আরও দ্রুত সামাল দিতে এবার প্রতিটি থানায় আধুনিক ‘১১২ সিস্টেম’ চালু করা হবে। রাজ্যপাল স্বয়ং এই বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে এনেছিলেন বলে জানান তিনি।
বিশেষ প্রশিক্ষণ
আইপিএস, ডব্লুপিএস, ইন্সস্পেক্টর, সাব ইনস্পেক্টর- সবাই রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নেবেন। পড়ুয়ারাও এতে অংশ নিতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে। ডার্ক ওয়েব, ফরেনসিক সায়েন্স, বর্ডার-ইন্টেলিজেন্স, সাইবার ক্রাইম ও নারী পাচার রোধের- মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। ফলে আশা করা যায় আগামী দিনে এ রাজ্যের পুলিশ তাদের হারানো গৌরব আবার ফিরে পাবে।
E-Paper

