পুলিশ প্রহরাতেও রক্ষা নেই! জনতার 'তাড়া' খেয়ে বাড়ি ছাড়লেন সাংসদ স্বামী-বিধায়ক স্ত্রী, সিতাইয়ে হুলুস্থূল...
Cooch Behar News: জগদীশচন্দ্র বসুনিয়া ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগ দিয়েছেন। এত দিন দিল্লিতেই ছিলেন। অন্যদিকে, পুত্রের চিকিৎসার কারণে সঙ্গীতা কলকাতায় ছিলেন বলে খবর।
Cooch Behar News: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ সেরে সিতাইয়ে ফিরেছিলেন কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বসুনিয়া (Jagadish Chandra Basunia) এবং তাঁর স্ত্রী, সিতাইয়ের বিধায়ক সঙ্গীত রায় (Sangita Roy)। কিন্তু ঘরে ফেরা শেষ পর্যন্ত স্বস্তির হল না। বাড়িতে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বিক্ষোভের জেরে ফের সিতাই ছাড়তে হল সাংসদ-বিধায়ক দম্পতিকে। গভীর রাতে পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁদের কোচবিহারে ফিরে যেতে হয়।

জগদীশচন্দ্র বসুনিয়া ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগ দিয়েছেন। এত দিন দিল্লিতেই ছিলেন। অন্যদিকে, পুত্রের চিকিৎসার কারণে সঙ্গীতা কলকাতায় ছিলেন বলে খবর। বস্তুত, গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর একবারই সাংসদ স্বামী এবং বিধায়ক পত্নীকে জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে দেখা গিয়েছিল। তবে বাড়ি যাননি তাঁরা। সূত্রের খবর, সংসদ অধিবেশন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করে দিল্লি থেকে সোমবার রাত প্রায় ১১.৫০ নাগাদ কড়া পুলিশি নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সিতাই বাজারের বাড়িতে ফেরেন জগদীশচন্দ্র এবং সঙ্গীতা। তাঁদের ফেরার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাড়ির সামনে এবং সিতাই বাজার এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। শুরু হয় বিক্ষোভ, ওঠে স্লোগানও। মুহূর্তে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় এলাকায় মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী।
কিন্তু বিক্ষোভ থামেনি। বরং পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভকারীর সংখ্যাও বাড়তে থাকে। বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে পুলিশ। বেশ কিছুক্ষণ টানটান উত্তেজনার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। তবে রাতের অন্ধকারে সিতাইয়ের বাড়িতে আর থাকা হল না সাংসদ ও বিধায়কের। রাত প্রায় ২টো নাগাদ ফের পুলিশি পাহারায় সিতাই ছাড়েন তাঁরা। জানা গিয়েছে, এরপর কোচবিহারে তাঁদের ফ্ল্যাটে ফিরে যান দু’জনেই। কারা এই বিক্ষোভ দেখালেন? এখন তো ‘ভাল তৃণমূলে’ সঙ্গীতা। জগদীশও এনডিএ-র শরিক হয়েছেন। প্রশ্ন করতেই বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন বলেন, ‘কে কখন বাড়িতে ঢুকবেন আর কখন বার হবেন, আমার কাছে তো সেই খবর থাকবে না। তবে আমাদের দলের কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এমন ক্ষোভ-বিক্ষোভ করা যাবে না। এখন সাধারণ মানুষ যদি এ সব করে, তাতে তো আমাদের কিছু করার নেই।’
অন্যদিকে মাঝরাতে বাড়িছাড়া প্রসঙ্গে সাংসদ জগদীশচন্দ্র বসুনিয়া বলেন, ‘আমার কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল বাড়িতে। সেই কাগজপত্র নিতে গিয়েছিলাম। তা ছাড়া এলাকার পরিবেশ-পরিস্থিতি কেমন রয়েছে, তার খোঁজখবর নিতেও গিয়েছিলাম। কিন্তু রাতেই একদল মানুষ বিক্ষোভ দেখাচ্ছিল!’ সাংসদের সংযোজন, ‘আমি যদি বাড়িতে থাকতাম, তা হলে কোনও রাজনৈতিক অস্থিরতার পরিবেশ তৈরি হলেও হতে পারত। কিন্তু আমি চাই না, আমার থাকার জন্য এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট হোক। গন্ডগোল-ঝামেলা চাই না। তাই রাতেই এলাকা থেকে চলে এসেছি।’ এদিকে, ঘটনার পর থেকেই সিতাইয়ের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন করে জল্পনা। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে কোচবিহারের সাংসদ হন জগদীশচন্দ্র বসুনিয়া। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সিতাই কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হন সঙ্গীতা রায়। নির্বাচনের পর থেকেই তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। দীর্ঘ কয়েক মাস পর নিজেদের সিতাইয়ের বাড়িতে ফিরেছিলেন সাংসদ ও বিধায়ক। স্বাভাবিক ভাবেই সেই প্রত্যাবর্তন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল ছিল। কিন্তু বাড়ি ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিক্ষোভের মুখে পড়ে ফের তাঁদের এলাকা ছাড়তে হওয়ায় সেই জল্পনাই যেন আরও উসকে গেল।
সিতাইয়ে রাতের এই বিক্ষোভ শুধু স্থানীয় ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, নাকি এর পিছনে রয়েছে বৃহত্তর কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ তা নিয়েই এখন চর্চা তুঙ্গে। আপাতত বিক্ষোভের জেরে গভীর রাতে পুলিশি পাহারায় সাংসদ-বিধায়কের সিতাই ছাড়া ঘিরে নতুন করে সরগরম কোচবিহারের রাজনীতি।
E-Paper

