ভয়ঙ্কর কাণ্ড! দুর্গাপুর ধর্ষণকাণ্ডের পর সেই মেডিক্যাল কলেজেই পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যু, আতঙ্ক..
বিহারের পাটনার বাসিন্দা ওই যুবক পড়াশোনার জন্য দুর্গাপুরে ওই বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের হস্টেলে থাকতেন।
ভয়ঙ্কর কাণ্ড! দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের এক চিকিৎসক পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যুতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। হস্টেলের শৌচালয় থেকে উদ্ধার হয় তাঁর ঝুলন্ত দেহ। গত বছর এই কলেজেরই এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গোটা বাংলা তোলপাড় হয়েছিল। সেই মামলা এখনও আদালতে বিচারাধীন। আর তার কয়েক মাসের মধ্যে এবার এক ছাত্রের দেহ উদ্ধার হল। আত্মহত্যা, না ওই ছাত্রের মৃত্যুর নেপথ্যে রয়েছে আরও কোনো গাঢ় রহস্য, তার উত্তর খুঁজছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত ছাত্রের নাম লাবণ্য প্রতাপ (২২)। বিহারের পাটনার বাসিন্দা ওই যুবক পড়াশোনার জন্য দুর্গাপুরে ওই বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের হস্টেলে থাকতেন। ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে তিনি ওই কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। শনিবার রাতে শৌচালয়ে তাঁর দেহ ঝুলতে দেখে অন্যান্য পড়ুয়ারাই। দুর্গাপুর থানার পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে দেহ উদ্ধার করে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর পরই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে পুরো ক্যাম্পাসে। রবিবার অর্থাৎ আজ দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। যুবকের বন্ধুদের তরফে জানানো হয়েছে, গত কয়েকটি সেমিস্টারে পাস করতে পারেননি লাবণ্য, সেই কারণে বেশ মনমরা হয়েছিলেন। আর তার ফলে তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে কী করে পড়ুয়ার মৃত্যু তা নিয়ে এখনও চলছে ধোঁয়াশা। পুলিশ তদন্ত করে দেখছে, ওই যুবকের মৃত্যুর পিছনে অন্য কারণ আছে কিনা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরই মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। মৃতের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বন্ধুদেরও। দুর্গাপুরের ডিসি (পূর্ব) অভিষেক গুপ্তা জানিয়েছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে। এদিন মৃতের বাবা বলেন, 'বাবা-মা তো টাকা পয়সা দেয়। ছেলেদের নিরাপত্তার বিষয়টা তো দেখবে কলেজ কর্তৃপক্ষ দেখবে।' অন্যদিকে, এই ঘটনার পর থেকে কলেজের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত বছর দুর্গাপুর মেডিক্যাল কলেজের ডাক্তারি পড়ুয়া গণধর্ষণের শিকার হয়। অভিযোগ ছিল, ঘটনার রাতে ওই ছাত্রী কলেজের হস্টেল থেকে এক বন্ধুর সঙ্গে খাবার খেতে বেরিয়েছিলেন। ফেরার পথে তাঁকে জোর করে একটি নির্জন জঙ্গলে টেনে নিয়ে যায় কয়েকজন দুষ্কৃতী। সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, অভিযুক্তরা তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং ৩ হাজার টাকা চায়। মেয়েটি টাকা দিতে না পারায় তাঁকে মারধরও করা হয়। কিছু সময় পর রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর বন্ধু তাঁকে উদ্ধার করে। এখনও সেই মামলা আদালতে বিচারাধীন। এমতাবস্থায় ধর্ষণ মামলার রেশ কাটতে না কাটতেই এই ছাত্রের রহস্যমৃত্যুতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে ছাত্র ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে।
E-Paper











