এনআরএসে নার্সের রহস্যমৃত্যু! কী ঘটেছিল রাত ৮টা থেকে ১০.২০-র মধ্যে? তদন্ত কমিটি গঠন স্বাস্থ্য দফতরের

NRS Hospital: হাসপাতাল সূত্রে খবর, কাজের জায়গায় যোগ দেওয়ার পরই ওই নার্স ফেন্টানিলের তিনটি ভায়াল নিয়ে শৌচালয়ে যান। ফেন্টানিল মূলত রোগীদের অসাড় বা ঘুম পাড়ানোর কাজে ব্যবহৃত একটি অতিসংবেদনশীল ওষুধ।

Published on: Aug 13, 2026, 19:33:21 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

NRS Hospital: রাতের ডিউটি চলাকালীন নীলরতন সরকার (NRS) মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের শৌচালয় থেকে এক নার্সের মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার রাতে হাসপাতালের শৌচালয়ের বন্ধ দরজা ভেঙে ওই নার্সের দেহ উদ্ধার করে পুলিশ (NRS Nurse Death)। কী ভাবে তাঁর মৃত্যু হল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। এই ঘটনায় এন্টালি থানার পুলিশের পাশাপাশি স্বাস্থ্য দফতরও (Health Department) পৃথক তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ খতিয়ে দেখতে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সাতটি বিভাগের প্রধানকে নিয়ে তৈরি হবে ওই কমিটি। সাত দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য ভবনে রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

এনআরএসে নার্সের রহস্যমৃত্যু! তদন্ত কমিটি গঠন স্বাস্থ্য দফতরের (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে ন্যানো ব্যানানা দিয়ে তৈরি করা)
এনআরএসে নার্সের রহস্যমৃত্যু! তদন্ত কমিটি গঠন স্বাস্থ্য দফতরের (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে ন্যানো ব্যানানা দিয়ে তৈরি করা)

সংবাদমাধ্যম 'আনন্দবাজার'-এর প্রতিবেদন অনুসারে, বুধবার রাতে এনআরএস মেডিকেল কলেজে ওই নার্সের নাইট ডিউটি ছিল। রাত ৮টা নাগাদ তিনি হাসপাতালে কাজে যোগ দেন। স্ত্রীরোগ বিভাগের এইচডিইউ-তে নার্সিং স্টেশনে কাজে যোগ দেওয়ার পর রোগীকে প্রাথমিক পরিষেবাও দেন ওই নার্স। তার পরে চলে যান এইচডিইউয়ের শৌচালয়ে। সেখান থেকেই উদ্ধার হয় তাঁর দেহ। ওই শৌচালয়ের সামনে একটি সিসি ক্যামেরা রয়েছে। সূত্রের খবর, সেটিতে ঘটনাক্রমের ফুটেজ ধরা পড়েছে। ওই ফুটেজ ইতিমধ্যে বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, রাত ১০টা ২০ মিনিটে শৌচালয়ে যান ওই নার্স। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ কেটে যাওয়ার পরেও তিনি বাইরে না বেরোনোয় সহকর্মীরা রাত ১০টা ২৭-এ ডাকাডাকি শুরু করেন। কিন্তু ভিতর থেকে কোনও সাড়াশব্দ না মেলায় সন্দেহ হয় সহকর্মীদের।

শেষে শৌচালয়ের দরজা ভেঙে ফেলা হয়। ভিতরে ঢুকে সহকর্মীরা দেখেন, শৌচালয়ে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছেন ওই নার্স। দ্রুত তাঁকে ট্রলিতে তুলে পরীক্ষা করা হয়। সহকর্মীরা দ্রুত তাঁকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। কিন্তু ততক্ষণে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে দেহটি। এদিকে, ঘটনার খবর পেয়েই বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালে যান রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। কথা বলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, 'মৃত্যুর কারণ আমার কাছে একই রকম সন্দেহভাজন। কেন মারা গেলেন, কী ভাবে মারা গেলেন, মারা যাওয়ার সময়ে কী কী ঘটনা ঘটেছিল, এর উত্তর তো পুলিশ দেবে। প্রশাসন ও পুলিশ তদন্ত চলবে। যা যা বিষয় পাওয়া গিয়েছে, তা পুলিশ এবং প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।' তিনি আরও বলেন, গত রাতে রোগীদের প্রাথমিক পরিষেবা দেওয়ার কিছু পরেই শৌচালয়ে প্রবেশ করেন ওই নার্স। এনআরএসের মতো হাসপাতালের ওয়ার্ড সবসময়ই ব্যস্ত থাকে। গতকালই সকলে কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এরই মধ্যে এক জুনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসক এক রোগীর মৃত্যু শংসাপত্র সংক্রান্ত কাজের জন্য ওই নার্সের খোঁজ করেন। তখনই সকলের নজরে আসে নার্স ওয়ার্ডে নেই। শৌচালয়ের বাইরে ধাক্কাধাক্কি করার পরেও সাড়াশব্দ না পেয়ে গ্রুপ-ডি কর্মীকে দিয়ে দরজা ভাঙানো হয়।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, কাজের জায়গায় যোগ দেওয়ার পরই ওই নার্স ফেন্টানিলের তিনটি ভায়াল নিয়ে শৌচালয়ে যান। ফেন্টানিল মূলত রোগীদের অসাড় বা ঘুম পাড়ানোর কাজে ব্যবহৃত একটি অতিসংবেদনশীল ওষুধ। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, অতিরিক্ত ওষুধ প্রয়োগের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত নয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আনুমানিক রাত সাড়ে ১০টার পরে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। এর পরে আনুমানিক পৌনে ১১টা থেকে ১০টা ৫০-এর মধ্যে পুলিশও পৌঁছে যায় ঘটনাস্থলে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, অকুস্থল থেকে কোনও সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। তবে নার্সের দেহ যেখানে পড়ে ছিল, পাশেই তাঁর মোবাইলটিও পড়ে ছিল। সূত্রের খবর, বুধবার রাতে এইচডিইউ ওয়ার্ডে যে ভিডিওগুলি তোলা হয়েছিল, তা ইতিমধ্যে ডিলিট করা হয়েছে। এন‌আর‌এসের প্রশাসনিক ভবন সূত্রের খবর, এক অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার এবং আরও তিনজনের মোবাইলে থাকা ভিডিও মুছে ফেলা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার এম‌এসভিপি মানবেন্দ্র সরকারের কার্যালয়ে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন। সেই বৈঠক চলাকালীন স্বাস্থ্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে আসা নির্দেশের প্রেক্ষিতে ফুটেজ ডিলিট করা হয়। স্বাস্থ্য প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্তার বক্তব্য, 'পুলিশের কাছে যে ছবি, ভিডিও রয়েছে, তা ব্যতিরেকে অন্যদের মোবাইলে থাকা ভিডিও ডিলিট করতে বলা হয়। সেই মতো যাঁর কাছে যা ভিডিও ছিল তা ডিলিট করা হয়।'

শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, 'স্বাস্থ্য দফতরও পৃথক তদন্ত শুরু করেছে। এর জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়ে গিয়েছে। এই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন এনআরএসের ফরেন্সিক মেডিসিনের বিভাগীয় প্রধান। কমিটিতে থাকবেন প্রিন্সিপাল, এমএসভিপি, নার্সিং সুপার, মনোরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, সাফাইকর্মীদের বিভাগীয় প্রধান এবং সুরক্ষাকর্মীদের বিভাগীয় প্রধান। খুব ভারসাম্য রেখে কমিটি গড়া হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে এই কমিটি স্বাস্থ্য দফতরে রিপোর্ট জমা দেবে।' জানা গেছে, মৃত নার্সের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে। তবে কলকাতায় স্বামীর সঙ্গে তিনি থাকতেন দমদম ক্যান্টনমেন্ট এলাকায়। মন্ত্রী জানান, মৃতের দুই বাড়িতেই খবর পাঠানো হয়। স্বামী গতরাতেই পৌঁছে যান হাসপাতালে। তিনি চাইছিলেন, এনআরএসের বদলে অন্য কোনও হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করানো হোক। তাঁর সেই আর্জিকে মান্যতা দিয়েই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্ত করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। সেখানে ফরেন্সিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের তত্ত্বাবধানে তদন্ত চলবে।