Nabanna: ফাইল সরালেই শাস্তি! ফল প্রকাশের মধ্যেই হাই-অ্যালার্ট নির্দেশিকা নবান্নের
Nabanna: সোমবার রাজ্যে বিধানসভা ভোটের গণনা চলছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত যা ফল, তাতে দেখা গিয়েছে, ২০০-র বেশি আসনে এগিয়ে বিজেপি। গণনার মাঝেই রাজ্যের মুখ্যসচিবের সই করা একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়।
Nabanna: সোমবার, একদিকে যখন ইভিএমের ফল রাজ্যের পালাবদলকে ইঙ্গিত করছে, ঠিক তখনই প্রশাসনের অন্দরে এক নজিরবিহীন নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন। সোমবার রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা এক কড়া নির্দেশে জানিয়েছেন, রাজ্যের সরকারি দফতরগুলি থেকে যেন কোনও নথি বা একটি ফাইলও সরানো বা নষ্ট করা না হয়। কোনও ফাইল থেকে যেন কোনও তথ্য টুকেও না রাখা হয়। এই বিষয়গুলি রাজ্যের সব দফতরের সচিব এবং প্রধানদের নিশ্চিত করতে বলেছেন তিনি। কিন্তু, ভোটের ফল প্রকাশের এই ডামাডোলের মধ্যে কেন এমন নির্দেশ? রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই আগাম সতর্কতা।

নবান্নের নির্দেশে ঠিক কী বলা হয়েছে?
সোমবার রাজ্যে বিধানসভা ভোটের গণনা চলছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত যা ফল, তাতে দেখা গিয়েছে, ২০০-র বেশি আসনে এগিয়ে বিজেপি। গণনার মাঝেই রাজ্যের মুখ্যসচিবের সই করা একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়। তাতে জানানো হয়েছে, রাজ্যের সরকারি দফতরগুলি থেকে যেন একটি ফাইল বা নথিও সরানো বা নষ্ট করা না হয়। কোনও ফাইল বা তথ্য যেন কেউ ‘কপি’ করতে না পারে, তা-ও ব্যক্তিগত ভাবে নিশ্চিত করতে হবে দফতরের সচিব এবং প্রধানদের। এ ধরনের কিছু ঘটলে তার দায় চাপবে ওই আধিকারিকদের উপরেই। এছাড়া, প্রতিটি ফাইল এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের নথির সঠিক হিসাব রাখতে হবে।
প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে এই বার্তা ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে। রাজ্যের সব সরকারি দফতরের সচিব, বিভাগীয় প্রধানের পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ডিজি, আইজি, সকল বিভাগীয় কমিশনার, কলকাতা পুলিশের কমিশনার, জেলাশাসকদেরও নির্দেশিকাটি পাঠানো হয়েছে। এমনকী রাজ্যপালের সচিবকেও বিষয়টি সরকারিভাবে জানানো হয়েছে। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পরেই রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়ে দুষ্মন্তকে ওই পদে বসানো হয়েছিল। এবার সেই দুষ্মন্ত নির্দেশিকা জারি করলেন। গণনা চলাকালীন যখন ক্ষমতার পালাবদল নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে, তখন নবান্নের এই 'ফাইল সুরক্ষা' কবচ নিয়ে প্রশাসনিক মহলে বেশ শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সরকারি তথ্য ও প্রমাণের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই এই অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নিলেন দুষ্মন্ত নারিয়ালা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, সরকার পরিবর্তনের সময় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং বিগত সরকারের আমলের সমস্ত প্রশাসনিক নথিপত্র সুরক্ষিত রাখতেই এই জোড়া পদক্ষেপ । অতীতে বিভিন্ন জায়গায় ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ফাইল বা আর্থিক লেনদেনের নথি হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে । সেই ধরনের কোনও বিতর্ক বা অস্বচ্ছতা যাতে এই রাজ্যে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না-পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই কড়া নীতি গ্রহণ করা হয়েছে । একদিকে যেমন কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে নবান্ন ঘিরে ফেলে বাহ্যিক নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করা হয়েছে, অন্যদিকে তেমনই নির্দেশিকা জারি করে প্রশাসনিক আধিকারিকদের আইনিভাবে দায়বদ্ধ করা হল । এর ফলে আগামী দিনে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনের কাজকর্মে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সুবিধা হবে বলেই মনে করা হচ্ছে ।
E-Paper

