West Bengal Government: সরকারি খরচ সংকোচন! ওয়ার্ক ফ্রম হোম-পাবলিক ট্রান্সপোর্টের ব্যবহারে জোর দিয়ে নির্দেশিকা নবান্নের
West Bengal Government: এই নির্দেশিকা যাতে কেবল খাতায়-কলমে সীমাবদ্ধ না-থাকে, তার জন্য কঠোর সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে নবান্ন । নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, প্রতিটি রাজ্য সরকারি দফতর এবং জেলা প্রশাসনকে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য একটি বিস্তারিত 'অ্যাকশন প্ল্যান' বা কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করতে হবে।
West Bengal Government: রাজ্যের সরকারি দফতরগুলিতে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমাতে এবং কাজের গতি ও স্বচ্ছতা বাড়াতে একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপ নিল সরকার। সোমবার মুখ্যসচিবের দফতর থেকে এই সংক্রান্ত একটি জরুরি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। জ্বালানি সাশ্রয়, পাবলিক ট্রান্সপোর্টের ব্যবহার, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সংক্রান্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের রেশ ধরেই এবার সরকারি দফতর ও জেলা প্রশাসনগুলিকে নির্দিষ্ট ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি সূত্রে খবর, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য এই বিশদ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে প্রতিটি দফতরকে। রাজ্যের সমস্ত দফতরের প্রধান এবং জেলাশাসকদের কাছে পাঠানো মুখ্যসচিবের এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এবার থেকে সরকারি কাজে যথেচ্ছ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। রাজ্য সরকারের সমস্ত দফতর, ডিরেক্টরেট, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা (পিএসইউ), বোর্ড, কর্পোরেশন এবং সরকারি অর্থপুষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে অবিলম্বে এই নির্দেশ কার্যকর করতে বলা হয়েছে।
কী কী থাকছে নবান্নের নতুন নির্দেশিকায়?
মুখ্যসচিবের নির্দেশ অনুযায়ী, সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে মূলত সাতটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে এই নতুন কর্মপরিকল্পনা সাজাতে হবে-
১. ভার্চুয়াল মিটিংয়ে জোর: সরকারি কাজের পর্যালোচনা বা সাধারণ বৈঠকের ক্ষেত্রে সশরীরে উপস্থিতির বদলে ভিডিও কনফারেন্স বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকী যেখানে সম্ভব, কাজের মান বজায় রেখে 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম'-এর বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
২. ভ্রমণ ও জ্বালানি সাশ্রয়: সরকারি কাজে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত কমাতে হবে। বড় আধিকারিকদের ক্ষেত্রে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বা কার-পুলিং (গাড়ি ভাগ করে নেওয়া) এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।
৩. বিদ্যুৎ ও শক্তি সঞ্চয়: সরকারি অফিস ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে। অপ্রয়োজনে আলো-পাখা চালানো বন্ধ রাখা বা এনার্জি-সেভিং যন্ত্রপাতির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
৪. কাগজহীন অফিস (পেপারলেস অফিস): ই-অফিস ব্যবস্থার প্রসার ঘটিয়ে কাগজ ব্যবহারের খরচ কমাতে চাইছে রাজ্য। ডিজিটাল ফাইল আদান-প্রদান এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ ছাঁটাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৫. ‘স্বদেশি’ ও স্থানীয় পণ্যে গুরুত্ব: সরকারি কেনাকাটার ক্ষেত্রে দেশীয় বা রাজ্যে তৈরি পণ্যে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ‘স্বদেশি’ উদ্যোগকে উৎসাহিত করাই এর মূল লক্ষ্য। এর ফলে একদিকে যেমন কাগজের ব্যবহার কমবে, তেমনই অন্যদিকে এড়ানো যাবে অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় । পাশাপাশি, সরকারি স্তরে 'স্বদেশি' উদ্যোগকে আরও বেশি করে উৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছে নবান্নের এই নির্দেশিকায় ।
৬. প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার: বর্জ্য নিষ্কাশন, পুনর্ব্যবহার (রিসাইক্লিং) এবং সঠিক সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৭. স্বাস্থ্যকর ও সুস্থ জীবনযাপন: স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত ভোজ্য তেল এবং পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ বা অর্গানিক পণ্যের ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে সুস্থ জীবনযাত্রার বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির পরামর্শ দিয়েছে নবান্ন।
সময়সীমা বেঁধে দিলেন মুখ্যসচিব
এই নির্দেশিকা যাতে কেবল খাতায়-কলমে সীমাবদ্ধ না-থাকে, তার জন্য কঠোর সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে নবান্ন । নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, প্রতিটি রাজ্য সরকারি দফতর এবং জেলা প্রশাসনকে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য একটি বিস্তারিত 'অ্যাকশন প্ল্যান' বা কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করতে হবে- যেখানে তাৎক্ষণিক, মধ্যমেয়াদী এবং দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রা নির্দিষ্ট থাকবে। আগামী ২২ মে, ২০২৬ তারিখের মধ্যে এই রিপোর্ট মুখ্যসচিবের দফতরে জমা দিতে হবে। পরবর্তীকালে, ১ জুলাই থেকে প্রতি মাসে এই কাজের অগ্রগতি নিয়ে ‘মান্থলি রিপোর্ট’ পাঠানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মুখ্যসচিব তাঁর নির্দেশিকায় জানিয়েছেন, রাজ্যের সমস্ত অ্যাডিশনাল চিফ সেক্রেটারি, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এবং জেলাশাসকদের এই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রতিটি অধীনস্থ অফিস যাতে এই নির্দেশ মেনে চলে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে শীর্ষ আধিকারিকদের। এই নির্দেশিকার একটি প্রতিলিপি মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান সচিবের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
প্রশাসনিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, নবান্নের এই পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে সরকারি কোষাগারের বিপুল অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে ।
E-Paper

