SIR জট কাটল না হাইকোর্টে! এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন কংগ্রেস প্রার্থী? কোনও মামলায়?
প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কলকাতা হাইকোর্ট এই মুহূর্তে কেবল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে প্রশাসনিক বিষয়গুলির তদারকি করছে।
সামনেই বাংলার বিধানসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যেই প্রার্থীতালিকা ঘোষণা করে দিয়েছে কংগ্রেস। আর তারপর থেকেই ফারাক্কায় কংগ্রেস প্রার্থী মহতাব শেখকে ঘিরে বড় সমস্যা সামনে এসেছে। অভিযোগ, প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হলেও তাঁর নাম এখনও এসআইআর তালিকায় নেই। কেন এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস প্রার্থীর আইনজীবী কলকাতা হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

কংগ্রেস প্রার্থীর মূল অভিযোগ, প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষিত হলেও সংশ্লিষ্ট এসআইআর তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি, ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য যে ট্রাইবুনাল কার্যকর হওয়ার কথা, সেটিও এখনও কাজ শুরু করতে পারেনি বলে আদালতে জানানো হয়। এই প্রেক্ষিতে দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদন জানানো হয় হাইকোর্টের কাছে, যাতে প্রার্থী হিসেবে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট হয় এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনও বাধা না থাকে। এই আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল স্পষ্ট করে দেন, এসআইআর সংক্রান্ত যাবতীয় মামলার শুনানি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের অধীনেই চলছে। দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, এই ধরনের মামলায় কোনও হাইকোর্ট সরাসরি শুনানি করতে পারে না। ফলে কলকাতা হাইকোর্টের পক্ষে এই বিষয়ে বিস্তারিত শুনানি গ্রহণ করা সম্ভব নয় বলেই জানান তিনি।
প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কলকাতা হাইকোর্ট এই মুহূর্তে কেবল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে প্রশাসনিক বিষয়গুলির তদারকি করছে। অর্থাৎ, এসআইআর সংক্রান্ত আইনি জটিলতা বা বিরোধের নিষ্পত্তি করার ক্ষমতা এই মুহূর্তে হাইকোর্টের হাতে নেই। সেই কারণে আবেদনকারীকে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এই নির্দেশের পরেই স্পষ্ট হয়ে যায়, মহতাব শেখকে তাঁর সমস্যার সমাধানের জন্য দেশের সর্বোচ্চ আদালতেই যেতে হবে। সেই অনুযায়ী, আগামী ১ এপ্রিল তিনি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানাতে চলেছেন বলে জানা গিয়েছে। ভোটের আগে এই ধরনের আইনি জটিলতা নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। একদিকে প্রার্থীর নাম তালিকায় না থাকা, অন্যদিকে ট্রাইবুনালের জটিলতা - সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল আকার নিয়েছে। এখন নজর সুপ্রিম কোর্টের দিকে, তারা এই বিষয়ে কী নির্দেশ দেয় এবং প্রার্থীর ভবিষ্যৎ নির্বাচনী লড়াই কোন পথে এগোয়।
উল্লেখ্য, কাজল শেখ, শশী পাঁজা-সহ তৃণমূলের ১১ প্রার্থী এসআইআর-এ বিবেচনাধীন ছিলেন। যদিও দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের পর কাজল শেখ ও শশী পাঁজার নাম উঠলেও এখনও বাকি ৯ জন বিবেচনাধীন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় এটি একটি বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন উত্তর কলকাতার একটি বড় অংশের ভোটারদের নাম ‘ভেরিফিকেশন’-এর জন্য আলাদা করে রেখেছে। জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি এই ইস্যুটি তুলে ধরেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিজেপির ইশারায় নির্বাচন কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে তৃণমূলের জয়ী প্রার্থীদের এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার বা জটিলতায় ফেলার চেষ্টা করছে। সূত্রের খবর, তৃণমূল এবিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেবে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য এখনও এই বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও কারণ স্পষ্ট করেনি।
E-Paper

