নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রার্থী প্রয়াত আপ্তসহায়কের মা হাসিরানি, মনোনয়ন ঘিরে শুভেন্দুর শক্তি প্রদর্শন

প্রার্থী ঘোষণার আগেই অবশ্য হাসিরানি রথের নাম নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। বিজেপির অন্দরমহলে একাধিক নাম ঘোরাফেরা করলেও শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চন্দ্রনাথ রথের মাকেই বেছে নেয়।

Published on: Sep 15, 2026, 14:03:02 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিহত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা-কে প্রার্থী করে নন্দীগ্রামের লড়াইয়ে আবেগ এবং রাজনৈতিক বার্তা—দুই অস্ত্রই একসঙ্গে ব্যবহার করতে চাইছে বিজেপি। মঙ্গলবারই হাসিরানি রথের মনোনয়ন জমা দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। তাঁর সঙ্গে থাকার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরও।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিহত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা-কে প্রার্থী করে নন্দীগ্রামের লড়াইয়ে আবেগ এবং রাজনৈতিক বার্তা—দুই অস্ত্রই একসঙ্গে ব্যবহার করতে চাইছে বিজেপি। (Saikat Paul)
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিহত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা-কে প্রার্থী করে নন্দীগ্রামের লড়াইয়ে আবেগ এবং রাজনৈতিক বার্তা—দুই অস্ত্রই একসঙ্গে ব্যবহার করতে চাইছে বিজেপি। (Saikat Paul)

প্রার্থী ঘোষণার আগেই অবশ্য হাসিরানি রথের নাম নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। বিজেপির অন্দরমহলে একাধিক নাম ঘোরাফেরা করলেও শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চন্দ্রনাথ রথের মাকেই বেছে নেয়। মঙ্গলবার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই সেই জল্পনায় সিলমোহর পড়ে। নন্দীগ্রামের এই সিদ্ধান্তকে বিজেপির কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যুকে ঘিরে যে আবেগ তৈরি হয়েছে, তা ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয় পেয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে একটি আসন ছাড়তে হতো। শেষ পর্যন্ত ভবানীপুর আসন রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন তিনি। ফলে এই আসনে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে ভোট হওয়ার কথা।

এই উপনির্বাচন অবশ্য শুধু একটি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচন নয়। নন্দীগ্রাম বরাবরই বঙ্গ রাজনীতির অন্যতম আলোচিত কেন্দ্র। ২০২১ সালে এখানেই শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাইপ্রোফাইল লড়াই হয়েছিল। এবারও সেই কেন্দ্রের ভোট ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে বাড়ছে উত্তেজনা। তার উপর তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, একাধিক শিবিরের প্রার্থী এবং বিজেপির তরফে হাসিরানি রথকে সামনে আনা—সব মিলিয়ে লড়াই আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রার্থী হিসেবে হাসিরানি রথের নাম ঘোষণার পর মঙ্গলবার হলদিয়ায় তাঁকে পাশে নিয়ে সভা করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকেই নন্দীগ্রামবাসীর উদ্দেশে বড় বার্তা দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এলাকার প্রতিটি পরিবারের মাথার উপর ছাদ, পেটে ভাত এবং হাতে কাজ নিশ্চিত করা তাঁর অঙ্গীকার। নন্দীগ্রামের দায়িত্ব নিজের কাঁধে রয়েছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।

একইসঙ্গে নির্বাচনী লড়াইয়ে জয়ের ব্যাপারে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী সুর শোনা যায় শুভেন্দুর গলায়। তিনি দাবি করেন, এমন মার্জিনে বিজেপি জিতবে, যা অনেকেই কল্পনা করতে পারছেন না। অর্থাৎ শুধু জয় নয়, বড় ব্যবধানে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই গেরুয়া শিবির এগোচ্ছে।

সভা থেকে তৃণমূল নেতৃত্বকেও আক্রমণ করেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক ইতিহাস এবং তাঁর নিজের অতীত লড়াইয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বিরোধীদের নিশানা করেন। ফলে স্পষ্ট, এই উপনির্বাচনকে নিছক স্থানীয় ভোট হিসেবে দেখছে না বিজেপি। বরং নন্দীগ্রামকে ফের নিজেদের শক্তির প্রদর্শনের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে দল।

অন্যদিকে, হাসিরানি রথের মনোনয়ন ঘিরেও দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে। ছেলের মৃত্যুর শোক পেরিয়ে নির্বাচনী ময়দানে তাঁর নামার ঘটনাকে বিজেপি আবেগের পাশাপাশি ন্যায়ের দাবির সঙ্গেও যুক্ত করছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই প্রার্থী বাছাইয়ের মাধ্যমে ভোটারদের আবেগকে সংগঠনের শক্তির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।

এখন নজর ৬ অক্টোবরের দিকে। হাসিরানি রথকে সামনে রেখে শুভেন্দু অধিকারীর ‘গড়’ নন্দীগ্রামে বিজেপি কতটা বড় ব্যবধান তৈরি করতে পারে, সেটাই হবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। একই সঙ্গে তৃণমূলের একাধিক শিবির, কংগ্রেস ও বামেদের উপস্থিতিতে বিরোধী ভোটের সমীকরণ কোন দিকে যায়, তাও গুরুত্বপূর্ণ। নন্দীগ্রামের এই উপনির্বাচন তাই আবারও রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More