Nandigram By-Election: ভোটারকে বুথে ঢুকতে বাধা, স্লিপ কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ, পুলিশের নামেই রিগিংয়ের নালিশ!

সুভানি চক এলাকায় সকাল থেকেই ভিড় জমেছিল ভোটারদের। কিন্তু ভোট না দিয়েই কয়েক জন মহিলা বাড়ি ফিরে যাওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। তাঁদের দাবি, বুথে ঢোকার আগেই বিজেপির লোকজন জোর করে তাঁদের ভোটার স্লিপ নিয়ে নেয়। ফলে ভোট দেওয়ার সুযোগ না পেয়ে তাঁদের ফিরে যেতে হয়েছে।

Published on: Oct 6, 2026, 13:00:33 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

ভোটের দিন সকাল থেকেই নন্দীগ্রামে একের পর এক অভিযোগ ঘিরে চড়ছে উত্তেজনার পারদ। কোথাও ভোটারদের স্লিপ কেড়ে নিয়ে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ, কোথাও আবার পুলিশই ভোটে কারচুপি করাচ্ছে বলে সরব হয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তাঁর অভিযোগ, ভয় দেখিয়ে ভোটারদের দমিয়ে রাখার পাশাপাশি এলাকায় বহিরাগতদেরও জড়ো করা হয়েছে।

ভোটের দিন সকাল থেকেই নন্দীগ্রামে একের পর এক অভিযোগ ঘিরে চড়ছে উত্তেজনার পারদ।
ভোটের দিন সকাল থেকেই নন্দীগ্রামে একের পর এক অভিযোগ ঘিরে চড়ছে উত্তেজনার পারদ।

সুভানি চক এলাকায় সকাল থেকেই ভিড় জমেছিল ভোটারদের। কিন্তু ভোট না দিয়েই কয়েক জন মহিলা বাড়ি ফিরে যাওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। তাঁদের দাবি, বুথে ঢোকার আগেই বিজেপির লোকজন জোর করে তাঁদের ভোটার স্লিপ নিয়ে নেয়। ফলে ভোট দেওয়ার সুযোগ না পেয়ে তাঁদের ফিরে যেতে হয়েছে। এক মহিলা প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন, তাঁর স্লিপ কেড়ে নেওয়ায় তিনি আর ভোট দিতে পারেননি। এই অভিযোগ সামনে আসার পর এলাকাজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।

শুধু সুভানি চক নয়, আরও কয়েকটি বুথ নিয়েও অভিযোগ জানিয়েছে কংগ্রেস। দলের নির্বাচন এজেন্ট সুব্রত মহাপাত্রের অভিযোগ, ভেড়ুতিয়া এলাকার ২৮ ও ২৯ নম্বর বুথে ভোটারদের জোর করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি প্রকৃত ভোটারদের হয়ে বহিরাগতদের ভোট দেওয়ার চেষ্টাও হয়েছে বলে দাবি তাঁর। ভেড়ুতিয়ার ৯৬ নম্বর বুথে ভোটারদের ভিতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ। আমদাবাদ-২ অঞ্চলের কামালপুরের ১৬৭ নম্বর বুথে ভোট দিতে যাওয়ার পথেই ভোটারদের আটকে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে কংগ্রেস।

এরই মধ্যে পুলিশের বিরুদ্ধে সরাসরি বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। তাঁর দাবি, ভোটের মাঠে পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকেই অনিয়মের সুযোগ করে দিচ্ছে। এমনকি তাঁকে পুলিশ মারধর করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। গড়চক্রবেড়িয়া ও জলপাই এলাকার ২৪১ ও ২৪২ নম্বর বুথে মহিলাদের মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে তাঁর দাবি। মহিলাদের সরাতে পুলিশ লাঠি নিয়ে এগিয়ে আসে এবং সেই সময় তিনি নিজেও আঘাত পান বলে অভিযোগ করেছেন মিলন।

মিলনের আরও অভিযোগ, অতীতে তাঁকে আটক করে দিঘায় নিয়ে যাওয়া এক পুলিশ আধিকারিককেই তিনি এ দিন বুথে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছেন। তাঁর দাবি, ওই আধিকারিকের উপস্থিতিতেই ভোটে রিগিং চলছে। বিষয়টি কমিশনকে জানানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ভোটের নামে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিবর্তে যেন প্রহসন চলছে।

নন্দীগ্রামের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও। তাঁর অভিযোগ, ভোটের আগের রাত থেকেই এলাকায় আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা হয়েছে। সশস্ত্র বহিরাগতদের জমায়েত এবং বাইক বাহিনীর ঘোরাফেরার অভিযোগ তুলে তিনি নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। তাঁর দাবি, সাধারণ ভোটার এবং কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে ভয় তৈরি করা হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

তবে কংগ্রেসের সমস্ত অভিযোগই উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। দলের সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীকে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কাজ করতে হচ্ছে। কংগ্রেস প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কার্যত নেই বলেই রাজনৈতিক প্রচারের জন্য পরিবেশ গরম করার চেষ্টা চলছে বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি।

অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই তাই প্রশ্ন উঠছে, নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে শেষ পর্যন্ত কতটা অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোটগ্রহণ হল। ভোটবাক্স বন্ধ হওয়ার পরে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং কমিশনের পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More