Nandigram By Election: নন্দীগ্রামে মিলন প্রধানের হয়ে প্রচারে স্ত্রী, সভার অনুমতি বাতিল! ভোটের মুখে কংগ্রেসের ক্ষোভ
শুক্রবার নন্দীগ্রাম বাজারে মিলন প্রধানের স্ত্রীর একটি সভা করার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই সভার অনুমতি মেলেনি বলে অভিযোগ করেছে কংগ্রেস। দলের দাবি, প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনের তরফে অনুমতি না দেওয়ায় নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করতে হয়েছে।
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে মিলন প্রধানকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হল। প্রার্থী জেলবন্দি থাকায় তাঁর হয়ে প্রচারে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন স্ত্রী অর্পিতা প্রধান। শুক্রবার নন্দীগ্রাম বাজারে তাঁর একটি সভা করার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই সভার অনুমতি মেলেনি বলে অভিযোগ করেছে কংগ্রেস। দলের দাবি, প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনের তরফে অনুমতি না দেওয়ায় নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করতে হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে হস্তক্ষেপের আর্জিও জানিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস।

মিলন বর্তমানে জেলে থাকায় তাঁর হয়ে নির্বাচনী প্রচারের দায়িত্ব নেওয়ার কথা আগেই জানিয়েছিলেন অর্পিতা। বৃহস্পতিবার কলকাতায় প্রদেশ কংগ্রেসের দফতরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে নন্দীগ্রামে প্রচারে নামবেন। সেই মতো শুক্রবার নন্দীগ্রাম বাজার থেকেই কর্মসূচি শুরুর পরিকল্পনা ছিল। দলীয় কর্মীদের নিয়ে বাড়ি বাড়ি প্রচারও করার কথা ছিল। কিন্তু সভার অনুমতি না মেলায় প্রথম দিনেই সেই পরিকল্পনায় বাধা পড়েছে বলে কংগ্রেসের বক্তব্য।
প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দলের অভিযোগ, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সভার জন্য আগেই আবেদন করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও কেন একেবারে শেষ মুহূর্তে অনুমতি দেওয়া হল না, সেই প্রশ্ন তুলেছে তারা। প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র অশোক ভট্টাচার্য অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে বিরোধীদের প্রচারে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তাঁর আরও দাবি, সভায় অর্পিতার সঙ্গে দলের এক নেতা উপস্থিত থাকার কথা ছিল।
কংগ্রেসের নন্দীগ্রাম কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক রণজিৎ মুখোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে চিঠি দিয়েছেন। সেখানে সভার অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কেন অনুমতি দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে নির্দিষ্ট কোনও কারণ জানানো হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বেড়েছে।
এই ঘটনায় কংগ্রেসের পাশে দাঁড়িয়েছে সিপিএমও। দলের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য পরিতোষ পট্টনায়কের অভিযোগ, বিরোধীদের কর্মসূচির ক্ষেত্রে নানা ভাবে বাধা তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, তাঁদের দলের একাধিক আবেদনও হয় গ্রহণ করা হয়নি, নয়তো এখনও ঝুলে রয়েছে। তবে এই অভিযোগের পাল্টা কোনও নির্দিষ্ট বক্তব্য দেয়নি বিজেপি। তমলুক সাংগঠনিক জেলার বিজেপি নেতা মেঘনাদ পাল জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন একটি স্বশাসিত সংস্থা এবং তার সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক মন্তব্য করা দলের পক্ষে সমীচীন নয়।
এরই মধ্যে মিলন প্রধানকে ঘিরে আইনি লড়াইটিও নতুন মোড় নিয়েছে। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়কার মামলায় গ্রেফতার হয়ে তিনি জেলবন্দি। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টের একক বেঞ্চ একটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে কড়া পদক্ষেপে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। পরে সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায় রাজ্য। পাশাপাশি জামিনের মামলাতেও আদালতে শুনানি চলছে।
অন্য দিকে, মিলনের স্ত্রী অর্পিতা ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, প্রার্থী জেলে থাকলেও প্রচার থামবে না। কংগ্রেস নেতৃত্বও জানিয়েছে, দলীয় প্রতীক সামনে রেখেই কর্মীরা মানুষের কাছে যাবেন। ফলে ভোটের আগে নন্দীগ্রামে প্রচারের অধিকার, সভার অনুমতি এবং প্রার্থীর জেলবন্দি থাকার বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। তার আগে অর্পিতার সভার অনুমতি ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক কত দূর গড়ায়, এখন নজর সেদিকেই।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


