জয় বাংলা বলতেই...! ভিন রাজ্যে বাংলাদেশি সন্দেহে গ্রেফতার নন্দীগ্রামের দম্পতি, ত্রাতার ভূমিকায় অভিষেক
নন্দীগ্রামের ৭ নম্বর জালপাই গ্রামের বাসিন্দা শেখ মহিদুল এবং তাঁর স্ত্রী সর্বানু বিবি বেঙ্গালুরুতে কাজের জন্য গিয়েছিলেন।
আবারও ভিন রাজ্যে আক্রমণের শিকার বাঙালি। পেটের টানে বেঙ্গালুরুতে কাজে গিয়েছিলেন। আর সেখানেই বাংলাদেশি সন্দেহে গ্রেফতার হতে হল নন্দীগ্রামের এক দম্পতিকে। যদিও সর্বভারতীয় তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহযোগিতায় অবশেষে জামিনে মুক্ত হলেন তাঁরা। যা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কেন দম্পতিকে গ্রেফতার করা হল, তা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন তুলেছে পরিবার। শুধু তাই নয়, ঘটনায় বিচারের দাবি জানিয়েছে পরিবার।

জানা গিয়েছে, নন্দীগ্রামের ৭ নম্বর জালপাই গ্রামের বাসিন্দা শেখ মহিদুল এবং তাঁর স্ত্রী সর্বানু বিবি বেঙ্গালুরুতে কাজের জন্য গিয়েছিলেন। সেখানে দু'জনে একটি হোটেলে পরিচারিকার কাজে নিযুক্ত ছিলেন। কিন্তু বাংলায় কথা বলার কারনে বাংলাদেশি সন্দেহে গত ১২ জানুয়ারি তাঁদেরকে গ্রেফতার করে স্থানীয় পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, ওই দম্পতিকে জোর করে জয় শ্রীরাম বলানোর চেষ্টা করা হয়। জয় শ্রীরাম না বলে জয় বাংলা বলেছিলেন তাঁরা। তাই দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়। এমনকী সমস্ত নথি দেখানোর পরেও গ্রেফতার করা হয় বলেও দাবি। এরপর কয়েকটা মাস সে রাজ্যের জেলের অন্ধকারেই কাটে ওই দম্পতির। এরমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীকেও চিঠি দেয় তাঁদের পরিবার।
অন্যদিকে, বিষয়টি সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজরে আসার পরে তিনি দম্পতিকে জেল থেকে ছাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। শেষমেশ বুধবার দম্পতির জেল মুক্তি ঘটে। আর এরপরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তাঁরা। জানা যাচ্ছে, খুব শীঘ্রই নন্দীগ্রামে ফিরবেন ওই দম্পতি। নন্দীগ্রামের তৃণমূল নেতৃত্বের কথায়, বিজেপি দেশে সাম্প্রদায়িক বাতাবরণের তৈরির চেষ্টা করছে। বাংলায় কথা বলায় পুলিশ নন্দীগ্রামের দম্পতিকে গ্রেফতার করে। এই প্রসঙ্গে নন্দীগ্রাম এক নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস কোর কমিটির সদস্য শেখ আল রাজী বলেন, 'বিজেপি ভারতবর্ষজুড়ে সাম্প্রদায়িক বাতাবরণের চেষ্টা করছে। তাই নন্দীগ্রামের দম্পতি বাংলায় কথা বলায় পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। অবশেষে জননেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে দম্পতির জেল মুক্তি ঘটেছে।' আর এ জন্য নন্দীগ্রামবাসীর পক্ষ থেকে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদও জানিয়েছেন ওই তৃণমূল নেতা।
E-Paper

