Modi on Annapurna Yojna: ‘বাংলায় আর কাটমানি লাগে না’, অন্নপূর্ণা দিবসে মহিলাদের বার্তা মোদীর
মোদী বলেন, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার মহিলাদের আর্থিক ভাবে কিছুটা নিশ্চয়তা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর কাজ করছে। মহিলাদের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে সরাসরি আর্থিক সহায়তার গুরুত্ব এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রসঙ্গ।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন, ১৭ সেপ্টেম্বর, বাংলায় পালিত হচ্ছে ‘অন্নপূর্ণা দিবস’। এই উপলক্ষে সল্টলেকে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে মহিলাদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেছেন, মানুষের জরুরি খরচ নিয়ে চিন্তা কমলে তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে। তাঁর কথায়, সরকারের মূল মন্ত্র হওয়া উচিত, “কথা কম, কাজ বেশি।”

মোদী আরও বলেন, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার মহিলাদের আর্থিক ভাবে কিছুটা নিশ্চয়তা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর কাজ করছে। মহিলাদের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে সরাসরি আর্থিক সহায়তার গুরুত্ব এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রসঙ্গ।
অন্নপূর্ণা দিবস পালনের জন্য ১৭ সেপ্টেম্বর দিনটিকেই বেছে নেওয়া হয়েছে, কারণ এদিনই প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন। রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসের অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকার সহায়তা যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পাঠানো হচ্ছে। চলতি মাসে প্রায় ১ কোটি ৫৮ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে এই অর্থ পাঠানোর কথা জানানো হয়েছে।
এই প্রকল্পটি রাজ্যে মহিলা উপভোক্তাদের জন্য অন্যতম বড় আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি হিসেবে সামনে আনা হয়েছে। ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি নির্দিষ্ট যোগ্যতার মহিলারা এর আওতায় রয়েছেন। সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর ফলে মধ্যস্বত্বভোগীর ভূমিকা কমানোর উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এদিন ফের উঠে আসে ‘কাটমানি’ প্রসঙ্গ। বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বাংলার দুর্নীতি, সিন্ডিকেট এবং কাটমানি নিয়ে একাধিক বার আক্রমণ করেছিল বিজেপি। সেই রাজনৈতিক বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় মোদী এদিন বলেন, “বাংলায় আর কাটমানি লাগে না।” অর্থাৎ তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারি প্রকল্পের অর্থ এখন সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছচ্ছে এবং আগের মতো কোনও অনিয়ম বা মধ্যস্বত্বভোগীর প্রয়োজন নেই।
মোদীর এই মন্তব্য অবশ্য রাজনৈতিক বার্তারও অংশ। কারণ সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি টাকা পৌঁছে দেওয়াকে সামনে রেখে নতুন রাজ্য সরকার নিজেদের প্রশাসনিক পদ্ধতির পরিবর্তনের কথা তুলে ধরছে। ‘কাটমানি’ শব্দটি বাংলার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতি ও কমিশনের অভিযোগ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। ফলে প্রধানমন্ত্রী এদিনের বক্তব্যের মাধ্যমে পূর্বতন ব্যবস্থার সঙ্গে বর্তমান ব্যবস্থার পার্থক্য তুলে ধরতে চেয়েছেন।
এর আগে ২২ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন যে ১৭ সেপ্টেম্বর রাজ্যজুড়ে ‘অন্নপূর্ণা দিবস’ পালন করা হবে। সেই দিন অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তাদের নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তিনি জানিয়েছিলেন।
সেপ্টেম্বর মাসের টাকা ১৭ সেপ্টেম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল। সরকারি ব্যবস্থায় সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানোর পাশাপাশি সল্টলেকে বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, মোদীর জন্মদিনে ‘অন্নপূর্ণা দিবস’কে কেন্দ্র করে রাজ্যে এক দিকে মহিলাদের সরাসরি আর্থিক সহায়তার কর্মসূচি হয়েছে, অন্য দিকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে কাজ, আত্মনির্ভরতা এবং স্বচ্ছতার বার্তা। একই সঙ্গে ‘বাংলায় আর কাটমানি লাগে না’ মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি নির্দিষ্ট ব্যাখ্যাও তুলে ধরেছেন। তাঁর এই বক্তব্য আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক বিতর্কে ফের আলোচনার কেন্দ্রে আসতে পারে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


