Baruipur Case: বারুইপুরকাণ্ডে যুক্ত হল গণধর্ষণের ধারা! ধৃত বেড়ে ৩, দুই অভিযুক্তকে হেফাজতে পেল পুলিশ

Baruipur Case: তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা কিশোরীর দেহ উদ্ধারের প্রায় ২৪ ঘন্টা পরে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার আদালতে খুনের ধারার পাশাপাশি গণধর্ষণের ৭০ (২) নম্বর ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এই জঘন্যতম অপরাধের নেপথ্যে থাকা সমস্ত তথ্য ও প্রমাণ সাজাতে পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া আরও কঠোর করছে।

Published on: Jul 6, 2026, 17:21:23 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Baruipur Case: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের নাবালিকাকে কেবল খুনই নয়, পাশবিকভাবে গণধর্ষণও করা হয়েছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথম থেকেই যে আশঙ্কা ও দাবি করা হচ্ছিল, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে তা-ই সত্যি প্রমাণিত হল। সোমবার আদালতের নির্দেশে এই মামলায় খুনের পাশাপাশি গণধর্ষণের ধারাও যুক্ত করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় মোট তিন জনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।

বারুইপুরকাণ্ডে যুক্ত হল গণধর্ষণের ধারা!
বারুইপুরকাণ্ডে যুক্ত হল গণধর্ষণের ধারা!

তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা কিশোরীর দেহ উদ্ধারের প্রায় ২৪ ঘন্টা পরে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার আদালতে খুনের ধারার পাশাপাশি গণধর্ষণের ৭০ (২) নম্বর ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এই জঘন্যতম অপরাধের নেপথ্যে থাকা সমস্ত তথ্য ও প্রমাণ সাজাতে পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া আরও কঠোর করছে। বারুইপুরে ঘটনায় প্রথমে প্রভাস মণ্ডল ও দিবাকর সর্দারকে গ্রেফতার পুলিশ। এদিন তাঁদের দু'জনকেই বারুইপুর আদালতে পেশ করা হয়। আদালতে সরকারি আইনজীবী জানান, এটি একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলা। তদন্তের স্বার্থে এখনও গুরুত্বপূর্ণ নমুনা সংগ্রহ এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা বাকি রয়েছে। পাশাপাশি, তথ্য-প্রমাণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই দুই অভিযুক্তকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়, যা মঞ্জুর হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে নাবালিকাকে অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। সেই মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেফতার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই নাবালিকার দেহ পুকুর থেকে উদ্ধার হয়। এরপর তদন্তের অগ্রগতিতে দিবাকর সর্দারকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার আরও এক অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত এই তৃতীয় ব্যক্তিকে মঙ্গলবার আদালতে পেশ করা হবে। অন্যদিকে, এই মামলায় নতুন করে পকসো আইন যুক্ত হওয়ায় এর শুনানির এক্তিয়ার নিয়ে আদালতের অন্দরেই আইনি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নির্যাতিতা নাবালিকা হওয়ায় এই মামলায় ইতিমধ্যেই পকসো ধারা যুক্ত করেছে পুলিশ। আর এই ধারা যুক্ত হওয়ার পরেই সোমবার বারুইপুর আদালতে নতুন আইনি জটিলতা তৈরি হয়। ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন, পকসো আইনের ধারা যুক্ত হওয়ার পর এই মামলাটির শুনানি কী আর অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট-এর আদালতে হওয়া সম্ভব? নাকি এটি বিশেষ পকসো আদালতে স্থানান্তরিত করা হবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার শুনানির সময় ধৃত প্রভাস মণ্ডল কিংবা দিবাকর সর্দারের পক্ষে সওয়াল করার জন্য কোনও আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। বারুইপুরের ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-র ধর্ষণ (৬৫), গণধর্ষণ (২), খুন ১০৩(১), তথ্য প্রমাণ লোপাট (২৩৮), অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (৬১) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারাতেও মামলা হয়েছে। এদিকে, বারুইপুরের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ইতিমধ্যে কথা হয়েছে মৃত নাবালিকার বাবার। প্রত্যেক দোষীকে শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ‘জঘন্যতম’ যে অপরাধ হয়েছে, তাতে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, ‘বাবা যা যা চেয়েছেন, সব করবে মুখ্যমন্ত্রী। আমি খুশি, ওঁরা আস্থা রেখেছেন।’ রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘কাকে মেরেছে, কী ধরনের মানুষকে মেরেছে, কোন জাতের মানুষকে মেরেছে, সেগুলি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। যে কোনও মহিলার উপরে যদি অত্যাচার করা হয়, তা হলে দোষীকে ছাড়া হবে না। এটা আগের যে কোনও সরকার নয়।’